জিদান-কথন

জিনেদিন ইয়াজিদ জিদান,
জিদানের বাবার নাম ইসমাঈল ও মায়ের নাম মালিকা। তাদের বসবাস ছিল উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায়। ১৯৫৩ সালে জিদানের বাবা-মা অভিবাসী হয়ে বসতি গড়েছিল ফ্রান্সের দারিদ্র পীড়িত মার্সেই শহরতলিতে যার নাম ক্যাসেলাইন ,
দারিদ্র পরিবারে সংগ্রাম করে আজকে যিনি ফুটবলের মহানায়ক ,
জীবনে যা জিতার তা সবই জিতেছেন এই লিজেন্ড , পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ফুটবলারের খেতাব টা তার নামের পাশেই মানায় খুব ভালোভাবে , জিদান তার পায়ের জাদুতে চমক দেখিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলো গোটা বিশ্বকে প্রায় এক যুগের মতো
সেদিনের সেই জিদান ১ যুগের ও বেশি সময় বিশ্ব ফুটবল রাজত্ব করে গেছেন ,
মার্শেইর তীরে এক নদীর নাম রোন।সেখানেই সকাল-বিকাল ফুটবল নিয়ে মেতে থাকতেন ; বন্ধুদের নিয়ে নদীর পাড়ে খেলতেন ;
একদিন স্কুল ম্যাচে হেরেছিলো জিদানের টিম ; সেদিন মন খারাপ করে নদীর পাড়ে বসে ছিলেন আর চিন্তিত ছিলেন কারণ তার বাবা সেদিন ম্যাচ দেখেছিলেন
সেখানে একজন দর্শক ছিল তার বাবা।
খেলা শেষে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ দেখে বাবা দাড়িয়ে, শিঁড়দারা বেয়ে এক চোরা স্রোত নেমে গেল ভয়ে- ‘আজকে পিঠে বস্তা বাঁধতে হবে , না সেদিন জিদানের বাবা জিদানকে ভরসা দিয়েছিলেন , প্রার্থনা করেছিলো ছেলের জন্য , মার্শেইর এক ঠাণ্ডা-স্নিগ্ধ গোধূলীতে কিশোর জিদান এবং তার বাবার প্রার্থনা কবুল হলো। ওই কিশোরই ১৯৯৮ সালে স্তাদো দ্য ফ্রান্সে ব্রাজিলের কফিনে মাথা দিয়ে দুটি পেরেক ঠুকলেন, সপ্তম আকাশে তুলে দিলেন নেপোলিয়নের উত্তরসূরিদের।
The BEST NUMBER “10” in history of Football!
The most complete Player ever!
The last Mohican of Football!
He should be in every World Selection!
A true living legend ;
কেভিন কিগান – জিদানের খেলা দেখলে বুঝবেন এমন কাউকে আর দেখেননি। জিদান যেভাবে ,বল ‘ম্যানুপুলেট’ করে, চরম ভিড়ের মধ্যে এক মোচরে জায়গা তৈরি করে নেয়; এটা সত্যিই স্পেশাল।’ সাবেক এই ইংলিশ কোচ নিজেও এক সময় বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন, বহু বছর শীর্ষ পর্যায়ে ফুটবল খেলেছেন।
বিশ্বকাপ জয়ী ইটালিয়ান কোচ মার্সেলো লিপ্পি বলছেন, ‘গত ২০ বছরে আমার দেখা সেরা প্রতিভাবান জিদান। সৌভাগ্য যে, ওর ম্যানেজার ছিলাম আমি।
জিদানের বয়স যখন ১৪ বছর তখন নাম লেখান কান ক্লাব এর জুনিয়র লেভেল ফুটবল টিমে
জিয়ান ভারার্নাড মে এক স্কাউট তার ক্লাবের জন্য প্রতিভা খোঁজার কাজে বের হয়েছেন। ঘটনাক্রমে একদিন জিদানের খেলা তার চোখে পড়ে। তারপর সে তার পরিচালকের সাথে কথা বলেন এবং ২ জন একসাথে জিদানের খেলা দেখেন , তার কিছুদিন পর জিদানকে তাদের টিমে সাইন করিয়ে নেন , সেখান থেকেই শুরু ,
ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ার:
১৪ বছর বয়সে ক্লাবে যোগ দিলেও মূল দলে সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১৭ বছর পর্যন্ত (১৮ মে ১৯৮৯ সাল)
১৯৯২-৯৩ সালে জিদান “কান” ছেড়ে চলে এলেন ফ্রান্সের ক্লাব বোরডক্সে। পরের চার বছর এই ক্লাবেই খেলেছেন , জাদু দেখিয়েছেন পুরো বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে , তারপর জিদানের দিকে চোখ পড়ে তুরিনের ওল্ড লেডি হিসাবে খ্যাত জুভান্টাসের ,
১৯৯৬ সালে জুভেন্টাসে এসে প্রথম পরিচয় ঘটলো লিজারাজু আর ক্রিস্টোফার ডুগারির সাথে। পরবর্তীতে এই ত্রয়ী মিলেই ১৯৯৮ সালে ইতিহাস গড়েছিলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
জুভেন্টাসে খেলাকালীন সময়ে জুভেন্টাস দুইবার সিরিএ শিরোপা এবং ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে পরপর দুইবার উয়েফা লীগের ফাইনালে উঠলেও দুর্ভাগ্যজনকবশত দুবারই রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যায় ,
তারপর জিদানের দিকে চোখ পড়ে রিয়াল মাদ্রিদের রেকর্ড ট্রান্সফার ব্রেক করে জিদানকে দলে নেন মাদ্রিদ , রিয়াল মাদ্রিদকে রেকর্ড পরিমাণ ট্রান্সফার ফি পরিশোধ করতে হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ৭০.৫ মিলিয়ন ডলার। এত বেশি পরিমাণ আর্থিক লেনদেন ফুটবল বিশ্বে এর আগে কখনো ঘটেনি ।
২০০২-০৩ সালে রিয়ালের লা-লীগা জেতার পেছনে বড় অবদান জিদানেরই ছিল। একই বছরে তিনি ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হন।
যখন মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যান তখন ফর্ম অনেক বাজে ছিলো , সংগ্রাম করতেছিলেন নিজের সাথে ,
জাতীয় দল –
জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের হয়ে অভিষেক ঘটে চেক রিপাবলিকানের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে। ম্যাচে ফ্রান্স ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৬৬ মিনিটে জিদান মাঠে নামেন। ম্যাচ শেষে ফলাফল ২-২, এই দুটি গোলই করেন জিদান। ৩০ গজ দূর থেকে দূর্বল বাম পায়ে শট এবং গোল , সেদিন সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন ,
বিশ্বকাপের মঞ্চে বরাবরই উজ্জ্বল ছিলেন এই মহানায়ক , One of his generation’s most gifted and decorated players,
অনেকটা বিতর্কিতভাবেই ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল দলে জায়গা পান জিদান। সে সময় ফ্রান্সের অন্যতম প্লে মেকার ছিলেন “এরিক ক্যান্টোনা”। ক্যান্টোনার নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে সুযোগ পান জিদান। কিন্তু সে সময় বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই সমালোচনা মাথায় নিয়ে জিদান বিশ্বকাপ খেলতে নামেন জিদান।
সময়টা ছিল ১৯ জুলাই, ১৯৯৮ সাল। স্টাডে ডি ফ্রান্স এর সবুজ ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে জিদান যখন আপন মনে আওড়ে যাচ্ছেন জাতীয় সংগীত, তখন ক্যামেরার চোখ ঘুরতে ঘুরতে সেটি যখন জিদানের ওপর পড়লো ফুটবল ভাষ্যকার তখন ঘোষণা করলেন – “If France has any hope tonight ,this man is it” ভাষ্যকারের কথা ফলে গেল অক্ষরে অক্ষরে-
জিদানের মাথার কাছে ব্রাজিলের ১১ জোড়া পায়ের কারুকার্য হার মানতে বাধ্য হলো। জিদানের হেড থেকে আসলো দুই গোল ,ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলো, জিদান ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়।
২০০২ বিশ্বকাপ ফ্রান্স এবং জিদান ভুলে জেতে চাইবে , কারণ হট ফেভারিট হয়ে শুরু করে বাদ পরেছিলো গ্রুপ রাউন্ড থেকেই ,
২০০৬ বিশ্বকাপ – কিন্তু তার আগেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছেন জিদান। সেবার ফ্রান্স অনেক কষ্টে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে। কোচের ডাকে দেশের টানে দলের এই অবস্থায় শেষ মুহূর্তে অবসর ভেঙে আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন জিদান এবং পুরো বিশ্বকাপে সবাইকে চমকিয়ে দিয়ে ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলে দেন ,
স্পেনের বিপক্ষে নিজে গোল করলেন, প্যাট্রিক ভিয়েরাকে দিয়ে আরেকটি করালেনও।
কোয়ার্টার ফাইনালে এসে আবার সেই ব্রাজিলের মুখোমুখি। সারা বিশ্ব বিমুগ্ধ নয়নে প্রত্যক্ষ করলো চরম উৎকর্ষময় ফুটবলের প্রদর্শনী। নাম ভূমিকায় সেই চিরচেনা জিজু। সেই নেশা ধরানো ড্রিবলিং, হঠাৎ নেয়া পায়ের মোচড়ে ডিফেন্ডারদের ছিটকে ফেলা, ডিফেন্স চেরা নিঁখুত পাস , জিদান যেন তার তূণের সব অস্ত্রের প্রদর্শনীতে নামলেন সেদিন , আবারো জিদানের কাছে অসহায় ব্রাজিল , ব্রাজিলের কাছে এক আতংকিত নাম হচ্ছে জিদান
সেমিফাইনালে ফ্রান্স মুখোমুখি হলো পর্তুগালের। জিদানের নেয়া পেনাল্টি আবারও ফ্রান্সের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করলো। কিন্তু ফাইনালে বিতর্কিত আচরণের কারণে তীব্র লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় জিদানকে , ফ্রান্স ও সেদিন হেরে গেলেন টাইব্রেকারে, সেদিন কেদেছিলো পুরো বিশ্ব , ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জিদানকে তার দেশের হিরো হিসাবে ঘোষণা দেন ।
ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপে –
প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ঠিক দুই বছর পরই ফ্রান্সের ঘরে ওঠে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নশীপের ট্রফি। যার মূলে ছিলেন জিনেদিন জিদান। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে নিলেন এক অসাধারণ ফ্রি কিক, আর সেমিফাইনালে গোল্ডেন গোল করে দলকে ওঠালেন ফাইনালে।
সম্মাননা ও অর্জন:
১৯৯৮ সালে জিদান জিতে নেন ব্যালন ডি’অর এবং সাথে ফিফা ওয়াল্ড প্লেয়ার ,
২০০৪ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন জিদানকে বিশ্বের ৪২ তম সর্বোচ্চ সম্মানীপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করে।
২০০১ সালে ইউএনডিপির “দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” বিষয়ক কর্মসূচির জন্য জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত হন।
বিশ্বের মাত্র ২৫ জন খেলোয়াড়ের সৌভাগ্য হয়েছে ক্যারিয়ারে চ্যাম্পিয়নস লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরো এবং কনফেডারেশনস কাপ – এই চারটি বড় শিরোপা জেতার। জিদান তাঁদের মধ্যে একজন।
কিছু গ্রেট দের উক্তি দিয়ে শেষ করছি আজকে এই লিজেন্ড কে নিয়ে আমার এই ছোট্ট লিখাটি,
?’ ফুটবলের প্রথম সুপারস্টারদের একজন স্টেফানো বলেছেন, ‘জিদান ইজ এ ওয়াকিং স্পেকটেক্ল। ওর পায়ের পাতায় জাদু আছে এমন একজনের খেলা দেখতে স্বশরীরে স্টেডিয়ামে যেতে মন চায়।
টানা তিনবার ‘ইউরোপিয়ান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জেতা মিশেল প্লাটিনি আরও স্পেসিফিক,ভাবে বলেছেন ,
? ‘ফুটবলের ফান্ডামেন্টালস হলো কন্ট্রোল অ্যান্ড পাসিং। বল কন্ট্রোল ও রিসিভ করার ব্যাপারে জিদানের তুলনীয় কেউ নেই।’
;;;;The master Among masters
The giant Among giants ;;;
my opinion –
Can do absolutely anything, probably the most complete player ever and graceful to the point has almost angelic. he doesnt run, he glides. he doesn’t try, he does. he doesn’t sweat, hes never rushed, he controls everything.
???
zidane was a ultimate pro similar to roger fedear even though they are from two completely different sports for me they both have professionalism that makes them just so much better than the rest. ;
এখন তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ; খেলোয়াড় জীবনের মত কোচিং ক্যারিয়ারে কতটুকু সফল হন সেটাই দেখার বিষয়Capture

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 + 16 =