পরম আরাধ্য জয়

তোরা সব জয়ধ্বনি কর,
তোরা সব জয়ধ্বনি কর,
ঐ নতুনের কেতন ওড়ে, কালবোশেখির ঝড়,
তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

অভিষেক টেস্ট থেকেই দেখছি টাইগারদের টেস্ট অভিযাত্রা। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়েকে প্রথম টেস্ট হারানো, ২০০৯ এ সাকিব বীরত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাংলাওয়াশ করা, তারপর ২০১৪ এর শেষে ঘরের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে বাংলাওয়াশ- সবই দেখেছি। তবুও এই জয় থাকবে সবার আগে। প্রথম কারণ, দলটা ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ড আর দ্বিতীয় কারণ, আমাদের দাপুটে, হার না মানা মানসিকতা। বিনা উইকেটে ১০০ থেকে ১৬৪ তে সব উইকেট হারানো, এমন ধস শুধু বাংলাদেশকেই মানায়- এমন মানসিকতা ছিল অনেকের। আজকে সেই ধস দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব, তবে এবার হন্তারক বাংলাদেশ, আর শিকার ইংল্যান্ড। বাঘের থাবায় সিংহ কুপোকাত!

২০০৩ এর মুলতান, ২০০৫-০৬ এ অসিদের বিপক্ষে ফতুল্লা, ২০০৭-০৮ এ কিউইদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম এবং সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামের ২২ রানের হার- এগুলো আমাদের টেস্ট ইতিহাসের কান্নার গল্প, পেতে পেতে হারিয়ে ফেলার গল্প। তবে এবার লেখা হল বিজয়ের গল্প।

নতুনের কেতন উড়িয়ে ঘূর্ণিজালের মায়ায় ইংলিশদের বেঁধে ফেললেন মিরাজ-সাকিব। মিস হল না ক্যাচ খুব একটা। মিরাজের অফ স্পিনে যদি ইংলিশ টপ অর্ডার শেষ হয়, তবে সাকিব ছেঁটেছেন লেজ। স্তোকস কে বোল্ড করে ফেরত পাঠানোর সময় সাকিবের স্যালুট তার গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিলেও বাংলাদেশী হিসেবে গর্ব করা সাজে আমাদের। কারণ, স্তোকস কম জ্বালাননি আমাদের পুরো সিরিজ জুড়ে। এক সময় তো মনে হচ্ছিলো দুদলের পার্থক্য তিনি। তার রিভার্স সুইঙ্গের যেন জবাব ছিলনা, কিছু কিছু সময় অহংকার থেকে ক্রিকেটীয় ভদ্রতাটাও মানার দরকার মনে করেননি। তার জন্য এমন স্যালুটই যথাযোগ্য জবাব!

মিরাজকে ভোলার তো কোন কারণই নেই, ইংলিশরা তাকে যদি বাংলার মুরালি বলে তাতেও অবাক হবার কিছু নেই, কারণ ঢাকা টেস্টে ১২ আর চট্টগ্রামে ৭ উইকেট নিয়ে শতবর্ষের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন গত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। ভুলে যাবেন না ইমরুল কায়েস কে, তার ৭৮ রানের ইনিংসটার গুরুত্ব আর বলে বোঝাবার দরকার আছে বলে মনে হয়না। তামিম মুমিনুল প্রথম ইনিংসে রেকর্ড জুটি গড়েছিলেন। সাকিব আল হাসান অনুমিতভাবেই ব্যাট বল দুহাতেই সফল। কামরুল রাব্বির দলে ঢোকা নিয়ে সবার মতো আমারও প্রশ্ন আছে।একজন পেস বোলিং সব্যসাচী দরকার। আচ্ছা থাক, এসব কথা আরেকদিন হবে।

এখন সময় আনন্দের, এখন সময় বাংলাদেশের!

চোখ থেকে মুছে ফেলো অশ্রু টুকু,
এমন খুশির দিনে কাঁদতে নেই।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

thirteen + eighteen =