এসি মিলানের মিডফিল্ডে আইভোরিয়ান পাওয়ারহাউজ : ফ্র্যাঙ্ক কেসি

মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকেই নিজেদেরকে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে ইতালির কিংবদন্তী ক্লাব এসি মিলানডিফেন্সে ভিয়ারিয়াল থেকে মাতেও মুসাচ্চিও ও ভলফসবুর্গ থেকে রিকার্ডো রড্রিগেজকে আনার পর এবার তাদের লক্ষ্য মিডফিল্ড শক্তিশালী করা, এবং সেই লক্ষ্যেই ২৮ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আইভোরিয়ান সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্ক কেসি কে আরেক ইতালিয়ান ক্লাব আটালান্টা থেকে নিয়ে আসছে তারা।

সদ্য বিশে পড়তে যাওয়া এই আইভোরিয়ান মিডফিল্ডারের পজিশন হল সেন্ট্রাল মিডফিল্ড কিংবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে। আইডল মানেন আইভোরিয়ান সুপারস্টার মিডফিল্ডার ইয়ায়া ট্যুরে কে। খেলতে পারেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সেও। দেশের হয়ে এই পর্যন্ত ১৫টি ম্যাচ খেলা কেসির জন্য গত মৌসুমে আগ্রহী ছিল স্যান্ডারল্যান্ড, শালকে ০৪, সাউদাম্পটন ও মোনাকোর মত ক্লাবগুলো। স্যান্ডারল্যান্ডে প্রায় চলেই গিয়েছিলেন, কিন্তু “ওয়ার্ক পারমিট” ইস্যুর সুরাহা না হবার কারণে ইংলিশ লিগে খেলা হয়নি তাঁর। ১৭ বছর বয়সে আটালান্টাতে যোগ দেওয়া কেসিকে কিছুদিন পরেও সেসেনাতে ধারে পাঠানো হয়। আদর্শগতভাবে একজন বল প্লেয়িং ডিফেন্ডার হবার কারণে তাঁর পাসিং সামর্থ্য ও বল রোটেশান করার ক্ষমতা অনেক বেশী ছিল। কিন্তু সেসেনার কোচ মনে করলেন কেসি কে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে না রেখে সেন্ট্রাল ডিফেন্সের একটু উপরে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলালে তাঁর পাসিং ও পজেশান-ক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা যাবে। ভুল ভাবেননি তিনি। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে ৩৭ ম্যাচে ৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন আস্তে আস্তে যে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডই তাঁর আসল পজিশান।

আটালান্টায় কোচ জিয়ানপিয়েরে গ্যাসপেরিনির ৩-৪-৩ ফর্মেশানে ফ্র্যাঙ্ক কেসি এর ভূমিকাটা আবার শুধুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে সীমাবদ্ধ নয়, সেখানে তিনি খেলেন একেবারে একজন অলরাউন্ডার বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার হিসেবে। টেকনিক্যাল দক্ষতার সাথে শারীরিক সামর্থ্যের মিশেলে এই ভূমিকাতেও তিনি সফল, তাঁর ৭৮ কেজি ওজন ও ১৮৬ সেন্টিমিটারের শক্তিশালী এক আকারের কারণে তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নেওয়াও অনেক কঠিন। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে বল পজেশনিং এর ক্ষমতা তাঁর দুর্দান্ত, ডিফেন্স থেকে বল বের করে এনে নতুন আক্রমণের সূচনাও করতে পারেন ভালোই। আবার বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার হিসেবে ডি-বক্সে তাঁর চতুর পজিশনিং এর কারণে এই মৌসুমে তিনি গোল করার সুযোগও পেয়েছেন অনেক। প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ১.৮ টা করে সফল ড্রিবল করেছেন এবার, নিজের জন্য জায়গা ক্রিয়েট করে গোলমুখে শট নেবার প্রবণতাটা প্রমাণ করে তাঁর খেলার স্টাইল কতটা “ডিরেক্ট”।  সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে এবার যারা যারা খেলেছেন মূলত, সেই জুরাজ কুচকা, মারিও পাসালিচ, হোসে সোসা কিংবা বুড়িয়ে যাওয়া রিকার্ডো মন্টোলিভো আর কেইসুকে হন্ডা – সবার থেকে ফ্র্যাঙ্ক কেসি এখন পারফরম্যান্সের দিক থেকে যোজন যোজন এগিয়ে, এবং মিলানে আসা মাত্রই মূল একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাবেন একটা, সেটা বলেই দেওয়া যায়।

আটালান্টায় তাঁর ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড অতটা ভালো না, প্রতি ৯০ মিনিটে ২.৩টা করে ফাউল করতে যাওয়ার রেকর্ডটা বলে তিনি প্রায়ই অযাচিত ট্যাকল করতে যান। তবে বয়স কম হবার কারণে ভিনসেঞ্জো মন্টেলার মত কোচের অধীনে আসলে অনেক কিছুই শিখবেন তিনি, এটা বলাই যায়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 2 =