যে ম্যাচ চোখকে আশা জাগিয়ে গেলো

ব্রাজিলে যেই কয়েকজন কোচের সাথে মিডিয়ার ভালো সম্পর্ক আছে রজারিও মিকেল তাদের মধ্যে একজন। কারণটা অবশ্যই সমসাময়িক বাকিদের চেয়ে একটু আক্রমণাত্মক মনোভাব আর দর্শনদারি ফুটবলের পূজারি হওয়াটা। তো এই রজারিও মিকেল যখন গত বছরের অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপের মত অলিম্পিকে ব্রাজিল দলের চার্জটা নেন, সবাই একটু নড়েচড়ে বসেন। আশাটা আরো বেড়ে যায় তার দল ঘোষণার আগেপরের কথাবার্তা দেখে। তিনি বারবার বলেছিলেন, তিনি ব্রাজিলের এই জেনারেশনের সেরা তিন এটাকার নেইমার-জেসুস-বারবোসাকে একসাথে তার ফরম্যাশনে জায়গা করে দেবেন। মিডিয়াতে কখনো ১৯৫৮ এর ৪-২-৪ ভেসেছে আবার কখনো সামনে ঐ ৩ জনকে রেখে ৪-৩-৩।

কাকা দিনহোদের জেনারেশনের পরে কোন একটা দলকে যদি হলুদ জার্সিতে একটু হলেও মানানসই লাগে, সেটা লেগেছিলো গত ২০১৫ সালের অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপে। তো ব্যাক ফোরে রদ্রিগো কাইয়ো-মার্কুইনহোস-মাইয়া-সান্তোস , মিডফিল্ডে ফেলিপে এন্ডারসন- রাফিনহা- মাইয়া আর সামনে নেইমার-বারবোসা-জেসুস এই ছিলো জাপানের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচের একাদশ । জাস্ট ওয়ার্ম আপ ম্যাচ বলে ডিফেন্স কীভাবে অপারেট করে সেটা নিয়ে দেখার মত কিছুই ছিলো না । কারণ, এসব ম্যাচগুলোতে আপনি প্রেসিং এর শিকার হন না । খুব দৃঢ় কাউন্টার এটাক আপনাকে সামলাতে হয় না । এসব ম্যাচে আপনার মিডফিল্ড স্রেফ ব্যাসিক হোমওয়ার্ক করতে পারলেই আর গোল খেতে হয় না ।

ম্যাচ গড়াতেই মনে হয়েছে জেসুস কিছুটা ভিতরের দিকে থেকে খেলছেন আর নেইমারকে দেওয়া হয়েছে ফ্রি রোল । আর বারবোসা মূলত স্কোরিং এর জন্যে। এই ট্রায়ো ম্যাচে খুব বড় কিছু না করে দেখাতে পারলেও হতাশ করে নি । নেইমার আর বারবোসার কম্বিনেশন বারবার জাপানের ডিফেন্সে চিড় বের করে ফেলতে পেরেছে আর তার সাথে জেসুসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক মাঝে মাঝেই তার মধ্যে চোখের খোড়াক জুগিয়েছে । নিজেদের মধ্যে প্রথম ম্যাচ হওয়াতে হয়তো কম্বিনেশনে খুব হাতিঘোড়া কিছু না দেখাতে পারলেও যেই গুটিকয়েক রান আর ওয়ান টু দেখলাম , সেটা দুঙ্গার আমলে এই জার্সি থেকে কোথায় যেনো হারিয়ে গিয়েছিলো ।

দুটো গোল এসেছে । একটা সলো গোল বলা যায় বারবোসার আর আরেকটা নেইমারের কর্ণার থেকে মার্কুইনহোসের মাথা ছুঁয়ে। বারবোসা ব্রাজিলের হয়ে নিয়মিত নেমে গোল পাচ্ছে এটা দেখে সমর্থক হিসেবে দেখে ভালো লাগছে । নিকট অতীতে ব্রাজিল যাদেরকেই নাম্বার নাইন হিসেবে খেলিয়েছে, এদের সবাই মূলত টার্গেট ম্যান । তবে এই বারবোসা কিছুটা আলাদা । নেমে খেলার চেষ্টা করে আর ফিনিশার হিসাবেও ভালো ।

এই ওয়ার্ম আপ ম্যাচটা খুব বেশি কিছু ব্রাজিলকে দেয় নি । তবে আমাদের মত ফ্যানদের করে তুলেছে লোভাতুর । নেইমার-জেসুস আর বারবোসাকে অলিম্পিকে একসাথে মাঠে দেখার লোভ নিয়ে গুণছি দিন ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 − six =