বিশুর বিষে নীল পাকিস্তান

দুবাইয়ে চলমান পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টটা বেশ ঘটনাবহুলই হচ্ছে বলা চলে। একে ত ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বপ্রথম দিনরাত্রির টেস্ট, পাকিস্তানের ইতিহাসের ৪০০তম টেস্টও এটা। তারপর হচ্ছেও একের পর এক রেকর্ড। সেদিন আজহার আলী পাকিস্তানের ইতিহাসে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে হাঁকালেন ত্রিশতক, তারপর টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম বোলার হিসেবে মাত্র ১৭ টেস্টেই ১০০ উইকেটের দেখা পেলেন লেগস্পিনার ইয়াসির শাহ। প্রতিপক্ষ দলের লেগস্পিনারের এহেন সাফল্য দেখে বোধহয় তর সইছিলো না উইন্ডিজ লেগস্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর, এবার তিনিও দেখালেন তাঁর বিষের নীল হতে পারে প্রতিপক্ষ।

ফলাফল, ৪৯ রানে ৮ উইকেট। আর সেই পারফরম্যান্সেই প্রথম ইনিংসে দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখানো পাকিরা দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেল মাত্র ১২৩ রানে।

আর এই অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স দিয়েই রেকর্ড বইয়ের বেশ কয়েকটা পাতায় নিজের নামকে খোদাই করে রাখলেন বিশু। ৪৯ রানে ৮ উইকেট, উপমহাদেশে এসে কোন বিদেশী বোলারের এটাই সবচাইতে ভালো পারফরম্যান্স। এর আগের সেরা পারফরম্যান্স ছিল ১৯৯৬ সালে ভারতের বিপক্ষে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার ল্যান্স ক্লুজনারের ৬৪ রানে ৮ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্সটা। আর এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কোন বোলারের উপমহাদেশে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্সের রেকর্ড ছিল পেসার অ্যান্ডি রবার্টসের, চেন্নাইতে ভারতের বিপক্ষে ৬৪ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। দুবাইতে সবচেয়ে ভালো বোলিংয়ের রেকর্ডও এখন বিশুর। আগের রেকর্ডটা ছিল পাকিস্তানি স্পিনার সাঈদ আজমলের, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৫ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

লেগস্পিনার হিসেবে বিশুর পারফরম্যান্স ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম সেরা। প্রথমে অবস্থান করছেন ভারতীয় লেগস্পিনার অনিল কুম্বলে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর সেই বিখ্যাত ৭৪ রানে ১০ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্সটার জন্য, দ্বিতীয় স্থানে আছেন পাকিস্তানি স্পিনার আব্দুল কাদির, ৫৬ রানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 − six =