মেসির অভিষেকের ১২ বছর

১৬ই অক্টোবর। অান্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে দিনটার মূল্য অনেক বেশি। এক যুগ আগে এইদিনে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয়েছিল রোজারিওর ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল মেসির।বার্সেলোনার বিখ্যাত ফুটবল একাডেমী লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা মেসির মেসি হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু এইদিনেই।

২০০৪ সালের ১৬ই অক্টোবর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বার্সা কোচ ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের নির্দেশে ওয়ার্ম অাপ শুরু করেন ৩০ নম্বর জার্সির ১৭ বছর বয়সী কিশোর মেসি। পর্তুগিজ ডেকোর বদলি হিসেবে মেসিকে নামানো হয় মাঠে। পরবর্তী তে মেসি ২০০৫ সালের পহেলা মে তে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি জাদুকর রোনালদিনহোর অ্যাসিস্টে। দিনে দিনে মেসি এবং রোনালদিনহো জুটি গড়ে উঠতে থাকে।

মেসি ২০০৭ সালে বার্সেলোনার হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক টি করেন চিরপ্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে। প্রায় তিন মাস পর ইনজুরি থেকে ফিরেই এই হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।

মেসি একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন। বার্সার হেক্সাজয়ী দলের সদস্য তিনি। একের পর এক ট্রফি জয়ে সাহায্য করেছেন দলকে। এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে তিনি জিতেছেন ৮টি লা লীগা, ৪ টি কোপা ডেল রে,৭টি স্প্যানিশ সুপার কাপ, ৪টি চ্যাম্পিয়নস লীগ, ৩টি সুপার কাপ এবং ৩টি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ট্রফি।

মেসির এই ১২ বছরের ক্যারিয়ারে মাঠে তার ভূমিকায় কিছু পরিবর্তন আছে। শুরুতে রাইকার্ডের সময় তিনি খেলতেন রাইট উইঙ্গার হিসেবে। এরপর বার্সেলোনার গুরু পেপ গার্দিওলা মেসিকে খেলিয়েছেন ফলস নাইন হিসেবে। পরবর্তী তে লুইস সুয়ারেজ বার্সেলোনায় আসার পর মেসি তাকে নিজের পজিশন ছেড়ে দিয়ে আবারো রাইট উইং এ খেলা শুরু করেন। বার্সেলোনার মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো জাভি চলে যাওয়ার পর সতীর্থ দের বলের যোগান দিতে প্রায়ই তিনি নিজেই মিডফিল্ড পজিশনে খেলেছেন। সবখানেই সফলতা এসে ধরা দিয়েছে তার কাছে।

নেইমার কে কিনে আনার পর মিডিয়া থেকে শুরু করে রথী-মহারথী অনেকেই বলেছিল বার্সেলোনায় মেসি আর নেইমারের মধ্যে ইগো সমস্যা হতে পারে এবং তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বার্সেলোনা। কিন্তু সব কাল্পনিক সমস্যা উড়িয়ে দিয়ে মেসি নেইমার সুয়ারেজ ত্রয়ী একসাথে হয়ে উঠেছেন প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। একের পর এক ম্যাচ জিতিয়ে চলেছেন তারা গোল করে।

মেসির বয়স মাত্র ২৯ এখন। ক্লাব ক্যারিয়ারে বার্সেলোনাকে অনেক কিছুই দেওয়ার আছে তার এখনো। আরো অসংখ্য রেকর্ডের হয়তো জন্ম দিবেন তিনি। নিজেকে দিনে দিনে অারো উঁচুতে নিয়ে যাবেন তিনি এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

LM1

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × 1 =