আজ আনন্দ করার দিন

হচ্ছে, হবে অনেকবার এসেছে। হয়ে গেলো বলতে পারি নি। মুলতানে ইনজামামের জন্যে পারি নি। ফতুল্লায় গিলক্রিস্টের জন্যে পারি নি। ঢাকায় কুক-ডাকেট মুলতানের ইনজি বা ফতুল্লার গিলি হবার পত্তনটুকু রোদের দুপুরে ভালোমতোই করে গিয়েছিলেন। তারপরেরটুকু যেনো বিশ্বাস না হতে চাওয়া কোন গল্পের ক্ল্যাইমেক্স। যেখানে এন্টি ক্লাইমেক্স নেই। দৃশ্যের পর দৃশ্য শুধু ক্লাইমেক্সের দিকে এগিয়েছে। বাংলাদেশ পেরেছে। প্রথমবারের মত টেস্টে ঢেকুর তোলা জিত। ম্যাচের পরে দুই-তিনমাস মাথায় আটকে থাকার মত জিত। ২০০৫ এ কার্ডিফের মত আরাম দেওয়া জয় কিংবা ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে নকআউট করে দেওয়ার জয়। এমন আরামের জয় এই বনেদী ফরম্যাটে এলো প্রথমবারের মত।

পুরো সিরিজে ওদের টপঅর্ডার পাখা মেলে নি একটিবারও। মাস্টারক্লাস এলিস্টার কুককে কুকের মত পায় নি বাংলাদেশ। আজ তাই ২য় সেশনে ১০০ রানের জুটিটা হতাশার সাথে সাথে নিজেদের কাছে নিজেদেরকে অসহায় বানিয়ে দিয়েছে বারবার। আর বিশেষ করে সকাল থেকে অমন টার্ন করা পিচে সিরিজজুড়ে স্ট্রাগল করা কুক যখন নিজের রূপটা দেখাচ্ছিলেন, বাংলাদেশের স্পিনাররা বারবার নির্বাক হয়ে প্রশ্ন করে গেছেন পিচকে। ২৭৩ রানের টার্গেট দিয়ে নিজেদের জিত কোনভাবেই ধরে নেই নি। তবে ঐ ফার্স্ট উইকেট পার্টনারশিপ বারবার নিজের কাকাছে নিজেকে বলতে বাধ্য করেছে, “এমনও তো হবার কথা ছিলো না! ”

এর পরে সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়তি এমনভাবে দিয়ে দিচ্ছিলো যে বাংলাদেশ খুশি হবার মত মুহূর্তটুকু আলাদা করে পাচ্ছিলো না। পাবে কীভাবে?? ঘটছিলো প্রতি মুহূর্তে। বড় বড় জিনিস ঘটছিলো একের পর এক। বিরতি না দিয়ে! অনেক অনেক অবাক করে দিয়ে। আমরা স্রেফ চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম। হঠাৎ করে সুখের মুহূর্তগুলোয় ভাটা পড়বে সেই ভয়ে আশাবাদী হবার দু:সাহসটাও খুব কম লোকই নিয়েছে। স্টোকস-ওকসকে যখন দেখছিলাম, তখনও মনে হয়েছে ওরা তো সিক্স ডাউন সেভেন ডাউন থেকেই শুরু করে। দু ঘা দিয়ে খেলাটা নিশ্চিত বের করে নেবে। স্টোকসিকে সাকিব স্যালুটসমেত বিদায় দেবার পরে আগের তেতো অভিজ্ঞতা থেকে ওকস-রশিদকে দেখে মনে হয়েছে ক্লার্ক-হাসি। তার পরের বলেই সাকিব রশিদকে লেগবিফোর করে যেনো বার্তা দিলেন এবার হচ্ছে।

আজ ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণের দিন না । আজ আনন্দ করার দিন। অনেক অনেক আনন্দ করার দিন।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + nine =