দ্য ওয়াল-টার স্যামুয়েল

আর্জেন্টাইন ফুটবল আর ভালো মানের ডিফেন্ডার, ব্যাপারটা কেমন যেন উড়তে না পারা পাখির মতন,একদমই বেমানান। সেই ফুটবল শুরুর প্রথম থেকেই, অনেক নামি-দামি টেলেন্টেড মিডফিল্ডার কিংবা স্ট্রাইকার এসেছে সাউথ আমেরিকান দেশটি থেকে।কিন্তু ডিফেন্স লাইনের অবস্তা ছিল জঘন্য। কিংবদন্তি প্যাসারেলা,অস্কার রুগারি,আলবার্তো ট্যারান্টিনি,আল্ফিও বাসিলে,আর্জেন্টাইন সর্বকালের সেরা লেফট ব্যাক সিলভিও মারজোলিনি,রবার্তো পারফুমো,হোসে লুইস ব্রাউন ছিলেন উল্লেখযোগ্য ডিফেন্ডার।এরপরের যুগের রবার্তো আয়ালা,হুয়ান পাবলো সরিন,ফেব্রসিও কলোচ্ছিনি,গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ,গ্যারায় আর সর্বকালের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক জানেত্তি। বলতে গেলে আর্চরাইভাল ব্রাজিলের ধারেকাছেও নেই আকাশি সাদারা। আজকে এমন এক আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের কথা বলব যার প্রাইম টাইমে তিনি ছিলেন অন্য কারো ধরাছোয়ার বাইরে,এরিয়াল,গ্রাউন্ড কোনোটাতেই ছিল না ঘাটতি।তার সময়কালীন ছিলেন ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট।

ওয়াল্টার আদ্রিয়ান লুয়ান স্যামুয়েল,১৯৭৮ সালের ২৩ মার্চ জন্ম নেন আর্জেন্টিনার লাবোর্দো শহরে। ১৯৯৬ এ ঘরোয়া ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েসের হয়ে শুরু করেন ফুটবল ক্যারিয়ার। একবছর পরেই যোগ দেন আর্জেন্টাইন বিখ্যাত ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে।২০০০ সাল পর্যন্ত খেলেছেন বোকার হয়ে।১০৩ ম্যাচে ৫ গোল।ওইবছরই ইতালিয়ান জায়ান্ট রোমা ২০ মিলিয়ন ইউরোতে কিনে আনেন স্যামুয়েলকে।এক সিজন পরেই জিতেন স্কুডেত্তো। ২০০৪ এ নাম লেখান গ্যালাক্টিকোদের হয়ে,২৫ মিলিয়ন ইউরোতে আসেন রিয়াল মাদ্রিদে।তেমন কিছু করতে পারেননি স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে।২০০৫ আবার চলে আসেন সিরি য়াতে, এবার নাম লিখান আরেক বিখ্যাত ক্লাব ইন্টার মিলানের হয়ে।৪ বছরের চুক্তি হয় ১৬ মিলিয়ন ইউরোতে।ইন্টারের হয়ে গুছিয়ে নিতে প্রথমে সময় নিলেন বেশ কিছুদিন।দলে জায়গা পাকাপোক্ত করেন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর আন্ডারে।অবশ্য এর আগে ডার্বিড্যালা ম্যাদোনিয়া যেটাকে আমরা সবাই মিলান ডার্বি নামেই চিনি এক ম্যাচে, ফর্মের তুংগে থাকা ব্রাজিলিয়ান প্লেয়ার কাকাকে মার্কিং এর দায়িত্বও পেয়েছিলেন।সেম্যাচেই ইঞ্জুরিতে পড়েন এবং ফিরতে লেগে যায় অনেকদিন।

২০০৯-১০ সিজনে ট্রেবলজয়ী ইন্টারের ছিলেন একেবারে অপরিহার্য সদস্য।নয় সিজন ইন্টারের হয়ে খেলার পরে যোগ দেন সুইস ক্লাব বাসেলে।সুইস ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন বেশকিছু শিরোপাও। জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৯-২০১০ এই সময়ে খেলেছেন ৫৬ টি ম্যাচ,করেছেন ৫ গোলও।২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন। প্লেয়ার হিসেবে কেমন ছিলেন স্যামুয়েল? এই প্রশ্নের জবাবে ইন্টার লিজেন্ড ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের জানেত্তি বলেন,”he’s the toughest player I have ever played with”. আক্রমণাত্মক, শক্তিশালী, দুরন্ত এবং বেশ দ্রুতগতি সম্পন্ন ছিলেন।এরিয়াল এবিলিটও ছিল যথেষ্ট ভালো।ডিফেন্স এ যেমন ভালো ছিলেন,তেমনে হেডেও বিপক্ষ দলের জন্যে আতংকের নাম ওয়াল্টার স্যামুয়েল।টাইট মার্কিং,ভিশন,হার্ড ট্যাক্লিং এসবও ছিল উনার ডিফেন্সিভ স্কিলের অংশ,একেবারে পারফেক্ট ডিফেন্ডার। এল মুরো,”দ্যা ওয়াল ডাকনাম তো আর শুধু শুধুই পাননি। ইঞ্জুরি ক্যারিয়ারটাকে বেশি বড় করতে দেয় নি,করতে পারলে হয়তবা “এল মুরো” থেকে “এল ফুয়ের্তে ” কে পেত ফুটবলপুজারীরা। জন্মদিনে ওয়াল্টার স্যামুয়েলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eleven − 7 =