একটু দূরদর্শী হোন, মাশরাফি!

::::: সামিউল আজিজ সিয়াম :::::

আমি মোটামুটি এক বছর আগে থেকে বলছি, মাশরাফির খেলার পরিমাণ কমানো উচিৎ! এটা বরং দলের জন্য ভালো, তার নিজের জন্যও ভালো, এবং সর্বোপরি ক্রিকেটের জন্য ভালো!

আমার মনে হয়না বাংলাদেশ দলের এখন এমন অবস্থা যে প্রতি ম্যাচে মাশরাফিকে খেলতে হবে, বোলিং করা তো আরো অনেক পরের কথা। এই দলের দুইজন সিনিয়র প্লেয়ার এর আগে পূর্ণ অধিনায়ক ছিলেন (একজন এখনো টেস্ট অধিনায়ক আছেন), দুইজন সহঅধিনায়ক ছিলেন। এর মধ্যেও মাশরাফি একজন সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য সিনিয়র প্লেয়ার হিসেবে এবং নিজের নেতৃত্বের গুণে দলকে এক সূত্রে বেঁধেছেন, সন্দেহ নেই!

কিন্তু দলে মাশরাফির অনুপস্থিতিতে একটা কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলাও প্রয়োজন। সাকিব বর্তমানে সহঅধিনায়ক, পাঁচ বছর আগে অধিনায়ক হিসেবে যেমন ছিলেন তাঁর চেয়ে এখন অনেকাংশেই পরিণত। আবেগজনিত সমস্যা নেই, চাপ নিতে পারেন, সকল খেলোয়াড়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, এসব দিক বিবেচনায় সাকিব আল হাসানকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়ে মাশরাফিকে বিশ্রামে রাখাটা আরো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হতে পারতো! আমি বুঝিনা, দলে এতজন সিনিয়র এবং স্টার খেলোয়াড় থাকার পরেও আফগানিস্তানের সঙ্গে একটা সিরিজেও মাশরাফির সবগুলো ম্যাচ খেলা, বোলিং করা এবং অধিনায়কত্ব করার প্রয়োজন হয় কেন!

মাশরাফি খেলতে চাচ্ছেন, ভালো কথা, আমি এটাকে তাঁর অত্যন্ত অপরিণামদর্শী আবেগ হিসেবে ধরে নিচ্ছি। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড কিংবা কর্তৃপক্ষেরও চিন্তা করা প্রয়োজন, এভাবে তাঁর আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে তাকে একের পর এক খেলিয়ে যাওয়া ঠিক হচ্ছে কিনা!

খেলার প্রতি মাশরাফির যে আবেগ, যে ভীষণ আত্মনিবেদন, সেটুকুর প্রতি সম্মানে আমাদের মাথা ঝুঁকে আসে। তাই হওয়া উচিৎ! কিন্তু সম্মান আর আবেগ এক জায়গায়, বাস্তবতা এবং স্পোর্টসম্যানশিপ অন্য জায়গায়। খেলার প্রতি আবেগের জায়গা থাকার মানে এই নয় যে ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে শারীরিক ঝুঁকি নিয়ে তাকে প্রতিটা ম্যাচ খেলতে হবে।

ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয়ার পর যদি তিনি শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন, তাঁর দায়িত্ব কে নেবেন? এখন যেসব ফ্যানরা মাশরাফির প্রতি আবেগে সম্মানে ফ্যানা তুলে দিচ্ছেন তারা? ক্রিকেটবোর্ড? কেউ না! যেই বলদ আর হাল টানতে পারেনা, তার গৃহস্থের কাছেও যেমন মূল্য নেই, কোথাও মূল্য নেই। ক্রিকেটারদেরও তাই! অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার এসেছেন, গিয়েছেন! খেলা ছাড়ার পর মিডিয়া আর ভক্তদের এত চোখের পানি বুড়িগঙ্গায় কতটুকু গড়িয়েছে, আমরা কম দেখিনি!

মাশরাফি, ক্রিকেট এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি আপনার আবেগকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু দলের প্রয়োজনে হলেও কিছু দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিন। একটু বাস্তবতার নীরিখে নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের জন্য ক্যারিয়ারটা যদি আরেকটু লম্বা হয়, ক্ষতি কি!

কিংবা চুলোয় যাক ক্যারিয়ার, নিজের ভবিষ্যতটা তো নিরাপদ হোক! আমরা আপনাকে মাঠে দেখি আর না দেখি, হুইলচেয়ারে দেখতে চাইনা! আপনার সন্তানরাও চায় না নিশ্চয়ই!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two + ten =