মুদ্রার উল্টোপিঠ

” সাব্বির তো আর একাই ৩৩ রান করতে পারবে না। তাইজুল যে বেশি খারাপ খেলছিল, সেটাও না। গতকাল শেষ দিকে তাইজুল খুব ভালো খেলছিল, আজও শুরুটা খুব ভালো করেছিল। তাছাড়া ব্যাপারটা এমন না যে এক দিক থেকে স্পিন অন্য দিক থেকে ওরা পেস করছে। দুই দিক থেকেই পেস ব্যবহার করবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। সাব্বির যদি বাড়তি ঝুঁকি নিতে গিয়ে আউট হত তো খেলা আরও আগেই শেষ হত। সব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, যদি রান হয়, রানটা নিয়ে নেওয়া। যদি শেষ জুটি হতো, তাহলে হয়ত ভিন্ন ব্যাপার ছিল।”
—মুশফিকুর রহিম
(তাইজুলকে পুরো ওভার স্ট্রাইক দেওয়ায় যারা সাব্বিরের বোধ নিয়ে, সাহস নিয়ে, আরও অনেক কিছু নিয়ে চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছিলেন, তাদের জন্য মুশফিকের এই লাইন কটা। সম্ভব প্রতিটি রান নিয়ে নেওয়াই ছিল দলের সিদ্ধান্ত)
“Life is all about trust and being a player, if u can’t trust ur team mate, u shouldn’t walk in to the field. And anyway, Sabbir could have been get out as well”
—মাশরাফি বিন মুর্তজা
(ম্যাশের কথাটিকে মনে হতে পারে দর্শন কপচানো। কিন্তু ক্রিকেটে একটা ইউনিট হিসেবে খেলার মূলমন্ত্র ওটাই, সতীর্থকে ট্রাস্ট করা)
ক্যারিয়ারের শেষ অর্ধেকে টেলএন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিংয়ের ওস্তাদ হয়ে উঠেছিলেন ভিভিএস লক্ষ্নণ। সবসময় বলতেন, শেষের দিকে জুটি গড়তে পার্টনারের ওপর ট্রাস্ট করা জরুরী। একা হয়ত আগলে রাখা যায়, কিন্তু জুটি আগায় না!
এই টেস্ট যদি বাংলাদেশ জিতত, তাহলে পার্টনারের প্রতি আস্থা রাখার জন্য নিশ্চিত ভাবেই প্রশংসায় ভেসে যেতেন সাব্বির!
তার পরও তর্কের খাতিরে তর্কে আসি। ধরলাম, সাব্বির স্ট্রাইক নিয়ে খেলবে। কিন্তু জিততে হলে রান তো করতে হবে! উইকেট টাফ, ইংলিশরা বাউন্ডারি বল দেবে না, ফিল্ডিংও তার সময় ছড়ানো। চার হবে কোত্থেকে? ছড়ানো ফিল্ডিংয়ে প্রতি ওভারে একটি-দুটি ডাবলসের গ্যারান্টি কি? আর এই উইকেটে এক প্রান্ত আগলে রেখে কতক্ষণ খেলা যায়? রান করতে হবে, রানটাই আসল। এই উইকেটে যে কোনো সময় একটা বল কিক করতে পারে, বা কোনোভাবে আনপ্লেয়েবল একটা ডেলিভারি আসতে পারে। দলীয় ভাবেই তাই সিদ্ধান্ত ছিল সম্ভব প্রতিটি রান নেওয়ার…
যদি এমন হতো ১২-১৫ রান প্রয়োজন, কিংবা উইকেটে শেষ জুটি, তখন না হয় স্ট্রাইক রাখার কথা ভাবা যায়। দু প্রান্ত থেকেই একটু একটু করে না এগোলে এই উইকেটে ৩৩ রান করা সম্ভব ছিল না…
তার পরও বলতে পারেন, সাব্বির আরও ভালো ভাবে হ্যান্ডল করতে পারত। অবশ্যই পারত। তবে মনে রাখতে হবে, সে অভিষেক টেস্ট খেলছে, ৩০তম টেস্ট নয়!
বলতে পারেন, তাহলে সমালোচনাও করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। কিন্তু আপনি যেটা মনে করছেন, সেটাই যে চূড়ান্ত নয়, এটাও মনে রাখতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্ট যখন কিছু করছে, তাদের ভাবনাটাও জানার অপেক্ষা করুন! আপনি যে সিম্পল ব্যাপারটা বুঝছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট সেটা হয়ত ভাবেও না। কারণ ক্রিকেট, টেস্ট ক্রিকেট সিম্পল নয়! আর ম্যাচ শেষ হওয়ার মুহূত থেকেই সাব্বিরের দোষ ধরতে থাকা.. ‘সেন্স নাই’, ‘কিছু বোঝে না’, ‘কাওয়ার্ড’…এসব হাবিজাবিকে কখনোই সমালোচনা বলে না। কি বলে, আমি ঠিক জানি না…
তার পরও কিছু লোকের প্রশ্ন শেষ হবে না। তাহলে মুশফিকের আরেকটি কথা শুনুন, “শেষ দিনে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৩ রান, আমরা ধরেই নিয়েছিলাম ম্যাচ ৯০ ভঅগ ওদের দিকে হেলে।” তো ৯০ ভাগ এগিয়ে থাকা দল জিতেছে, দুনিয়া ধ্বংস হয়নি!
আপাতত চলুন, অভিষকেই সাব্বিরের অভাবনীয় লড়াইটাকে টুপি খোলা অভিনন্দন জানাই… নাকি? করাত চালাবেন তো? আশা করি তার লম্বা ক্যারিয়ার হবে, সুযোগ অনেক পাবেন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eleven + six =