শুভ জন্মদিন গারিঞ্চা

ম্যানুয়েল ফ্রান্সেস্কো ডস সান্তোস।

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। অনেকের মতে সর্বকালের সেরা ড্রিবলার। বলছি ৬০-৭০ দশকের মাঠ কাঁপানো, ডিফেন্ডারদের ত্রাসের নাম গ্যারিঞ্চার কথা। পর্তুগীজ শব্দ গ্যারিঞ্চা মানে ”লিটল বার্ড”। ছোট পা দিয়েই দুনিয়া কাঁপিয়েছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। ব্রাজিলে অনেক জনপ্রিয় এই তারকার আরো দুটি নাম ছিল।

  • Alegria do povo যার অর্থ peoples joy
  • Anjo de Parnes tortas যার অর্থ bent legged angel

ব্রাজিলীর হয়ে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ টানা দুই বিশ্বকাপ জিতেন গ্যারিঞ্চা। ১৯৬২ বিশ্বকাপ তো পুরা একলাই জিতালেন ব্রাজিলকে। পেলের ইঞ্জুরিতে দলকে সামনে থেকেই টানেন এই জাদুকর। জিতেছিলেন গোল্ডেন বল, বুট দুটোই। ক্লাব ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময় পার করেছিলেন স্বদেশি ক্লাব বোটাফোগোতে। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী গ্যারিঞ্চার জীবনে ছিল অনেক মজার ঘটনার সমারহ। এক নজরে দেখা যাক গ্যারিঞ্চার ক্যারিয়ার-

  • ১৯৫৩ সালে যখন বোটাফোগোতে যোগ দেন তখন এক সন্তানের বাপ ছিলেন।বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর
  • ক্লাবের হয়ে সিনিয়র প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন হ্যাট্ট্রিক
  • ফুটবলে ব্যবহৃত বিখ্যাত বুলফাইটিং চ্যান্ট ‘ওলে’ কিন্তু তার অনুপ্রেরণা থেকেই দর্শকরা শুরু করে
  • জুভেন্টাসে,রিয়াল মাদ্রিদে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন
  • এসি ও ইন্টার মিলান এবং জুভেন্টাস ১৯৬৩ সালে এক বিরল প্রস্তাব করে গ্যারিঞ্চাকে। একই সাথে তিন ক্লাবের হয়েই খেলবেন তিনি, একেক সিজন একেক ক্লাবের হয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ডিল হয়নি। হলে ফুটবল বিশ্ব অন্য কিছুর সাক্ষী হত
  • জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচে ১২ গোল আর ক্লাবের হয়ে গোল সংখ্যা ২৭৬ টি
  • পেলে, গ্যারিঞ্চা একসাথে খেলা ম্যাচে কখনোই হারেনি ব্রাজিল

গ্যারিঞ্চা সম্পর্কে সবচেয়ে সেরা লেখার কিছু অংশ –

In the entire history of football no one made more people happy. When he was out there, the pitch was a circus ring, the ball a tamed animal, the match a party invitation. Garrincha nurtured his pet, the ball, and together they created such mischief that people almost died laughing. He jumped over it, it gambolled around him, hid itself away, skipped off and made him run after it. And on the way, his opponents ran into each other.” — Eduardo Galeano, Uruguayan writer

রিভার প্লেটের ডিফেন্ডার ভাইরোকে বোকা বানানো সেই ম্যাচের কথা আজো ভুলেনি ফুটবল বিশ্ব। মাত্র ৫’৬” লম্বা ফুটবলারের একটি বিশেষ শট ছিল। হঠাত করে দিক বদলানো সেই বিখ্যাত শটের নাম ছিল ঝরাপাতা শট।

আজকে গ্যারিঞ্চার ৮৩ তম জন্মদিন। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি। অনেক ব্রাজিলিয়দের মতে পেলের থেকেও সেরা ছিলেন গ্যারিঞ্চা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 9 =