আর কত টেস্ট খেলার হাহাকার?

এক হিসেবে বলতে পারি, বাংলাদেশে প্রথম টেস্টে সফল!

হয়ত অনেকের সাথেই মতবিরোধ হবে। কিন্তু যদি এইভাবে চিন্তা করি যে, পাঁচদিন আগেও আমাদের মাঝে কতজন এইটুকু চিন্তা করেছিল যে এই টেস্টের ক্লাইম্যাক্স এতো রোমাঞ্চ ছড়াবে? বি ভেরি অনেস্ট, ২% ও চিন্তা করিনি যে প্রথম টেস্ট জিততে ইংল্যান্ডের এত ঘাম ঝড়াবে বাংলাদেশ। আর কেনই বা চিন্তা করব? ইংল্যান্ড যেখানে গত ১৪ মাসে খেলেছে ১৬টা টেস্ট, সেখানে আমরা একটাও খেলিনি। ইংল্যান্ড দলও শুনে মোটামুটি অবাক, এত দিন পরপর টেস্ট কিভাবে খেলে একটা টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দল। তবে ইংল্যান্ডকে মূল ‘অবাক’টা বাংলাদেশ করেছে মাঠের লড়াইয়েই। এই টেস্টের লাগাম বারবারই যে বাংলাদেশ মুঠোয় পুরেছে। শেষ পর্যন্ত জয়ের খুব কাছে গিয়েও মেনে নিতে হলো ২২ রানের হার।

ইংল্যান্ডের পুরো দলের টেস্ট খেলার মোট অভিজ্ঞতা ৯০০ ম্যাচের উপর, সেখানে আমাদের মোটে ৩০০ ম্যাচ, তারপর যদি আবার সাকিব, মুশফিক, তামিম, মাহমুদুল্লাহকে বাদ দেই, তাহলে মোট ম্যাচের সংখ্যা ১০০ ও হয়না। খেলতে খেলতেই না নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়া যাবে। টেস্টে বাংলাদেশ দল তো অভিজ্ঞ হয়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। ১১ বছর ধরে টেস্ট খেলেও মুশফিকের নামের পাশে মাত্র ৪৯টি ম্যাচ। অথচ মুশফিকের পরের পর টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করে অ্যালিস্টার কুক খেলে ফেলেছেন ১৩৪টি ম্যাচ।

মাঠের খেলাও কিন্তু জয়ের এত কাছাকাছি যাওয়ার জন্য অবদান কিন্তু সিনিয়র প্লেয়ারদেরই বেশি। আর এটা কে না জানে যে, টেস্টে অভিজ্ঞতাই অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়!

তবে হ্যাঁ, সবাই সবার যায়গা থেকে চেস্টা করে গেছে। এই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। খেলতে হবে আরো বেশি টেস্ট ম্যাচ। এফটিপির বাইরেও বিসিবি কে আয়োজন করতে হবে সিরিজ। আলাদা করে খুঁজে বের করতে হবে টেস্টের জন্য বোলিং লাইনআপ। কেউ এক ম্যাচ খারাপ করলেই তাকে বসিয়ে দেয়া যাবে না। কারন আমাদের টেস্ট দল এখনো আমাদের ওয়ানডে দলের মত শক্তিশালী হয়নি যে দলে অনেক পারফর্মার, তাই কেউ খারাপ খেললে তাকে বসিয়ে অন্য কাউকে নামাবো। আগে রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী হোক।

ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে আমাদের একটা জিনিস অবশ্যই শিখতে হবে, টেল-এন্ডারদের ব্যাটিং। এবারের সিরিজে আমাদের মাথা ব্যথার অনেক বড় কারন ছিল টেল-এন্ডারদের ব্যাটিং। যেখানে ইংল্যান্ডের টেল-এন্ডাররা শেষদিকে এসে ১৫০-২০০ রান করে পার্থক্য করে দেয়, সেখানে আমাদের টেল-এন্ডাররা অসহায়ের মত আত্মসমর্পণ করে আসে। সুতরাং টেস্টে ভালো করতে হলে ব্যাটিংয়ে গভীরতা একদম ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান পর্যন্ত বাড়াতে হবে।

আমি খুব সোজা কথা বলি। অমুক দলে থাকলে ভালো হত, অমুককে নামানো উচিত- এইসব নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই। বরং এখন কি করতে হবে, যারা আছে তাদের নিয়ে কিভাবে এগুতে হবে সেটা বরং নিয়ে আলোচনা করা এবং প্ল্যান করে সেভাবে এগোলে ভালো ফলাফল আসবে।

এখন কথা হল, মুশফিকদের আর কত টেস্ট খেলার জন্য হাহাকার করতে হবে? এই প্রশ্নের জবাব আইসিসি দেবে, নাকি বিসিবিরও তা দেওয়ার আছে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + 14 =