শুভ জন্মদিন, ওয়ালশ!

তিনি ছিলেন ম্যালকম মার্শাল, জয়েল গারনারদের শেষ সার্থক উত্তরাধিকারী। ৯০ এর দশকে ক্রিকেট দেখা শুরু করা এবং গতির ঝড় তোলার স্বপ্ন দেখা কিশোর তরুণের বিরাট এক অংশের কাছে ওয়ালশ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক। ক্যারিবিয়ানদের রক্তে মিশে থাকা আমোদ ফুর্তি তার মাঝেও আছে। কোর্টনি ওয়ালশ আর কার্টলি অ্যামব্রোস এর পেস বোলিং জুটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ভয় জাগানিয়া জুটি। সেই ওয়ালশ এখন আমাদের পেস বোলিং গুরু। ম্যাশের মতো মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে তার সাথে কাজ করতে পেরে। কাল তার জন্মদিন, তাই আগাম শুভ জন্মদিন জানিয়ে রাখলাম তাকে।

ছয় ফুট উচ্চতা আর একহারা গড়নের ওয়ালশের মূল শক্তি ছিল গতি। তবে টেস্টে তার ৫০০ উইকেট প্রমাণ করে, গতির তোড়ে তার লাইন লেংথের বারোটা বাজেনি। উচ্চতার কারনে প্রাপ্ত বাড়তি বাউন্সকে কাজে লাগাতে পারতেন অসাধারণভাবে। তার একসময়ের অধিনায়ক রিচি বলেছিলেন, ওর হাতে একবার বল দিলে বল নেওয়া কঠিন হয়ে যেত। এই আত্মনিবেদন ছিল তার অন্যতম শক্তির জায়গা।

ক্যারিবিয়ানদের রক্তে মিশে আছে আনন্দ ফুর্তি। তাদের কাছে জীবন মানে উপভোগের আরেক নাম। ওয়ালশ আবার দারুণ বন্ধুবৎসল। অ্যামব্রোসের সাথে এখনও রয়েছে দারুণ সম্পর্ক। নিজের ছেলেবেলার ক্লাবে গেলে ছোটদের জুস আর পানি কিনে দেন প্রায়ই, তাদের খুশি দেখেই তার নাকি আনন্দ লাগে অনেক।

ওয়ালশের আরেকটা পরিচয়, তিনি পাকা রাঁধুনি। মাকে অসম্ভব ভালোবাসেন এই গতি তারকা। বাড়িতে থাকলে তাই মায়ের প্রিয় খাবার নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ান। বব মারলের দ্বীপের মানুষ ওয়ালশ গান শুনতেও পছন্দ করেন খুব। বব মারলের বাড়ির কাছেই তার বাড়ি। তবে মারলের সাথে দেখা না হওয়াটা অনেক পাওয়ার জীবনে তার অন্যতম আক্ষেপের জায়গা।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার কাছে একটাই প্রত্যাশা, তার হাত ধরে আমাদের পেস আক্রমণ যেন টেস্টেও দারুণ হয়ে ওঠে। একজন পেস বোলিং সব্যসাচীর জন্য আমাদের হাহাকার মিটাতে পারবেন স্যার, এই আশা করি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three + 19 =