জিউসেপ্পে মারোত্তা : জুভেন্টাসের পুনর্জাগরণের সারথি

জিউসেপ্পে মারোত্তা : জুভেন্টাসের পুনর্জাগরণের সারথি

ক্লাব নরকের অন্ধকার গলির মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়েছে এবং তারপরে যেখানে থাকার কথা সেখানে ফিরে এসেছে। ইতালিতে শ্রেষ্ঠ এবং ইউরোপের এলিট ক্লাবগুলোর একটিতে। জুভেন্টাস।

এই সফলতার জন্য উল্লেখ করার জন্য অনেকগুলি নাম রয়েছে এবং তাদের অবদানগুলির জন্য অনেক লোককে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু যদি আমার মাথায় বন্দুক ধরে কেউ শুধুমাত্র ৫ জনের নাম বলতে বলে, তাহলে জিউসেপ্পে মারোত্তা অবশ্যই তাদের মধ্যে একজন হবেন।

তিনি যখন সাম্পদোরিয়াকে কে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিয়ে যাযন তখন অ্যান্দ্রেয়া অ্যাগ্নেলি একজন মোটা পিটবুলের মত চেহারা, ট্যারা লোককে জুভেন্টাসে নিয়ে আসেন। তিনি আসলে ট্যারা না, তিনি এক চোখে বর্তমান ট্রান্সফার এবং আরেক চোখে অন্য এক ট্রান্সফারের উপর নজর রাখেন। মারোত্তা আসার পরপরই কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেন। তার প্রথম বছরে ১৪ জন খেলোয়াড়ের ট্রান্সফার নিশ্চিত করেন যা তখন মোটেই সহজ ছিলনা কারণ জুভেন্টাস তখনও নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিল।

সার্বিয়ান উইঙ্গার মিলোস ক্রাসিচ, ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ফ্যাবিও কোয়ালিয়ারেলা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে দুই ডিফেন্ডার লিওনার্দো বনুচ্চি এবং অ্যান্দ্রেয়া বারজালির মতো খেলোয়াড়রা আমাদের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্মার্ট ট্রান্সফার, নতুন স্টেডিয়াম এবং জুভেন্টাস যার রক্তে, সেই আন্তোনিও কন্তে কে সাথে করে আমরা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সেরা সিরি এ অভিযান চালাতে পেরেছিলাম।

২০১১-তে ‘দ্য ইনভিন্সিবলস’ বছরের শুরুতে এটি শুরু হয়। অ্যান্দ্রেয়া পিরলো এবং স্টেফান লিখস্টেনারের মতো খেলোয়াড়রা সত্যিই জুভেন্টাসের পক্ষে গৌরবের জন্য লড়াই করতে অনুপ্রাণিত হয়েছিল এবং কন্তের জুভেন্টাস-ডিএনএও সাহায্য করেছিল।
পরের মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে আমরা অবাঞ্ছিত ও অবহেলিত পল পগবাকে নিয়ে এলাম এবং তারপর সে ফিফা বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় এবং ফুটবলের সবচেয়ে দামী মিডফিল্ডার হয়ে ওঠে। ক্লাবটি তার বিক্রয় থেকে 100+ মিলিয়ন মুনাফা অর্জন করেছিল এবং মারোত্তা সেই তহবিলে গঞ্জালো হিগুয়েন ও মিরালেম পিয়ানিচকে কিনে নেয়। এটি প্রতিভাধর একটি স্ট্রোক ছিল কারণ আমরা কেবল একটি অসাধারণ গোলস্কোরারকেই আনিনি সাথে গত মৌসুমে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করে দিয়েছি। এবং পিয়ানিচ এখন আমাদের পিরলোর স্টাইলে খেলা নিকটতম প্লেয়ার। যা আমাদের তার খেলা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু আসল চালাকি হলো এই দুই প্লেয়ারেরই রিলিজ ক্লজ ছিল। যদি সে অন্য কাউকে কিনতে যেত তবে অনেক বেশি খরচ করতে হতো।

লাজিওর বিরুদ্ধে খেলাটির চূড়ান্ত সেকেন্ডে পাওলো দিবালা যখন গোল করে, তখন আমার মনে যে প্রথম বিষয় মাথায় আসে, তা ছিল লাজিওর বিরুদ্ধে অন্তিম মুহুর্তে ক্রাসিচের গোল। মিলোস ক্রাসিচ থেকে পাওলো দিবালা। খারাপ আপগ্রেড না। তবে সে সবসময়ই হিট ট্রান্সফার করেনি। তার উপর সবচেয়ে রাগ উঠে যখন ২০১৫ তে আমরা একই উইন্ডোতে পিরলো, ভিদাল আর তেভেজকে হারাই আর সে তাদের রিপ্লেস করে হার্নানেস ও জাজা দিয়ে। তার টেকো মাথায় তখন চুমুর বদলে লাঠি দিয়ে এক বাড়ি দিতে ইচ্ছা করছিল।

আমি সর্বদা বলি যে পিরলো ও পগবার ফ্রি এবং তেভেজের জন্য মাত্র ১০ মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফার ছিল সেই আগুন যা ক্লাবটির পুনঃপ্রবর্তনকে জাগিয়ে তোলে। আমি এই তিনজনের নাম উল্লেখ করেছি কারণ মিডফিল্ডারদের উভয়ই তাদের পূর্ব ক্লাব থেকে ব্রাত্য হিসাবে ধরে নেওয়া হয়েছিল এবং তেভেজ ফুটবলের সব আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন কিন্তু মারোত্তা আমাদের প্রজেক্টে তাদের কনভিন্স করাতে পারে এবং ৭ বছর পর আমরা এখানে।

এটা লজ্জাজনক যে তিনি জুভেন্টসে তার ক্যারিয়ার শেষ করবেন না যা তিনি একবার বলেছিলেন। কিন্তু ক্লাবে তার অবদান ছিল অপরিমেয় এবং তা কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আমি তাকে শুভ কামনা জানাই। “তিনি আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন” প্রবাদটি খুব কম লোকের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে তবে মারোত্তা অবশ্যই তাদের মধ্যে একজন। ৭ টি স্কুদেত্তো, ৪ টি কোপা ইতালিয়া এবং ৩ টি ইতালিয়ান সুপার কাপ। পিরলো, কোয়ালিয়ারেলা, লিখস্টাইনার, পগবা, তেভেজ, বনুচ্চি, বারজালি, দিবালা, হিগুয়েন, কস্তা, মোরাতা, বার্নারদেশি, রোনালদোর নাম রবে আপনার স্মৃতি ও কর্ম ফল হয়ে।
সাদাকালো জার্সির যেকোন খেলোয়াড়ের মাঠের অবদানের চেয়ে আপনার সাদাকালো কোট টাই পড়ে মাঠের বাইরের অবদান কোন অংশেই কম নয়।

ফিনো আলা ফিনে
ফোর্যা ইউভে
ফোর্যা মারোত্তা

::: ফারহান ওয়াহিদ আদিয়াথ :::

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 + twelve =