দেখুক সারা দুনিয়াটা, আমরাও পারি!

দুর্দান্ত ব্যাটিঙে পাকিরা দিশেহারা,
নাচে গ্যালারি।
তামিম ইমরুল দেখিয়ে দিলো,
আমরাও পারি!!
আমরা নাকি টেস্ট খেলতে পারিনা। পাকিস্তানের ইউনিস খান একবার বলেছিলেন আমাদের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে আফগানদের দিয়ে দিতে। খুলনা টেস্টে মাঠেই ছিলেন ঐ খান। তা খান সাহেবকে আমার একটা প্রশ্ন করার ছিল, এবার তাদের ওয়ানডে স্ট্যাটাসটা কেড়ে নিয়ে হল্যান্ডকে দিয়ে দেওয়া উচিত কিনা! যেভাবে পাকিস্তান হারলো ওয়ানডেতে, তাতে তো এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। টেস্টে হাফিজের প্রথম দ্বিশতক আর আমাদের বোলারদের হাতেমতাই মার্কা বোলিঙে পাকিরা জবাব দিচ্ছিল ভালোই, কিন্তু তাদের প্রথম জয়ের স্বপ্নে কালি মাখিয়ে দিয়েছেন তামিম আর ইমরুল। তামিম ২০৬ রান করে নিজের জাত চিনিয়েছেন, কায়েস আয়েশ করে করেছেন দেড় সেঞ্চুরি, পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্নকে স্বপ্নই বানিয়ে রেখে পাঁচ সেশন ব্যাট করে টেস্ট ড্র করেছেন লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১২ রানের রেকর্ড ওপেনিং জুটিতে নিজেদের নাম রেকর্ড বইয়ের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন বাংলার দুই বীর সন্তান।
চতুর্থ দিনে যখন ব্যাট করতে নামেন, মাথার উপর ২৯৬ রানের বোঝা। কিন্তু তারা তা বুঝতে দিলেন কই? তাই বলে ভাববেন না প্রতি বলেই ছক্কা হয়েছে, তারা প্রথমে ছিলেন সাবধানী, পড়ে বেলা গড়ানোর সাথে সাথে আক্রমণের ধার বেড়েছে। বাজে বলকে যেমন শায়েস্তা করতে কসুর করেননি, ভালো বল ঠেকিয়েছেন আদর্শ টেস্ট ব্যাটসম্যানের মতো। মাঝে মাঝে নাচতে নাচতে বলকে গ্যালারীতে পাঠিয়ে দর্শকের কোমর দোলানোর সুযোগ করে দিয়েছেন তারা আর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন পাকি বোলারদের মনোবল। চতুর্থ দিনের শেষে ২৭৩ রান করে তারা অপরাজিত, দুজনেই শতক ছুয়েছেন। রান উঠেছে ওভারপ্রতি চারের উপরে। সদ্য ক্রিকেট দেখা দর্শক দলটিকে বাংলাদেশ মনে না করে অস্ট্রেলিয়া মনে করলে তার দোষ দেওয়া যায়না! অস্ট্রেলিয়াই টেস্টে ঢিমেতালে খেলাকে প্রথম বিদায় দিয়ে ধুমধাম মেরে খেলত।
পরের দিন সেই একই মেজাজে ব্যাটিং চলতে থাকলো। তামিম ইয়াসির শাহ্‌কে পরপর দুটি চার আর জুনায়েদ খানকে ছক্কার জ্বালায় জ্বালিয়ে দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ডবল সেঞ্চুরি করলেন। এর মধ্যে মিসবাহ অজস্র বার ফিল্ডিং পালটালেন, বোলার বানিয়ে দিলেন প্রায় সবাইকে, তবুও ৩১২ রানে কায়েস ছক্কা মারতে গিয়ে ফিরে গেলেন নিজের ১৫০ করে, তাতেই যা মুখরক্ষা হোল তার!
শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৫৫৬ রান করে খেলা ড্র করে বাংলাদেশ। পরিস্থিতির দাবী মিটিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য, সাকিব সবাই। সাকিব সত্তরের ঘরে গিয়ে অপরাজিত থাকলেন। শেষ বিকেলে ওয়াহাব রিয়াজের আঙ্গুল উঁচিয়ে তেড়ে যাওয়া আর সমান তালে সাকিবের জবাব একটি কথাই বুঝিয়ে দিচ্ছিল- আমরা এখন কাউকে ভয় করিনা! আমরাও জবাব দিতে পারি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 + eighteen =