শুভ জন্মদিন, ভিডিএস!

কিংবদন্তী পিটার শ্মাইকেলের শূণ্যতা পূরণ করতে পারে, এরকম গোলরক্ষক পাওয়াটা চাট্টিখানি কথা ছিল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের জন্য ; বহুকাল যাবত পানও নি তিনি। ১৯৯৯ সালের বিখ্যাত সেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পরপরই ক্লাব ছেড়ে যান কিংবদন্তী শ্মাইকেল, পরে একে একে দলে আসেন মাসিমো তাইবি, মার্ক বসনিচ, রেমন্ড ভ্যান ডার গাউ, রয় ক্যারল, টিম হাওয়ার্ড, ফাবিয়ান বার্থেজের মত গোলরক্ষকেরা। কিন্তু কেউই পিটার শ্মাইকেলের মত গোলবারের নিচে নির্ভরতার প্রমাণ দিতে পারেন নি স্যার অ্যালেক্সের কাছে।

দিতে পেরেছিলেন একজন। তাও একরকম ক্যারিয়ার-সায়াহ্নে এসে। ফুলহ্যাম, জুভেন্টাস ঘুরে আসা এক ঢ্যাংঢেঙ্গে ডাচ গোলরক্ষকের উপর ২০০৫ সালে ভরসা করেছিলেন ফার্গি, ৩৫ বছর বয়সে যেখানে অন্যন্য ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের এপিটাফ লেখা হয়, সেখানে এই গোলরক্ষক টানা ছয়বছর ইউনাইটেড গোলপোস্টের নিচে ছিলেন আস্থার প্রতীক হিসেবে।

53231201

তিনি আর কেউ নন, এডউইন ভ্যান ডার সার। ২০০৫ সালে মাত্র দুই মিলিয়ন পাউণ্ডের বিনিময়ে ফুলহ্যাম থেকে আসা এই গোলরক্ষককে খোদ ফার্গিই স্বীকার করেন শ্মাইকেল পরবর্তী যুগের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শ্রেষ্ঠতম গোলরক্ষক হিসেবে। এককালে কোন এক জিয়ানলুইজি বুফনের জুভেন্টাসে আসার জন্য যে ভ্যান ডার সারকে জুভেন্টাস ছাড়তে হয়েছিল, সেই ভ্যান ডার সারই যে এককালে নিজের রূপকথা নিজেই লিখবেন, সে কথা ক’জন ভাবতে পেরেছিল জুভেন্টাস ছাড়ার সময়ে?

২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে টানা ১,৩১১ মিনিট গোল হজম না করে যে রেকর্ডটি গড়েছিলেন, সে রেকর্ডটি টিকে আছে এখনো। যে রেকর্ডটা অন্যতম খতিয়ান সেই মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের  বজ্রকঠিন ডিফেন্সের, যে জমাট ডিফেন্স না থাকলে হয়তোবা সেবার লিগ শিরোপাটা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলই জিতত। কিন্তু তা হতে দেননি সমর্থকদের প্রিয় “ভিডিএস”।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে চারবার প্রিমিয়ার লিগ, একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ও একবার ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ী নেদারল্যান্ডসের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষকের আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন ভিডিএস!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 − one =