ওয়াকারেই রাইটব্যাক সমস্যার সমাধান ম্যানচেস্টার সিটির?

গত মৌসুমটা ছিল ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলার প্রথম মৌসুম। এ মৌসুমে দলের ফুলব্যাকদের নিয়ে বেশ ভুগেছেন তিনি, কারণ কেউই তাঁর মতাদর্শের সাথে যান না ঠিক। ডানদিকে পাবলো জাবালেতা, বাকারি স্যানিয়া, পাবলো ম্যাফেও কিংবা বামদিকে অ্যালেক্সান্দার কোলারভ, গায়েল ক্লিশি – কেউই গার্দিওলাকে তাঁর মনমত পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেননি। ফলাফল, এই মৌসুমে এই চারজনের মধ্যে তিনজনকেই (ক্লিশি, জাবালেতা ও স্যানিয়া) ক্লাব থেকে বের হবার দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন গার্দিওলা। ফলে ম্যানচেস্টার সিটিতে দেখা গেছে ফুলব্যাক সংকট, ক্লাবের জন্য আদর্শ ফুলব্যাক ও তাদের যোগ্য ব্যাকআপ কেনার জন্য এবার প্রথম থেকেই সক্রিয় ম্যানচেস্টার সিটি। এই সক্রিয়তার প্রথম ধাপ হিসেবে সবচেয়ে বেশী দামের ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে শত্রুশিবির টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে রাইটব্যাক কাইল ওয়াকারকে দলে টানলো তারা, ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে!

তবে ওয়াকার কিন্তু কোচ পেপ গার্দিওলার মূল পছন্দ ছিলেন না, সিটির মূল রাইটব্যাক হিসেবে গার্দিওলার প্রথম পছন্দ ছিলেন সাবেক শিষ্য ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানি আলভেস। ফ্রি ট্রান্সফারে হয়ত তাঁকে আনাটাও কোন ব্যাপারই ছিল না, কিন্তু বাধ সাধে ফরাসী চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। দানি আলভেসকে প্রতি সপ্তাহে ২ লক্ষ ৪০ হাজার পাউন্ড বেতনের প্রস্তাব দিয়ে তাঁর মাথা ঘুরিয়ে দেয়, যেখানে সিটি ‘মাত্র’ এক লক্ষ ১৫ হাজার পাউন্ড দিতে চেয়েছিল সপ্তাহপ্রতি। তাই নিজের দ্বিতীয় পছন্দ কাইল ওয়াকারের দিকেই হাত বাড়াতে হয় গার্দিওলাকে। বিষয়টা বুঝেছিল টটেনহ্যামও, যে এখন কাইল ওয়াকার ছাড়া গার্দিওলার হাতে আর কোন বিকল্প নেই, তাই সুযোগ বুঝে টটেনহ্যামের ধুরন্ধর চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভী ওয়াকারের দাম দাবি করেন আকাশচুম্বী! ফলে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী দামী ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবেই ম্যানচেস্টার সিটিতে যাচ্ছেন কাইল ওয়াকার, ভেঙ্গেছেন রাহিম স্টার্লিংয়ের রেকর্ড, কাকতালীয়ভাবে যে স্টার্লিংও এখন সিটিতেই খেলেন, বছর দুয়েক আগে লিভারপুলকে ৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে এই স্টার্লিংকে দলে নিয়ে এসেছিল ম্যানচেস্টার সিটি।

২৭ বছর বয়সী এই রাইটব্যাক ইংল্যান্ড জাতীয় দলের মূল রাইটব্যাকও বটে। গত মৌসুমে টটেনহ্যামের হয়ে ৩১ টা লিগ ম্যাচে মূল একাদশে ছিলেন তিনি। ডিফেন্ডার হিসেবে গত মৌসুমে সবচাইতে বেশী গোলসহায়তাও করেছিলেন তিনি, পাঁচটি। পুরো মৌসুমে ৭৫টার মত সফল ড্রিবল করে জানিয়ে দিয়েছেন ড্রিবল করায় তাঁর আগ্রহের কথা। বল পায়ে দক্ষ এই ডিফেন্ডার খেলতে পছন্দ করেন লম্বা লম্বা পাস দিয়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজ দলের কাছে থাকলে ওয়াকার প্রায়ই উপরে উঠে মিডফিল্ডের সাথে যুক্ত হতে চান, কাটিন করে মাঝে চলে আসেন। ম্যানচেস্টার সিটির প্রত্যেকটা ফুলব্যাক থেকে ওয়াকারের সফল ক্রস, ফ্রিবল, গোলসহায়তা, ট্যাকলের পরিমাণ, গোলের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিমাণ অনেক বেশী। গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির চারজন ফুলব্যাক সাকল্যে একটা মাত্র গোলসহায়তা করতে পেরেছিলেন, যেখানে ওয়াকারের একারই গত মৌসুমে গোলসহায়তা ছিল পাঁচটি। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে তাদের নিজ নিজ পজিশান থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা ক্ষমতা আছে ওয়াকারের, যে কারণে মাঝখানে কেভিন ডে ব্রুইনিয়া ও ডেভিড সিলভার মত তারকারা আরও বেশী জায়গা পাবেন আক্রমণ করার জন্য।

গত ছয় মৌসুমে টটেনহ্যামের হয়ে খেলেছেন ২২৯টার মত ম্যাচ। দুইবার লিগের বর্ষসেরা দলেও জায়গা পেয়েছেন।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 4 =