আসছেন লোকাতেল্লি

সিরি আ তে মোটামুটি বরবরই নিম্নশক্তির একটা দল হলেও গত কয়েক বছরে এসি মিলানকে কম যন্ত্রণা দেয়নি সাসসুয়োলো। দুইদলের গত বেশ কিছু ম্যাচ পর্যালোচনা করলেই সেটা বোঝা যায়। তাদের গত আট ম্যাচে মিলান জিতেছে চারবার, বাকী চারবার সাসসুয়োলো। তাদের মধ্যকার সর্বশেষ ম্যাচটা দেখলেই বোঝা যায় প্রত্যেকবার এসি মিলান আর সাসসুয়োলো যখন মোকাবিলা করে, কেউই কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে প্রস্তুত থাকেনা। নিম্নশক্তির সাসসুয়োলোও তখন হয়ে যায় পরাক্রমশালী, টক্কর হয় সেয়ানে সেয়ানে। এরকমই চূড়ান্ত উত্তেজনাপূর্ণ এসি মিলান-সাসসুয়োলোর সর্বশেষ ম্যাচে বিশ্বমঞ্চে নিজের আবির্ভাব ঘোষণা করেছেন এসি মিলানের তরুণ ইতালিয়ান মিডফিল্ডার, ম্যানুয়েল লোকাতেল্লি। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আচমকা এক শটে গোল করে সান সিরো সমর্থকদের কাছে নিজের আগমনীবার্তা ঘোষণা করেন এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যেই ইতালির কিংবদন্তীসম মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলোর সাথে তুলনা শুরু হয়ে গেছে তাঁর। তুলনাটা শুরু করে দিয়েছেন মিলানের প্রেসিডেন্ট সিলভিও বার্লুসকোনিই, “আমাদের স্কোয়াডে এখন ম্যানুয়েল লোকাতেল্লি আছে, যার দুর্দান্ত টেকনিক্যাল স্কিল ও খেলা নিয়ে চিন্তাভাবনার জন্য আমরা তাঁকে অ্যান্দ্রেয়া পিরলোর সাথে তুলনা করতে পারি।”

এর মধ্যেই পিরলোর সাথে তুলনা শুরু হয়ে গিয়েছে লোকাতেল্লির
এর মধ্যেই পিরলোর সাথে তুলনা শুরু হয়ে গিয়েছে লোকাতেল্লির

সেদিন সাসসুয়োলোর বিপক্ষে অধিনায়ক রিকার্ডো মন্টোলিভোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে মাঠে যখন নামছেন, মিলান তখন দুই গোলে পিছিয়ে, মাত্র ৩১ মিনিট মাঠে থেকেই বুঝিয়ে দিলেন কেন তাঁকে পিরলোর সাথে তুলনা করা হয়। অনেকের মতে, মিলানের মূল একাদশ থেকে নিয়মিত বাজে খেলা মন্টোলিভোকে এই লোকাতেল্লিই সরাতে পারবেন।

বর্তমানে মিলানের এক ঝাঁক তরুণ তুর্কির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেন এই লোকাতেল্লি। সাবেক কোচ ক্রিস্টিয়ান ব্রচ্চির অধীনে কার্পির বিপক্ষে মিলানের জার্সি গায়ে অভিষেক ঘটলেও মূল স্কোয়াডে লোকাতেল্লির জায়গা করে দিয়েছিলেন আরেক কোচ ফিলিপ্পো ইনজাঘি। ২০১০ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে আটালান্টা থেকে মিলানে নাম লেখানো লোকাতেল্লি মিলানের অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে প্রায় সব বয়সভিত্তিক দলেই নেতৃত্ব দিয়েছেন, সুতরাং এখান থেকেই বুঝা যায় লোকাতেল্লি এমনিতেই বয়সের তুলনায় অনেক বেশী পরিণত, আছে সহজাত নেতৃত্ব-ক্ষমতা। লোকাতেল্লির এজেন্ট স্টেফানো ক্যাস্টেলনোভোর কথাতেই এই বিষয়টা আরও পরিষ্কার হয়ে ফুটে ওঠে, “লোকাতেল্লির বয়স ১৮ হলেও পরিপক্বতা ২৫ বছরের খেলোয়াড়ের মত।”

manuellocatelli-cropped_docqs0moz80w1bbe3y923nr3e

পাসিং অ্যাকিউরেসি দুর্দান্ত লোকাতেল্লির, সাসসুয়োলোর বিপক্ষে ৯২.৯% সফল পাস দেওয়া লোকাতেল্লি লং বল বা শর্ট বল উভয় ক্ষেত্রেই সফল পাস দিতে সক্ষম। খেলার গতিপথ দ্রুত বুঝে ফেলার ক্ষমতা থাকায় খুব ভালোভাবেই জানেন কখন ডিফেন্সকে সাহায্য করতে হবে কিংবা কখন আক্রমণে যেতে হবে, আধুনিক মিডফিল্ডারদের যেটা অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তরুণ লোকাতেল্লির কোন খুঁত থেকে থাকলে সেটা হল, যেহেতু বয়স কম, তাই ঝুঁকি নিতে যাওয়ার প্রবণতাটা তাঁর একটু বেশী, অনেক সময় ডিফেন্সের সামনে থেকেই ড্রিবল করে বল নিয়ে যেতে চান, ড্রিবল করতে ব্যর্থ হলেই বল পজেশান হারাতে হয়, ফলে কাউন্টার অ্যাটাক করতে সুবিধা হয়ে যায় প্রতিপক্ষ দলের।

মিলানের হয়ে এই পর্যন্ত তাঁর অগ্রগতি দেখে বলাই যায় মিডফিল্ডে নতুন এক রত্নই খুঁজে পেয়েছে তাঁরা। এখন লোকাতেল্লি কি আসলেই পিরলোর উত্তরসূরি হতে পারবেন কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

12 − 11 =