স্টার্কের রেকর্ড

অভিনন্দন মিচেল স্টার্ক। ওয়ানডে উইকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান! সাকলায়েন মুশতাকের ১৯ বছর পুরোনো রেকর্ড এখন অতীত।

ইন্টারেস্টিং হলো, অভিষেক ওয়ানডেতে উইকেটবিহীন ছিলেন দুজনই। এবং দুজনই জায়গা হারান একাদশে। তবে দ্রুতই ফেরেন দুজন। স্টার্ক দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই পান ৪ উইকেট, সাকলায়েন তৃতীয় ওয়ানডেতে।

৪ উইকেটের পরও দ্বিতীয় ওয়ানডের পর জায়গা হারান স্টার্ক। বাইরে ছিলেন প্রায় বছর দেড়েক। প্রথম ৫ ম্যাচে ৮ উইকেট নিলেও ১৯৯৬ বিশ্বকাপে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সাকলায়েন।

দুজনই একসময় জায়গা পাকা করেন দলে। প্রথম ১৭ ওয়ানডেতেই ৩ বার ৫ উইকেট, আরও ৩ বার ৪ উইকেট নেন স্টার্ক। তার পরও পঞ্চাশ উইকেট ছুঁতে লেগে যায় ২৯ ম্যাচ। রেকর্ড থেকে অনেক দূরে। মজার ব্যাপার হলো, পঞ্চাশ ছুঁতে সাকলায়েনেরও লেগেছিল ২৮ ম্যাচ!

পঞ্চাশের পর রকেটের গতিতে এগিয়েছেন দুজন। পরের পঞ্চাশ ছুঁতে স্টর্কের লাগল ২৩ ম্যাচ, ৫২ ম্যাচে একশ উইকেট! সাকলায়েনের পরে পঞ্চাশে লেগেছিল ২৪ ম্যাচ, ৫৩ ম্যাচে একশ। দুজনেরই শততম উইকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। স্টার্কের শিকার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, সাকলায়েনের ছিল রোশান মাহানামা।

মাইলফলক ছোঁয়ার মাচ দুজনই শুরু করেছিলেন ৯৮ উইকেট নিয়ে। কাজেই দুজনেরই ম্যাচে দ্বিতীয় উইকেটে পূর্ণ হয়েছে একশ। সাকলায়েন ওই ম্যাচে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। স্টার্কও নিলেন ৩ উইকেট!

১৯ ম্যাচে ৫০ উইকেটের রেকর্ড যার, সেই অজান্তা মেন্ডিসের ১০০ উইকেট ছুঁতে লেগেছে ৬৩ ম্যাচ! মেন্ডিস যার রেকর্ড ভেঙেছিলেন, ভারতের অজিত আগারকার, ২৩ ম্যাচে ৫০ উইকেটের পর ১০০ উইকেট ছুঁতে লেগেছিল ৬৭ ম্যাচ।

স্টার্কের আগে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন ব্রেট লি, ৫৫ ম্যাচে।

ভারতের মোহাম্মদ শামির হাতছানি আছে রেকর্ডের, তবে করতে হবে দারুণ কিছু। ৪৭ ম্যাচে এখন ৮৭ উইকেট তাঁর।

ম্যাচের হিসেবে সাকলায়েন পিছিয়ে পড়লেও অভিষেক থেকে সবচেয়ে কম সময়ে একশ উইকেটের রেকর্ডে তাকে পেছনে ফেলা ভীষণ কঠিন। অভিষেক থেকে ১ বছর ২২৫ দিনেই সেঞ্চুরি হয়েছিল সাকলায়েনের। ২ বছরের কম সময়ে পারেননি আর কেউ। ২ বছর ১০০ দিনে একশ উইকেট নিয়ে দুইয়ে ইরফান পাঠান।

সাকলায়েনের আরও দুটি রেকর্ড এখনও বহাল তবিয়তে। ১৯৯৬ সালে নিয়েছিলেন ৬৫ উইকেট। ১৯৯৭ সালে ৬৯ উইকেট। এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডে প্রথম দুটি জায়গাই তার। ১৯৯৯ সালে ৬২ উইকেট পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন শেন ওয়ার্ন। ২০১৩ সালে ওয়ার্নকে ছুঁতে পেরেছিলেন চাকার সাঈদ আজমল।

বাংলাদেশের দ্রুততম ৫০ উইকেট আব্দুর রাজ্জাকের, নিয়েছিলেন ৩২ ম্যাচ। সৈয়দ রাসেলের লেগেছিল ৩৯ ম্যাচ। দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ানও রাজ, ৬৯ ম্যাচ। মাশরাফির লেগেছিল ৭৮ ম্যাচ।

(দিনের বোনাস তথ্য : অস্ট্রেলিয়ায় আজকে ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টে দুই দলে খেলেছেন দুই জন ‘নায়ার’। ভারত ‘এ’ দলে করুন নায়ার, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াডে খেলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্জুন নায়ার। ১৮ বছর বয়সী অর্জুন অফ স্পিনার, অস্ট্রেলিয়ায় বলা হচ্ছে ‘রহস্য স্পিনার’। ৭৮ রান করা করুন নায়ারকে আজ আউট করেছেন অর্জুন নায়ার!)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 2 =