ভয় মেশানো শুভকামনা তিতের জন্যে

বেশিরভাগ কোচ এখনকার দিনে তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো সময়টায় কোন জাতীয় দলের দ্বায়িত্বটা নেয় না। অনেকদিন পরে পরের বড়সড় টুর্নি ছাড়া এই চাকরিটা আসলে পার্টটাইম জবের মত। যতোটা না কোচ, তার চেয়ে বেশি মেন্টর। আর কাজটা অনেক বড় অংশে এনালিস্ট এর। এক মাস দুই মাস ৮/৯ টা ম্যাচ দেখে বড়জোড় একটা বা দুইটা ম্যাচের জন্যে দল বানানো।

এখন এখানে একটা কথা বলে নেওয়া দরকার। স্ট্যাবল দলগুলোর এক/দুই ম্যাচের দলই সামনের এক / দুই বছরের জন্যে খেলে। তবে ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দুইটি দলই আসলে সে অর্থে স্ট্যাবল না গত তিন/ চার বছরের দল সিলেকশন হিসাব করলে। আর্জেন্টিনা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ফ্রন্টলাইনের সাপ্লাই থাকায় তবু মোটামুটি একটা দলই খেলাতে পেরেছে। আর অন্যদিকে ব্রাজিল মিনেইরোর ভরাডুবির পরে নতুন কোচ দুঙ্গার অধীনে না পেয়েছে একটা দিনের পর দিন খেলানোর মত ফ্রন্টলাইন, না পেয়েছে একটা ভালো সেন্টারব্যাক ডুয়ো, না পেয়েছে ভালো একটা জমাট মিডফিল্ড। সে দিক থেকে দেখলে গত দুই বছরে দুঙ্গা মোটামুটিভাবে ১ মাস/ দেড়মাস পরে পরে যে দল সাজিয়েছেন, সেটা শুধুমাত্র ঐ দুই ম্যাচের জন্যেই।
কাজটায় দারুন অস্থিরতা আর সাথে সাথে অনিশ্চয়তা।

শুধু ফ্রন্টে দেখুন আর্জেন্টিনার সাথে ফ্রেন্ডলিটার পরে মানুষ তারদেল্লির নাম নিয়েছে কয়েকদিন, তারপরে রিকার্দো অলিভিয়েরা, আবার দুঙ্গার শেষ ধুঁকে ধুঁকে চলার কয়েকটা দিনে গ্যাবিগোলদের দিয়ে চেষ্টা করা। বদল বদল আর বদল! যে হানিমুনটা দুঙ্গা কর‍তে পেরেছেন সেটা তিতে পাচ্ছেন না। গত কয়েক বছরে নিয়োগ পাওয়া ব্রাজিল কোচদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন জায়গা থেকে শুরু করছেন তিতে। মেনেজেস পেয়েছিলেন অনেকগুলো ফ্রেন্ডলি আর কোয়ালিফাইং রাউন্ড নিয়ে না চিন্তা করার স্বাধীনতা। স্কোলারির কাঁধে ছিলো সম্ভাবনাময় এক দলের কাছ থেকে আরো কার্যকর ম্যাচ পারফরমেন্স আর এন্ড প্রোডাক্ট বের করার চাপ। দুঙ্গার কাছে ছিলো একবার পোড় খাবার অভিজ্ঞতা আর একটা নিজের দল বের করার সময়।

গত কয়েক বছর ধরে লুইজ- সিলভা ডুয়োর পরে আমরা স্থায়ী ব্যাকলাইন পাইনি। ফুলব্যাকে যে-ই নামছে, এক ফেলিপে লুইস ছাড়া কেউই দিনের পর দিন এক নম্বর স্টার্টার হবার মত খেলতে পারে নি ৩ মাসও। গুস্তাভোর মধ্যে ফ্রেন্ডলিতে যে সলিড ডেস্ট্রয়ারকে সেলেকাওরা পেয়েছিলো, সেটা উঁবে গেছে আস্তে আস্তে। এখন স্বপ্ন ক্যাসেমিরোকে নিয়ে। সব মিলিয়ে তিতের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো একটা দল দেওয়া। যে দলটা ২০১০ এর দুঙ্গার আগের টার্মে মোটামুটি ছিলো। তারপরে?? আস্তে আস্তে দেখা গেছে প্রতি ম্যাচের দলে নতুন নতুন মুখ আসছে। অচেনারা আসছে, অস্বীকৃতেরা আসছে। এই অনিচ্ছাকৃত রোটেশনের ধারা থেকে বাঁচুক ব্রাজিল তিতের মাস্টারস্ট্রোকে। আপাতত সামনের দুটো ম্যাচে এটাই চাওয়া।

বাস্তবতার দিকে তাকালে ভয় লাগে। প্রথম ম্যাচটাই এওয়ে। এওয়ে বলতে সাধারণ এওয়ে নয়। সমুদ্রপপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ মিটার উঁচুতে ইকুয়েডরের কীটো। ফুটবল খেলা এসব জায়গায় কঠিন, এওয়ে হয়ে খেলা আরো কঠিন। সেটা ২০১০ এর কোয়ালিফায়ারে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা টের পেয়েছিলো। এর সাথে মাথায় রাখুন, একজন কোচ যিনি এর আগে কখনোই এত বড় লেভেলে কোচিং করান নি। নির্ভরতার জায়গা থেকে চীনে খেলা পলিনহোকে ডাকার মত রক্ষণাত্মক আর সমালোচিত সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হয়েছে। অলিম্পিকে ফিরে পাওয়া বিশ্বাসের পালে হাওয়া লাগানোর জন্যে সম্ভাব্য সবচেয়ে কঠিন ম্যাচটাই ফুটবল ঈশ্বর বেছে রেখেছেন পেলের দেশ ব্রাজিলের জন্যে। প্রথম ম্যাচটাই কম্পিটিটিভ খেলাটাই কঠিন। তার উপরে আবার এমন সময়ে যখন ব্রাজিল ধুঁকছে ডিসকোয়ালিফাইং জোনে।

তিতে না পাবেন দুঙ্গার মত এক অনেকগুলো পিকনিক ম্য়াচ খেলার সময়, না পাবেন স্কোলারির মত ক্য়ারিয়ারের পিকে থাকা এক দল তরুণ খেলোয়াড়কে। একমাত্র আশার আলো বলতে অলিম্পিক থেকে ফিরে পাওয়া একদম অল্প একটু আশার পালে হাওয়া আর অনেক অনেক অল্প সময় ধরে টিকে থাকা সাপোর্টটুকু । আশার পারদ জমতে জমতে সেটা সাপোর্টে পরিণত হয়েছে। যত দ্রুত সাপোর্ট পেয়েছে, হারাতেও হবে ততোই দ্রুত । তিতে যেখান থেকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটির চার্জ নিলেন এখান থেকে রাজা বা ফকির হওয়া যায়। জিতলেও সব জেতা. খোয়ালেও সব খুইয়ে বসা….মাঝামাঝি কিছু নেই।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

12 − 10 =