কাপ্তান নেইমারঃ অন্যচোখে

ব্রাজিল ফ্যানবেইজে এখনকার সময়ের সবচেয়ে বহুল আলোচিত হটকেক হলো নেইমারের ক্যাপ্টেন্সি। তিতে কোচ হয়ে আসার পরে থিয়াগো সিলভা আবার দলে ফিরছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে । আর সেই সাথে সামনের ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্রেন্ডলিগুলোতে ব্রাজিলের আর্মব্যান্ড কার বাহুতে শোভা পাবে সেটা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। তবে এই মুহূর্তে একটা সংবাদ নিশ্চিত হয়ে গেছে, অলিম্পিকে ব্রাজিল দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেইমার ।

নেইমারের কাপ্তানির ভালো খারাপ বিবেচনা করার আগে একটু পিছে যেয়ে আমাদের দেখে নিতে হবে ওর হাতে আসলে আর্মব্যান্ডটা উঠলো কোন সিচুয়েশনে । থিয়াগো সিলভাকে আস্তে আস্তে নিজের প্ল্যান থেকে মুছে দেবার আগে দুঙ্গার দরকার ছিলো এমন কাউকে যাকে নিয়ে আসলে বিতর্কের সম্ভাবনাটা কম আর যে সতীর্থদের মধ্যেও দারুন জনপ্রিয় । আর সাথে সাথে এমন কাউকে দলে যার জায়গাটা নিশ্চিত । দুঙ্গা আসলে একটা দল দাঁড় না করাতে পারায় ঠিকভাবে জানতেন না এই ডিফেন্সে আসলেই কেউ থিয়াগো সিলভার মত এংকর হবার মত আছেন কিনা । চীনের লিগের দুঙ্গার প্রিয়পাত্রগুলোকে দলে নেবার সাথে সাথে ক্যাপ্টেন বানিয়ে দিলে মিডিয়ার হারেরেরে পড়ে যেত । দুঙ্গা এই টার্মে একটু হলেও মিডিয়াকে ভয় পেয়ে পেয়ে চলেছেন । সব মিলিয়ে আসলে সব জায়গা থেকে একটু একটু কম্প্রোমাইজ করতে করতে দুঙ্গা নেইমার ছাড়া অপশন পান নি । নিজেকে বাঁচাতে একজন রাইজিং সুপারস্টারের হাতে দিয়ে দিলেন ক্যাপ্টেন্সি ।

এবার প্লেয়ার হিসেবে নেইমারের টেম্পারমেন্ট আর আচরণ কতোটা ক্যাপ্টেনসুলভ সেটা একটু দেখি । ভালো দিকগুলোর কথা প্রথমে বলি । নেইমার মিডিয়া ফেস করেন খুব দারুন । অন্যান্য রাইজিং স্টারদের মত উলটাপালটা কথা বলার অভ্যেস কম । বার্সায় তার ইন্ট্রোর দিনে তার একটা দারুন সেইভের কথা মনে করিয়ে দেইঃ
– আপনি কি এখানে দুনিয়ার সেরা প্লেয়ার হতে এসেছেন?
– দুনিয়ার সেরা প্লেয়ার এখানেই আছেন । আমি তাকে সাহায্য করতে চাই স্রেফ !
এমন সেইভ প্রেসের কাছে ক্লাবে নতুন এসে খুব কম লোকই করেছেন । তিনি জানতেন, বার্সায় দ্রুত সেটেল হবার জন্যে আর এই ক্যাম্প ন্যুতে জনপ্রিয় হবার জন্যে তার সবার আগে দরকার এখানকার মিডিয়াকে আগে বন্ধু বানিয়ে নেওয়া । এবং এই প্রথম দিনেই নেইমার বেশ ভালো ম্যাচুরিটির পরিচয় দিলেন ।

তবে নেইমারের অন দ্যা ফিল্ড বিহ্যাভিয়রই তাকে মূলত নেতিবাচকভাবে আলোচনায় রেখেছে । এই অল্প দিনের ক্যারিয়ারে ৭০টার মত হলুদ কার্ড আপনাকে জানাবে নেইমার অন দ্যা গেইম একজন চার্জিং প্লেয়ার । কিন্তু সেই নেইমারকে ভুলে গেলে চলবে না যিনি ম্যাচ হারার পরে টেম্পারমেন্ট হারিয়ে প্রতিপক্ষের গায়ে বল মেরে দরকারি ম্যাচে ব্যান খান । কলম্বিয়ার সাথে কোপা আমেরিকায় হারের কষ্টের সাথে ব্রাজিলকে ভোগ করতে হয়েছে দলের সেরা পারফর্মারের ব্যান খাওয়ার ধকলটাও । যার কারণে তাকে মিস করতে হয়েছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দরকারি ম্যাচও । সবকথার পরের কথা হলো ক্যাপ্টেন্সির চাপে পড়ে উল্টাপালটা কাজ করায় ক্যাপ্টেনের সাথে আমাকে দলের সেরা পারফর্মারকেও হারাতে হলে সেটার চেয়ে বড় বিপদ সে দলের জন্যে আসতে পারে না ।

তিতে আসার পরে খুব করে চাইবো, খুব ভালো বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে নেইমারের কাঁধ থেকে সরিয়ে দেয়া হোক চাপ । উড়তে দেওয়া হোক নেইমারের মত । শুধু নিজের খেলাটা নিয়ে চিন্তা করার বয়সটাই তো এখন ! দলের ভালোমন্দের চিন্তায় ন্যুজ হবার ঝুঁকিতে না পড়ুক নেইমার ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 3 =