নিরাপত্তা ইস্যু ছাপিয়ে সামনে শুধুই ক্রিকেট

বাংলাদেশ- ইংল্যান্ড উচ্চারণ করলে রুবেল হোসেন চোখে ভাসেন, মুশফিক- মাহমুদুল্লাহ জুটি চোখে ভাসে, জিমি এন্ডারসনের স্ট্যাম্প উড়া চোখে ভাসে। সে ম্যাচের পরে দুটো দলই বেশিরভাগ সময় তাকিয়েছে শুধু উপরের দিকে। সিরিজ জিতেছে, নিজেদের আগের ভালো খেলার চাইতে আরো বেশি ভালো ম্যাচ উপহার দিয়েছে। তাই একটি নক আউট ম্যাচ নিয়ে পড়ে থাকার সময় ইংল্যান্ড বা বাংলাদেশ কারোর হাতেই নেই।

তিনশোর চাইতে বেশি টার্গেট। ম্যাচটা ইংল্যান্ড জিতেছে ৪ উইকেট আর ৪ ওভারের মত রেখে। এই ৩০০ পেরোনো ইনিংসেও ব্যক্তিগত রান কারোই ১০০ ছোঁয়নি। জস বাটলারের আশি রানই দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যে স্টাইলটায় ইংল্যান্ড গত এক বছরে নিত্যদিন নিজেদের লিমিটেড ওভার ক্রিকেটের ধরনটা বদলে দিয়েছে, সে স্টাইলটা ওরা ছাড়ে নি বাংলাদেশে এসে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটাতেও। দলের মধ্যে একজন দুই-জন সেট হয়ে বড় ইনিংস দেবার চাইতে ৪-৫টা ক্যামিওর সাথে একটা ভালো ইনিংস। তাতে পেরোনো যায় যেকোনো টার্গেট।

যে দলটাকে বছরের পর বছর একটু ওল্ড স্কুল টাইপের ক্রিকেট খেলা খেলতে দেখেছি , তাদেরকে হঠাৎ একটু বদলে যেতে দেখে অবাক হয়েছি কম, তবে মুগ্ধ হয়েছি বেশি । আমি নিশ্চিত ওপেনিংয়ে এযুগের এলেক্স হেলস বা জেসন রয়কে দেখলে সে যুগের ট্রেসক্রোথিকরা একটু অবাক না হয়ে পারেনই না । এক সময়ে কম খেলালেও ৩ জন জেনুইন পেসার খেলিয়ে দেওয়া দলটা আজ অনেকটা ছক বদলানোর তালেই বেশিরভাগ অলরাউন্ডার খেলাচ্ছে । তাতে বাজিমাত হচ্ছে রোজ । মঈন আলীর মত সারাটা ক্য়ারিয়ার ওপেন করে আসা কেউ নিজেকে বদলে বানিয়ে ফেলেছেন ৬/৭ এ খেলা লোয়ার মিডল অর্ডার আর ওয়ানডে দলের মূল স্পিনার। বেয়ারস্টো আর বাটলারেরা ক্লাস আর মারকাটারি খেলার পারফেক্ট ব্লেন্ড ।

আর আফগানিস্তানের সিরিজটা যেনো দেখিয়ে দিয়ে গেলো যেখানে বাটলার আর বেয়ার্স্টোদের দলটা উড়ছে , সেখানেই যেনো একটু আস্তে আস্তে চলছে এই বাংলাদেশ । টপ অর্ডার থেকে রান আসছে,তামিম হান্ড্রেড মেরে ভালো বেইজ দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে কী? মিডল অর্ডার আফগানিস্তানের বোলিং এর সাথেই ফায়ার ওয়ার্ক দেখাতে পারে নি । যে খেলাটায় বাংলাদেশ হেরে গেলো, সে খেলাটায় মাশরাফি দলের মূল ২ পেসার তাসকিন আর রুবেলকে দিয়ে ৪২ ওভারতক করাতে পারলেন সবমিলিয়ে ৭ ওভার । এই বাংলাদেশ পুরোনো বলে মুস্তাফিজকে মিস করছে খুব করে, নতুন বলে তাসকিন ওভারপ্রতি রুটিন করে ৭ এর উপরে রান দিচ্ছে । মিডল অর্ডারের ফর্ম আর পেসের কোয়েশ্চেন মার্ক, এই দুটোর যুতসই বটীকা না পেলে সামনের সিরিজ হতে পারে কঠিনের চেয়েও বেশি কঠিন ।
কয়েক ঘন্টার দেরি; হাইভোল্টের ক্রিকেট ফিরছে । টিকিটের আকাশচুম্বী চাহিদা সেই উত্তাপের একটা ছোট ডিসপ্লে কেবল। বাকিটা তোলা রয়েছে আগামীকালের ১০০ ওভারে ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two + seven =