আসছেন এডারসন – ম্যানসিটির গোলপোস্ট থেকে ব্রাভোর বিদায়?

গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার হবার পর সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছিলেন পেপ গার্দিওলা, সেটা হল এমন এক গোলরক্ষককে আনা, যেটা কিনা পেপ গার্দিওলার “বল প্লেয়িং” ফিলোসফির সাথে যায়। এ উদ্দেশ্যেই সিটির বহুদিনের সেনানী ইংলিশ গোলরক্ষক জ্যো হার্টকে সরিয়ে ক্লাবে এনেছিলে বার্সেলোনার চিলিয়ান গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে। ওদিকে জ্যো হার্ট সিটি থেকে ধারে চলে গিয়েছিলেন ইতালিয়ান ক্লাব তোরিনোতে।

দুর্ভাগ্যবশত, ক্লদিও ব্রাভোর পারফরম্যান্স গোটা মৌসুম জুড়ে গার্দিওলার প্রত্যাশার ধারকাছ দিয়েও যায়নি। হাস্যকর সব ভুল করেছেন, সহজ সহজ সেইভগুলো মিস করে গোল খেয়েছেন, ইংলিশ লিগের সাথে মানিয়ে নিতে প্রচণ্ড কষ্ট করতে হয়েছে তাঁকে। সবমিলিয়ে হয়ত আরেক মৌসুম সুযোগ পেতেই পারতেন ব্রাভো, কিন্তু মনে হচ্ছেনা গার্দিওলা তাঁকে সেই সুযোগটা আর দিচ্ছেন। ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা থেকে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক এডারসনকে দলে আনছেন তিনি।

সিটিতে শেষ হচ্ছে ব্রাভোর দিন

এই চুক্তিটা হলে এডারসন হবেন বিশ্বের সবচেয়ে দ্বিতীয় দামী গোলরক্ষক। ৫৩ মিলিয়ন ইউরোতে ১৭ বছর আগে পারমা থেকে জুভেন্টাসে পাড়ি জমানো ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন এখনো তাই সবচেয়ে বেশী দামী গোলরক্ষক।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ২৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ২০১৫ সাল থেকে খেলছেন বেনফিকায়। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ১৭টি ম্যাচে গোল না খাওয়া ও পুরো মৌসুমে মোট ১২টি গোল খাওয়া এডারসন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী গোলরক্ষক হুলিও সিজারকে আর বেনফিকার হয়ে মাঠেই নামতে দেননি, হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, হুলিও সেজারের ইনজুরির কারণেই বেনফিকার মূল দলে সুযোগ পেয়েছিলেন এডারসন। এডারসন দলের মূল গোলরক্ষক হবার পরেই টানা দশ ম্যাচ অপরাজিত থাকে বেনফিকা, যে দশ ম্যাচের ছয়টিরই ফলাফল ছিল ১-০, অর্থাৎ এটা সহজেই বলা যায়, গোলপোস্টের নিচে এডারসনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স না দেখালে বেনফিকা হয়তোবা পর্তুগিজ লিগটা স্পোর্টিং লিসবনের কাছে হারাত, কারণ স্পোর্টিং লিসবনের থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট বেশী পেয়েই এবার লিগ জিতেছে বেনফিকা!

বল পায়ে দুর্দান্ত ছয়ফুটি এই গোলরক্ষক বিশাল বিশাল গোল কিক মারতেও অভ্যস্ত, এমনকি তাঁর বেশ কিছু গোল কিক গিয়ে প্রতিপক্ষ এলাকায় বেনফিকার আক্রমণ রচনা করা শুরু করে। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর এই লম্বা গোল কিক ধরেই গোল করেছিলেন মেক্সিকান স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ! তবে সতীর্থদের থেকে আসা ব্যাকপাসগুলো ঠিকঠাকভাবে সামলানোর ক্ষেত্রে এখনো দুর্বলতা আছে তাঁর। তবে লম্বা হবার কারণে বিপক্ষ দলের স্ট্রাইকারদের মাথায় বিপজ্জনক ক্রসগুলো আসার আগেই ধরে ফেলার প্রবণতা আছে তাঁর মধ্যে। প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্সচেরা পাসগুলো মাঝে মাঝেই ধরে ফেলতে পারা, ধেয়ে আসা বিপক্ষ দলের স্ট্রাইকারকে দেখে খেই হারিয়ে না ফেলা এডারসনকে তাই সঙ্গত কারণেই “ব্রাজিলিয়ান নয়্যার” বলা হয়, যে গুণটা কিনা গার্দিওলার হাই প্রেসিং সিস্টেমে অনেক দরকারী। গোলরক্ষক যদি ডি-বক্সের মধ্যে চতুর না হন, পাসিং এ যদি দক্ষ না হন কিংবা প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের কাছ থেকে বল কখন কোথায় যাবে সেটা যদি ঠিকভাবে আগে থেকে না বুঝতে পারেন, তবে ডিফেন্স আর গোলকিপাররে মধ্যে একটা ভালো দূরত্ব থেকে যায়, যে দূরত্বের সুযোগ যেকোন চালাক প্রতিপক্ষই নিতে পারে চমৎকার কোন একটা থ্রু বলের মাধ্যমে। কঠিন পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাও তাঁর একটা বড় গুণ, খুব ভালো করেই বোঝেন কখন কোন বল সেইভ করতে হবে, কোনটা পাঞ্চ করতে হবে আর কোন বল রিসিভ করতে হবে। এসব দিকগুলোতে এডারসন বেশ দক্ষ। এডারসনকে এর মধ্যেই “ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্বয়ং ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী গোলরক্ষক তাফারেল!

দেখা যাক, গার্দিওলার আদর্শ গোলরক্ষক কি এডারসন হতে পারেন কি না!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + one =