বিশ্বকাপ স্কোয়াড চিন্তা : মিথুন না সাব্বির?

বিশ্বকাপ স্কোয়াড চিন্তা : মিঠুন না সাব্বির?
জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট-ওয়াশ করার আনন্দের ডামাডোলের মধ্যেই গত কয়েকদিন ধরে দেখছি কিছু ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক এর বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে চিন্তায় সাব্বির চলে আসছে! আমার কাছে ব্যাপারটা হাস্যকর লাগছে- বর্তমানে যে ফর্ম আছে সেটা ধরে রাখলেই আমি নেক্সট বিশ্বকাপের স্কোয়াডে মিথুন কেই চাই। সাব্বিরকে না। এর কারণটা ব্যাখ্যা করছি।
 
কয়েকদিন আগে প্রথম আলোর এক সাক্ষাৎকারে মিথুন কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো- হঠাৎ এত ভালো খেলার রহস্য কি? মিথুনের সাদামাটা জবাব- ক্রিকেটই আমার পেশা। আমি এটা ছাড়া আর কিছু করিনা। তাই নিজের জীবিকা অর্জনের জন্যই ভালো ক্রিকেট খেলা লাগবে। এই প্রেরণাতেই প্রতিদিন অনুশীলনীতে যাই।
 
এটাই মিথুন আর সাব্বিরের মধ্যে পার্থক্য!
 
৫ সিনিয়র ক্রিকেটের পর গত ৩ বছরে সবচেয়ে বেশি ফেম পাওয়া ক্রিকেটারটা হলো সাব্বির। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এডে তার চেহারাই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে টিভিতে, পেপারে। আর এই গ্ল্যামার, খ্যাতির মোহেই তার অবনতি। প্রথমে এসে কয়েকটা ম্যাচে ভালই খেলেছিলেন। টিটুয়েন্টিতে শ্রীলংকার সাথে জেতা ম্যাচে একটা ৮০ রানের ইনিংস আছে। এরপর দলের কয়ে ইম্প্যাক্ট ফেলেছে এরকম কোন ইনিংসের কথা মনে করতে পারছিনা। অভিষেকের পর টানা ৫৪ টা ম্যাচ খেলেছেন, কোন ম্যাচে বাদ পড়েন নি। অথচ এতগুলো ম্যাচে সেঞ্চুরি একটাও নাই, হাফ সেঞ্চুরি মাত্র ৫টা। এভারেজ? মাত্র ২৪!! অথচ সাব্বির যে পজিশনে নামতেন সেখান থেকে বহুবার দলকে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরার সিচুয়েশন ছিলো, বলাই বাহুল্য- বারবার হতাশ করেছে। অথচ এসব পজিশনে নামা ব্যাটসম্যানদের এভারেজ বেশি হয়- নট আউট থাকার চান্স বেশি থাকে বলে। যেমন- বেভান, ধোনি। সাব্বির বার বার উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছেন। তার ক্লিন হিটের অনেক সুনাম- কিন্তু উইকেটে টিকে থাকার বা পরিস্থিতি বুঝে সিংগেল ডাবলস নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার টেম্পারমেন্টই যদি না থাকে, কয়েক বল ঠেক আর দুই একটা ছয় মেরে আউট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান দিয়ে কি হবে?
 
সাব্বির নিজ হাতে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছে। এত চান্স আজকাল খুব কম খেলোয়াড়ই পায়। মোটামুটি অটো চয়েজ ছিলো। ইজিলি নিজের এভারেজ বাড়িয়ে দলের জয়ে কন্ট্রিবিউট করতে পারতেন। এসব এ কোন মনযোগ না দিয়ে মেতেছিলেন নিজের গ্ল্যামার উপভোগ করায়। মিডিয়াতে আর কোন খেলোয়াড় এতবার কেলেংকারি করে খবরে আসেন নি বাংলাদেশের সম্ভবত। আর মিডিয়াতে আসে না এমন অনেক খবরও কানে আসে। রাজশাহীতে যারা থাকেন তারা জানবেন। বেসিকালি নিজের খেলার উন্নতিতে কঠোর পরিশ্রম না করে উনি আচ্ছা মত ফয়দা লুটেছেন খ্যাতির।
 
উলটা দিকে মিথুনের কোন গ্ল্যামার নাই। বিশাল মেয়ে ভক্তদের দল নাই। তার খেলার স্টাইলও চোখ জুড়ানো না। কিন্তু তার ভিতর খাঁটি ডেডিকেশন আছে। এই ডেডিকেশন এর উৎস- ভালো না খেললে দল থেকে বাদ পড়বো- এই ভয় থেকে। তিনি তো আর লাখ লাখ টাকা পাবেন না এড করে, তাই মনোযোগ খেলাতেই থাকে। এশিয়া কাপে দুইবার দলের বিপর্যয়ে মুশির সাথে হাল ধরেছেন, দুইবারই দল জিতেছে। জিম্বাবুয়ের সাথে প্রথম ওয়ানডেতেও মূল্যবান ৩৭ রানের একটা ইনিংস খেলেছেন। শেষ দুই ওয়ানডেতেও ছিলেন অপরাজিত, উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন নি। দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। এটা দারুন পজিটিভ।
 
ইংল্যান্ডের ছোট মাঠে যারা ৩২০-৩৩০ চেজ করার জন্য সাব্বিরকে চাচ্ছেন তাদের বলি- টপ অর্ডার। কলাপ্স করলে সাব্বির কোনদিনই দলকে জিতাতে পারবে না। সেটা ইংল্যান্ডের সাথে ২০১৬ সিরিজের প্রথম টেস্টেই প্রমাণ হয়েগেছে। অল্প কিছু রান লাগতো। টেইল এন্ডারদের অন স্ট্রাইকে পাঠিয়ে ম্যাচটা হারিয়েছিলো সে। বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে এই জিম্বাবুয়ে সিরিজের মতই টপ অর্ডারদের ভালো করতে হবে। ৬-৭ ব্যাটসম্যানরা জিতাবে- এই আশায় থাকলে খবর আছে।
 
শেষ করার আগে একটা মজার তথ্য দেই। সৌম্য সাব্বির থেকে ওয়ানডে খেলসে ২০ টা কম। তাও তার ২ টা সেঞ্চুরির পাশে হাফসেঞ্চুরি সাব্বির থেকে ১টা বেশি, এভারেজ ৩৬! পাকিস্তান, সাউথ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ডের মাটিতে আয়ারল্যান্ড ও কালকের জিম্বাবুয়ে- চার চারটা ম্যাচ সে ব্যাট হাতে জয়ে সরাসরি অবদান রাখসে। তার নামে কোন কেলেংকারিও নাই। তারপরও বাংলাদেশের জনতার অত্যাচারে তাকে ফেসবুক বন্ধ করা।লাগসে। অথচ এখনও সাব্বিরকে ডিফেন্ড করা মানুষের অভাব নাই।
 
বাংলাদেশি পাবলিকরা আসলেই বড় বিচিত্র!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen − six =