সারা বিশ্বের বিস্ময়, তোমরা আমাদের অহংকার!

কি বলবেন এটাকে? অবিশ্বাস্য? বিস্ময়কর? আসলে এটাকে ব্যাখ্যা করার মতো শব্দ আমি খুঁজে পাচ্ছিনা, সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থী, কিন্তু আজ আমাদের লাল সবুজের মেয়েরা ইরানকে যেভাবে বলে কয়ে হারাল আর ইরান যেভাবে এই বাঘিনিদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করলো, তাতে আমাদের দেশের ফুটবলের সেই স্বর্ণযুগের কথাই বারবার মনে হয়ে যাচ্ছিলো, সেই সালাউদ্দিন আসলাম এনায়েত সালাম হাফিজ কায়সার হামিদ দের যুগে বাংলাদেশ এশিয়ার সমীহ জাগানো দল ছিল। আজ সালাউদ্দিনও কি একটু হলেও ফিরে গেলেন না তার যুগের স্মৃতিতে? ইরানকে নিজেদের অর্ধে এক প্রকার আটকে রেখে ৩-০ গোলে জিতে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ, যদিও ফলাফল ৮-০ হলেও অবাক হবার কিছু ছিল না।

শুরু থেকেই তেড়েফুড়ে আক্রমণে বাংলাদেশ, কি রানিং, কি ক্রসিং, কি পাসিং- সব জায়গায় সেরা হয়েও প্রথমার্ধে গোলমুখের তালা খুলতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে সেই অতৃপ্তি ঘুচল অধিনায়ক মারজিয়ার পা থেকে। এরপর সানজিদার ক্রস থেকে মৌসুমির করা গোলটি ছিল দেখার মতো। বদলি হিসেবে নেমে কলসিন্দুর গ্রামের মানুষের আদরের মেসি তহুরা করলেন তৃতীয় গোল! এ সময় ইরানি গোলরক্ষকের বিস্ময়ে হতবাক হবার ঘটনাটা ছিল দেখার মতো, কারন তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই যে বল তহুরার মাথা থেকে জড়িয়েছে জালে!!

সবথেকে ভালো লেগেছে পুরো ৯০ মিনিট এক তালে খেলে যাবার বেপারটা। প্রথমে যখন প্রেসিং শুরু করলো বাংলাদেশ, ভেবেছিলাম দ্বিতীয়ার্ধে মনে হয় খোলসে ঢুকে যাবে আমাদের পুরুষ দলের মতো! ইরানিরাও হয়তো ভেবেছিল তাই, কিন্তু পাশার দান উল্টে দিয়ে একই গতিতে ৯০ মিনিট খেলে গেলো মেয়েরা। আমাদের পুরুষ দলের অনেকে তো ৬০ মিনিট পার হলেই দাড়িয়ে থাকেন! শেষ মিনিটে গোল খেয়ে আমাদের পুরুষ দল কত ম্যাচ যে হেরেছে বা ড্র করেছে তার ঠিক নেই, কিন্তু এই মেয়েদের মধ্যে ফিটনেস লেভেলটা আশাবাদী হবার মতোই। তাদের কোচ ছোটনের একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য সারা বছর প্রশিক্ষণের মধ্যে রাখার জন্য।

সামনের মাসে ভুটানের সাথে আমাদের জাতীয় দলের বাঁচা মরার ম্যাচের প্রথমটি। ভুটান শেখ রাসেল ক্লাবকে যে সতর্কবার্তা দিয়েছে, তাতে আমাদের মামুনুল বাহিনী আবার যে লজ্জায় ডোবাবে না তার গ্যারান্টি নেই! অন্তত এই মেয়েদের কাছে ৯০ মিনিট এক তালে খেলা আর হারার আগেই হেরে না যাবার শিক্ষাটা নিতে পারবেন মামুনুল বাহিনী?

ছবি – ঢাকা ট্রিবিউন

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen − 14 =