জয়ের সাথে ব্রাজিলের জন্যে থাকলো কিছু প্রশ্নও

ফুলটাইম
ভেনিজুয়েলা ০-২ ব্রাজিল

আগেই বলেছি কনমেবলে অ্যাওয়ে ম্যাচগুলো খুব বেশি টাফ হয় সেটা প্রতিপক্ষ উরুগুয়েই হউক বা ভেনিজুয়েলা। একারণেই গত ম্যাচে দুর্দান্ত খেলার পরেই জিউলিয়ানোকে ড্রপ করে পাওলিনহোর মত ডিএমকে স্কোয়াডে আনা হয়।তবে,এম্যাচ নিয়ে দুশ্চিন্তার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল বর্তমানে জাতীয় দলে বিশ্বসেরা প্লেয়ার নেইমির না থাকা।তবে,সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যায় খেলার আট মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসাসের গোলে ? গোলকিপারকে প্রেশার দিয়ে বল নিজের আয়ত্তে নিয়ে চিপ শটের মাধ্যমে অসাধারণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলের এই নিউ সেনসেশন ? এই গোলের পর খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ব্রাজিলের কাছে। তবে,প্রথমার্ধে আর কোনো গোল পায় নি সেলেসাওরা,লেফট উইং দিয়ে লুইস আর জেসাস বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও দলীয় সমন্বয়ের অভাবে তা গোলে পরিণত হয় নি,এছাড়া অ্যাটাকে নেইমির অভাবও বেশ ভালো ভুগিয়েছে।ভেনিজুয়েলা মিডফিল্ড থেকে বল কেড়ে নিয়ে কিছু অ্যাটাক করলেও ডিফেন্স লাইনআপ তা বেশ ভালোভাবে সামলে দেয়।দ্বিতীয় গোলটি আসে ৫৩ মিনিটে,রেনেটোর অসাধারণ থ্রু পাস থেকে ক্লিনিকাল ফিনিশিং এর মাধ্যমে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা উইলিয়ান।এরপর ভেনিজুয়েলা বেশ চড়াও হয়ে খেললে ব্রাজিল বেশকিছু কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ পায় কিন্তু লর্ড পাওলিনহো বেশ কিছু বল চান্দে পাঠালে ব্যবধান আর বাড়ে নি,২-০ গোলের এই জয় নিয়ে ব্রাজিল চলে যায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

খেলা শেষে জয়টাই মুখ্য হলেও কিছু কটুকথা না বললেই নয়।অ্যাওয়ে ম্যাচে একটা এক্সট্রা ডিএম লাগলে অ্যালানকে কেনো দলে নেওয়া হলো না,অ্যালান কি পাওলির চেয়ে খারাপ ফর্মে আছে??? পুরো ম্যাচে মিসপাস আর চান্দে বল পাঠানোর মত অসাধারণ কাজ করেছেন নতুন লর্ড।সাথে আছে হলুদ কার্ডের হ্যাটট্রিক ??? পাওলির জন্য মিডের কন্ট্রোল বেশকিছুবার লুজ হয়েছে,ডিফেন্ডাররা অসাধারণ না খেললে তিন পয়েন্ট নিয়ে আর ফেরা লাগতো না ? জয় পেয়েছি বলে ম্যাচের ভুলগুলো ভুলে যাবো সেটা তো হয় না,এই ভুলগুলোই বড় ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট হবে।তাছাড়া, আজ নেইমির পজিশনে কৌটা খেলায় তাকে নিয়ে অনেক আশা ছিল বাট সে কি আশা পূরণ করতে পেরেছে?? জেসাস ফলস নাইনে খেলেও লেফট উইং এ বেশকিছু অ্যাটাক বিল্ড আপ করেছে সেখানে কৌতি ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ,অফ টার্গের কিছু শট ছাড়া আর কিছুই করতে পারে নি,অথচ ওই পজিশনেই নেইমি একাই খেলা নিজেদের দিকে টার্ন করে।আর উইলি তো গোল পাওয়ার আগে জঘন্য খেলছিলো,বেশকিছু ভালো অ্যাটাক নষ্ট হয়েছে তার জন্য ? কস্তা ফুল ফিট হলে রাইট উইং এ তাকেই চাই,কৌটা আর উইলি বরং সাবেই থাকুক।আর সেন্ট্রাল মিডে বারবার বল লুজ করতে দেখে মেজাজ খারাপ হয়েছে….

তাছাড়া লাস্ট পাঁচ মিনিটে ব্রাজিলের খেলা প্রচণ্ড নেগেটিভ লেগেছে,দুই গোলে এগিয়ে থেকেও এত্ত নেগেটিভিটি কেনো? এলিসন পর্যন্ত ভুল পাস দিয়েছে ওই সময়ে!! কলম্বিয়ার সাথে লাস্ট পাঁচ মিনিট আমরা কি সুন্দর নিজেদের মধ্যে বিল্ড আপ ফুটবল খেলেছি সেখানে এই ম্যাচে এই রূপ!! অই পাঁচ মিনিটে হার্টের উপরেও খুব অত্যাচার গেছে ?
তবে কিছু পজিটিভ কথা না বললে খুব বেশি অন্যায় হবে,টিটে আসার আগে আমরা ছিলাম পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে কিন্তু টিটের কোচিং এ টানা চার ম্যাচ জিতে আমরা এখন পয়েন্ট টেবিলের….guess what,আমরা এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ?পিকনিক কোপা আমেরিকার গ্রুপ স্টেজে এলিমিনেটেড হওয়া দলটাই আজ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ? নাম্বার নাইন পজিশন নিয়ে এত্ত চিন্তা ছিল সেই পজিশনে ডেব্যু করে চার ম্যাচে চার গোল করেছেন ১৯ বছরের গ্যাব্রিয়েল জেসাস!!! অথচ অনেকেই এত্ত কম বয়সে জেসাসকে ডেব্যু করানো নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলো কিন্তু টিটের বাজি কিন্তু এক্ষেত্রে পুরোপুরি লেগে গেছে ? বলতে গেলে জেসাস একাই দুই দুইটা অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতিয়ে নিয়ে এসেছে ছয় পয়েন্ট।টিটে দায়িত্ব নেওয়ার চার ম্যাচ পরেও এত্ত ইমপ্রুভ হবে তা আমিও ভাবি নি তবে এখুনি তৃপ্তির ঢেকুর তোলা ঠিক হবে না,সামনে এখনো অনেক বন্ধুর পথ,লক্ষ্য রাখতে হবে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের দিকে,ম্যাচ বাই ম্যাচ জেতার সাথে সাথে ২০১৮ এর জন্যেও দলকে তৈরি করতে হবে।তবে এখন পুরো মনোযোগ রাখতে হবে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নেক্সট ম্যাচের দিকে,এই ডার্বি জেতাটা অনেক বেশি জরুরি, অনেক সমালোচনা,অনেক অপমানের প্রতিশোধ তোলার ম্যাচ সেটা,সবচেয়ে বড় কথা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখা যেটার জন্য ওই হোম ম্যাচ জেতা খুব বেশি জরুরী ???
গ্রান্দে ব্রাজিল ?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty − 10 =