দেশের ফুটবল নিয়ে আবারও কিছু কথা

ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে আমি প্রতিবার লিখি। কিন্তু কখনো কাজ হয় না।এবারো লীগ শেষ। আমি লিখলাম। কাজ হবে না। আর এটা আমার নিজের মত। আমি কোন কিছুর আমুল পরিবর্তন চাই না। চাই যা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার। কিছু জিনিস বাফুফে শক্ত হলে এখনই সম্ভব।

১. ১২ টা দলের হোম ঢাকার বাইরে করে দেয়া। তিন লেগের খেলা হবে। হোম এওয়ে নিউট্রাল। ফলে লীগে সবাই ৩৩ টা করে খেলা পাবে। নিউট্রাল ভ্যানু হবে কমলাপুর টার্ফ। ঢাকার বাইরে ফুটবল মরে নাই। শুধু টিকেট আর জারসী বিক্রি করেই তারা ক্যাম্পের খরচ যোগাড় করে ফেলতে পারে। ফুটবল বাঁচাতে খেলাকে ঢাকার বাইরে নিতে হবেই। ঢাকা স্টেডিয়ামে শুধু ফাইনাল আর ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ গুলা হবে। ঢাকার বাইরে ১২ টা স্টেডিয়াম পাওয়া খুব কঠিন কিছু না। শুধু দরকার ইচ্ছা।

২. এক ম্যাচে বিদেশী দুইজন। একজন বাংলাদেশী অরিজিন হলে আর একজন এশিয়ান অরিজিন সহ ৫ জনকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। বাংলাদেশি অরিজিন হলে ৩ জন খেলানো যাবে।

৩. কোচদের এ এফ সি এ লাইসেন্স মাস্ট। সাথে সব দলের সার্টিফাইড ট্রেনার মাস্ট।

৪. একটা নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার। বছরের শুরুতে কোন দিন খেলা থাকবে আগে থেকে সবাই জানবে। ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ এফ এ ও কারলিং কাপের আদলে নিয়ে যেতে হবে।

৫.সুপার কাপ এত দল নিয়ে হবে না- লীগ, ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ আর আগের বছরের সুপার কাপ জয়ীরা থাকবে। সাথে এফ এ কাপে খেলা স্পোর্টিং বেংগেল থাকলে কম্পিটিশন বাড়ে। যোগ্যতা দিয়ে খেলবে। সবার জন্য গন টুর্নামেন্ট না।

৬. একাডেমীর ডেটলাইন দিয়ে দিতে হবে।

৭. জেলা লীগ চালু করে ডি এফ এ কাপ শুরু করতে হবে। এটা হবে তৃতীয় স্তর। ডি এফ এ তে সার্ভিসেস দল গুলা, বিশ্ববিদ্যালয় টিম সবাই খেলবে। এদের চ্যাম্পিয়ন আর রানার্স আপ সরাসরি বি লীগে খেলবে। সার্ভিসেস দলগুলাকে প্রফেশনাল স্টেজে নিয়ে আসা খুব দরকার। কারন তাদের মাঠ আছে আর আছে নিয়মিত খেলা। তাদের ফিটনেস লেভেল ও অনেক ভালো।

৮. বি লীগ ও হোম এওয়ে তে চালু করতে হবে।

৯. সব ক্লাবের থেকে ব্যাংক গ্যারান্টি নিতে হবে। যাতে কোন নিয়ম না মানলে বাফুফে জরিমানা করতে পারে। বেতন নিয়ে ঝামেলা হলেও বাফুফে ওখান থেকে দিতে পারে। আর খেলোয়াড় চুক্তি হতে হবে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য। না হলে লীগের মাঝখানে খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলে লীগ নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।

১০. পাতানো খেলা বন্ধ করার জন্য কমিটির লোকদের মাঠে থাকতে হবে আর নিয়মিত ভিডিও করতে হবে।

১১. ক্যালেন্ডার যদি ফিক্স থাকে। টিভি চ্যানেল আর রেডি ও নিয়ে আসা কঠিন কিছু না। আর খেলা বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার ফেললে মানুষ, আসবে- দেখবে।

এগুলা করা খুব কঠিন কিছু না। বাফুফে শক্ত হলে সম্ভব। ১২ টা মাঠ-নাম আমিই দিতে পারবো। পরিশেষে প্রফেশনাল লীগকে প্রফেশনাল দেখতে চাই।

সামান্য চেঞ্জ আমি বিশ্বাস করি আমাদের দেশের রেংকিং ৫ বছরের মধ্যে ১১০ এর কাছে নিয়ে আসতে পারবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 − 14 =