জুভেন্টাস বনাম মোনাকো : কি হয়েছিল আগের সেমিফাইনালে?

আজকে রাতে মোনাকোর স্টাডে লুইস মাঠে জুভেন্টাসের সাথে যখন চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফরাসী ক্লাব মোনাকো, ফুটবলানুরাগীদের মনে কি নস্টালজিয়ার আবির্ভাব ঘটবে? মূলত জুভেন্টাস ও মোনাকো ভক্তদের মনে? ঘটাটাই স্বাভাবিক। ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের এরকমই এক সেমিফাইনালে এভাবেই মোনাকোর মুখোমুখি হয়েছিল জুভেন্টাস। দুই লেগ মিলিয়ে মোনাকোকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছিল জুভেন্টাস। যদিও ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারতে হয়েছিল, কিন্তু সেমিফাইনালের ঐ দুই লেগ এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্যতম দুটি আনন্দদায়ী ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে।

সেবারও মোনাকো ছিল এবারের এই দলটার মতই তরুণ ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর, প্রতিভাধর খেলোয়াড়ে ভরা দলটা পুরো টুর্নামেন্টে একের পর এক চমক দেখাচ্ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে। আর জুভেন্টাস ছিল যথারীতি, তুলনামূলকভাবে সুপারস্টারে ঠাসা। মার্সেলো লিপ্পির অধীনে জুভেন্টাস ঐ দুই-তিন বছর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠাটাকে যেন রুটিন বানিয়ে ফেলেছিল।

প্রথম লেগ খেলার জন্য এপ্রিলের এক তারিখে তুরিনে যখন মোনাকো আসলো, সকালে পত্রপত্রিকায় খবর বেরুলো স্টার স্ট্রাইকার অ্যালেসান্দ্রো দেল পিয়েরো ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন ম্যাচ থেকে। একটু হলেও স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললো মোনাকো শিবির। কিন্তু মূল একাদশে দেল পিয়েরো থেকে নিশ্চিত করলেন ঐ খবরটা এপ্রিল ফুল ছাড়া আর কিছুই ছিল না!

প্রথম লেগে জুভেন্টাস একাদশে ছিলেন…

  • গোলরক্ষক – অ্যাঞ্জেলো পেরুজ্জি
  • ডিফেন্ডার – মরেনো টরিসেলি, মার্ক ইলুয়ানো, পাওলো মন্টেরো
  • মিডফিল্ডার – দিদিয়ের দেশম, এডগার ডাভিডস, জিনেদিন জিদান, জিয়ানলুকা পেসোত্তো, অ্যাঞ্জেলো ডি লিভিও
  • স্ট্রাইকার – ফিলিপ্পো ইনজাঘি, অ্যালেসান্দ্রো দেল পিয়েরো

পেরুজ্জি

টরিসেলি-ইলুয়ানো-মন্টেরো

ডি লিভিও-দেশম-ডাভিডস-পেসোত্তো

জিদান

ইনজাঘি-দেল পিয়েরো

৩-৪-১-২ ফর্মেশানে খেলা জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে মোনাকোর সৈন্যদের মধ্যে ছিলেন

  • গোলরক্ষক – ফাবিয়ান বার্থেজ
  • ডিফেন্ডার – উইলি স্যানিওল, লিলিয়ান মার্টিন, ক্রিস্টোফ পিনিওল, মার্টিন জেতু, জিব্রিল দিয়াওয়ারা
  • মিডফিল্ডার – আলি বেনারবিয়া, মুহামেদ কোনজিচ, ফিলিপ্পে ক্রিস্টানভাল
  • স্ট্রাইকার – ডেভিড ত্রেজেগে, ভিক্টর ইকপেবা
হ্যাটট্রিকের পর দেল পিয়েরো

যে দেল পিয়েরোর খেলারই কথা ছিল না, তিনিই কিনা করে বসলেন হ্যাটট্রিক, সাথে জিনেদিন জিদানের এক গোল আর মোনাকোর হয়ে সাবস্টিটিউট মিডফিল্ডার কস্টিনহার এক গোল মিলিয়ে ৪-১ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়ে ইতালির চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয় লেগেও মোনাকো ছেড়ে কথা কয়নি। থিয়েরি অঁরি, ফিলিপ্পে লিওনার্ড ও রবার্ট স্পেহারের গোলে ৩-২ গোলে ম্যাচ জেতে তারা, কিন্তু জুভেন্টাসের হয়ে নিকোলা আমোরুসো ও অ্যালেসান্দ্রো দেল পিয়েরো একটি করে গোল করেন, মানে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলে জিতে ফাইনালে উঠে যায় জুভেন্টাস।

বিশ বছর আগের ইতিহাস কি জুভেন্টাস আবারো পুনরাবৃত্তি করতে পারবে? না চমক জাগানিয়া মোনাকো আরেকটা চমক জাগিয়ে উঠে যাবে ফাইনালে? দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + 17 =