একজন ইউরোজয়ী আর্জেন্টাইন!

আর্জেন্টিনা ইউরোপীয়ান দেশ নয়, তাঁরা ইউয়েফা ইউরো টুর্নামেন্ট খেলে না এটা সবারই জানা। তাহলে একজন আর্জেন্টাইন ইউরো জিতলো কীভাবে ?
আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার জর্জ ত্রেজেগে। খুব বিখ্যাত কেউ নন তিনি, কখনো আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়েও খেলেননি। জীবনের বেশিরভাগ সময় খেলেছেন আর্জেন্টাইন লীগের দ্বিতীয় বিভাগে। ক্যারিয়ারের শেষের দিকে অবশ্য খেলেছিলেন ফ্রেঞ্চ ক্লাব রোঁনে, আর সেই রোঁন শহরে ১৯৭৭ সালের এই দিনে জন্মলাভ করেন তার ছেলে ডেভিড ত্রেজেগে। জন্ম ফ্রান্সে হলেও ডেভিড ত্রেজেগে পরবর্তীতে পরিবারের সাথে পাড়ি জমান আর্জেন্টিনাতে। সেখানেই বড় হন এবং ধীরে ধীরে ফুটবলকে নিজের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে নেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে যোগ দেন আর্জেন্টাইন ক্লাব প্লাতেন্সে। কিন্তু বেশিদিন খেলা হয়নি তার সেখানে। ভাসমান নৌকার মতো আবার ফিরে আসেন ফ্রান্সে। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তার প্রথমে ফ্রেঞ্চ ক্লাব পিএসজিতে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও সে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় না। এরপর তিনি যোগ দেন ফ্রেঞ্চ ক্লাব মোনাকোতে। দুই সিজন রিসার্ভ দল মোনাকো বি তে খেলার পর ম্যানেজার তার অসাধারণ ফিনিশিং ও খেলার কৌশলে মুগ্ধ হয়ে মেইন দলে সুযোগ দেন তাকে। মোনাকোতে তিনি ২টি লীগ ওয়ান শিরোপা জিতেন এবং ‘ওয়ান অফ দি বেস্ট ইয়াং ফ্রেঞ্চ ট্যালেন্ট’ হিসেবে তার নাম ছড়ায়। সেই নাম তৎকালীন ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ আইমি জাকোটের কানেও যেতে বেশি সময় লাগেনা। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ফ্রান্স স্কোয়াডে সুযোগ পান ত্রেজেগে। পুরো ওয়ার্ল্ড কাপে যদিও তিনি তেমন একটা খেলার সময় পাননি তবে সৌদি আরবের বিপরীতে একটি গোল করেন এবং টুর্নামেন্ট শেষে বিশ্বজয়ের টাইটেলটাও পেয়ে যান।

download

এরপর যেন তার ক্যারিয়ার ফুল স্পীডে চলতে থাকে। বরাবরের মতো ২০০০ সালের ইউরোতেও সুযোগ হয় তার এবং এবার সেই সুযোগের সৎব্যবহার করেন তিনি। ইউরোর ফাইনালে ফ্রান্স বনাম ইতালির খেলার ৯০ মিনিট শেষে স্কোর হয় ১-১। সেই সময়ের গোল্ডেন গোল নিয়ম চালু ছিল এবং এক্সট্রা টাইমে রবার্ট পিরেসের ক্রসে গোল করে ফ্রান্সকে ইউরো জেতান ত্রেজেগে। ঠিক ইউরোর পরেই ত্রেজেগে যোগ দেন ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে যেখানে তিনি কাটান ক্যারিয়ারের মূল্যবান ১০টি বছর। ২০০৬ সালে ম্যাচফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জুভেন্টাস ইতালিয়ান দ্বিতীয় বিভাগ সিরি বিতে নেমে গেলেও ক্লাব ছাড়েন না তিনি। ২টি সিরি আ, ১টি সিরি বি এবং ২টি ইতালিয়ান লীগ কাপ জিতেন জুভেন্টাসের হয়ে। সেই ২০০৬ সালেই জাতীয় দলের হয়ে অল্পের জন্য বিশ্বকাপ জেতা হয় না তার। ফাইনালে পরাজয়ের অনেক কারণ থাকলেও অন্যতম এক কারণ ছিল টাইব্রেকারে ত্রেজেগের একমাত্র পেনাল্টি মিস।

এরপর আর ফ্রান্সের হয়ে তেমন একটা খেলা হয়নি তার এবং ২০০৮ সালে জাতীয় দল থেকে পুরোপুরি অবসর ঘোষণা করেন তিনি। জাতীয় দলের মতো তার ক্লাব ক্যারিয়ারটিও নড়বড়ে হয়ে যায় ২০১০ সালে জুভেন্টাস ছাড়ার পর। স্প্যানিশ ক্লাব হারকিউলিসে এক সিজন ও আরব আমিরাতের ক্লাব বানিয়াসে খেলেন অর্ধেক সিজন। এরপর আবার ফিরে যান আর্জেন্টিনাতে এবং আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটে খেলেন এক সিজন। আরো দুটি ক্লাবের হয়ে খেলার পর ২০১৫ সালে ত্রেজেগে ফুটবল থেকে অবসর গ্রহন করেন এবং জুভেন্টাসের ম্যানেজমেন্ট টিমে যোগ দেন। অনেক উত্থানপতনের একটি ক্যারিয়ার পার করেন ডেভিড ত্রেজেগে। তবে ইউরো ২০০০ ফাইনালের গোলের জন্য তাকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে চিরকাল। অন্যদিকে জুভেন্টাস ফ্যানদের কাছে তিনি যে একজন কিংবদন্তী তা আর বলার বাকি রাখে না।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

19 + six =