এল ক্লাসিকো : ট্যাকটিক্যাল প্রিভিউ

এল ক্লাসিকো : ট্যাকটিক্যাল প্রিভিউ

ফুটবল জগতের অন্যতম বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা আগামীকাল ন্যু ক্যাম্পে মুখোমুখি হবে, যে ম্যাচকে এল ক্লাসিকো বলে অভিহিত করা হয়। তবে এই এল ক্লাসিকো অনেক ভিন্ন। এই এল ক্লাসিকো তে বিশ্বের সেরা একজন নয় বরং দুই জনের একজনও থাকছেন না। এমন সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০০৭ এ। এবারের ক্লাসিকোতে মেসি-রোনালদোর ঝলক অনুপস্থিত থাকলেও থাকছে না উত্তেজনার কোনো কমতি। দুই দলের কোচ লেপর্তিগুই এবং ভালভেদরের মধ্যে কৌশলগত লড়াই হবে যার পুরোটুকু জুড়ে থাকবে ফুটবলের সংস্কৃতি এবং আদর্শ।

দুইদলেরই সাধারণ ফর্মেশন হলো ৪-৩-৩। যেখানে উইঙ্গাররা অনেক ওয়াইড থাকে এবং দুই দলই তাদের উইঙ্গারদের শক্তিশালি পায়ের বিপরীত দিকে খেলিয়ে থাকে। দুই স্প্যানিশ জায়ান্টই ফুলব্যাকদের ওভারল্যাপিং করার অনুমতি দিয়ে থাকে। একই ফর্মেশনের কারণে এল ক্লাসিকো কিছু ব্যক্তিগত দ্বন্দ উপহার দিয়ে থাকে। এই বারও তার ব্যতিক্রম কিছু হবে না আসা করা যায়।

১. জর্দি আলবা vs গ্যারেথ বেল
যেমনটা একটু আগেও বলেছিলাম যে, দুই দলই ওভার ল্যাপিং করে খেলতে পছন্দ করে। কিন্তু বার্সেলোনা যদি অন্যান্য দিনের মতো এল ক্লাসিকোতেও যদি জর্দি আলবাকে সামনে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়ে দেয়, তাহলে তা বেলের জন্য অনেক ফাঁকা স্থান রেখে দেয়। ফাঁকা জায়গা পেলে বেলের অমানবীয় গতি দিয়ে বার্সেলোনার রক্ষণভাগকে ভেদ করতে সময় নেবে না। তাই ভালভার্দে বাধ্য হবে ওভার ল্যাপিং না করে খেলানোর জন্য। অর্থ্যাৎ বেলকে অনেকটা ম্যান মার্কিংই করতে পারে আলবা।

২. মার্সেলো vs (?)
লিওনেল মেসি ইনজুরির কারণে এল ক্লাসিকো মিস করতে যাচ্ছেন। তাতে স্বস্তিটুকু কি মার্সেলো পাচ্ছেন? মার্সেলো পরিচিত তার ‘ফরোয়ার্ড রান’ এবং দুর্দান্ত ক্রসিং এর জন্য। মাঝে মাঝে ডিবক্সের সামনে গিয়ে প্রচলিত উইঙ্গারই বুনে যান। কিন্তু এই সিজনে রক্ষণভাগের দায়িত্বের প্রতি বেশিই উদাসীনতা দেখাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান। যদি একটু অতীতে গিয়ে এই সিজনের শুরুতে হওয়া উইয়েফা সুপার কাপের দিকে তাকাই, দেখতে পাবেন ডিয়েগো সিমিয়নে রিয়ালের বাম দিককে এবং মার্সেলোর দুর্বলতাকে টার্গেট করেই নিজের পরিকল্পনা সাজান। মেসি না থাকায় আগের মতো হয়তো রক্ষণভাগে থাকতেও চাইবেন না। মার্সেলো উপরে উঠে গেল অনেক সময় ক্যাসিমিরো কিংবা রামোসকে বলেন ওয়াইড স্পেস গুলো কভার করতে যার জন্য মিডফিল্ডে ভালো জায়গা ফাঁকা পরে যায়। এবং বার্সেলোনার পাসিং খেলা কারোর কাছে অপরিচিত নয়। প্রতিপক্ষের ফাঁকা জায়গা গুলোকে নিজেদের ব্যাসিক ফুটবল দিয়ে কাজে লাগিয়ে থাকে বার্সা। সে ক্ষেত্রে অনেক বড় নাম হতে পারে উসমান ডেমবেলে। ডেমবেলের কোনো ডোমিনেন্ট ফুট নেই। সে দুই পায়ের সমান পারদর্শী এবং তার গতিও প্রচুর। মার্সেলোর ফাঁকা জায়গাকে ভালো ভাবে কাজে লাগাতে পারলে ডেমবেলে ভালো ফলাফল এনে দিতে পারবে।

৩. বুস্কেটস vs ক্যাসিমিরো
দুই দলই এই দুই খেলোয়াড় ছাড়া প্রায় সবসময় ভুগে থাকে। পুরো দলকে যদি একটি মনোরম পুতুল খেলার সাথে তুলনা করি এই দুইজন হল সেই দুইজন ব্যক্তি যারা এই খেলার পুতুল গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেন। বার্সেলোনার খেলার আলাদা ধরণ রয়েছে যাকে ভিত্তি করে বুস্কেটস বড় হয়েছেন। অন্য দিকে ক্যাসিমিরো একজন পিউর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার যে এট্যাককে প্রতিহত করে এবং ডিফেন্সিভ এবং এট্যাকিং খাতে সাহায্য করে থাকে। মেসি না থাকার কারণে ক্যাসিমিরো আরো ফ্রি হয়ে খেলতে পারেন।

অন্যদিকে মদ্রিচ এবং রাকিটিচ রয়েছেন যারা হলেন মাঝমাঠের সম্রাট। তাদের ব্যক্তিগত পারফরমেন্সের হাত ধরেই অনেক ম্যাচ জিতছে এই দুই দল। সাথে তাদের চোখ ধাঁধানো শট গুলোও ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেয়। সবশেষ, বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের এই রাইভলি অনেক বছর পুরোনো। রোনালদো এবং মেসি গত দশ বছর নিজেদের আলোয় আলোকিত করেছেন এল ক্লাসিকোকে, আমাদের দিয়েছেন কিছু সেরা মুহূর্ত। এরা না থাকায় অবশ্যই এল ক্লাসিকো অনেক কিছু মিস করবে কিন্তু এর উজ্জ্বলতা কখনোই কমবে না।

::: আবু হেনা তসলিম আর্পন :::

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 5 =