ভার্জিল ভ্যান ডাইক নাটক : কি হচ্ছে আর কী-ই বা হতে পারে

দলবদলের বাজারের শুরু থেকেই ইংলিশ ক্লাব সাউদাম্পটনের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইকের প্রতি আগ্রহী ছিল লিভারপুল, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটির মত বাঘা বাঘা ক্লাবগুলো। সুযোগ বুঝে সাউদাম্পটনও ভ্যান ডাইকের দাম হাঁকিয়েছিল আকাশছোঁয়া। ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড হবে মূল ট্রান্সফার ফি, সাথে অন্যান্য ফি ও বোনাস মিলিয়ে যেটা কিনা প্রায় ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে গিয়ে ঠেকবে। যেকোন ডিফেন্ডারের জন্যই ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী ফি হবে যেটা। সোজা কথা, ভ্যান ডাইককে কিনতে হলে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী ডিফেন্ডার বানিয়েই নিয়ে যেতে হবে, সোজাসাপ্টা কথা ছিল সাউদাম্পটনের। ভালো কথা, তিন আগ্রহী ক্লাবই সেই আকাশছোঁয়া ট্রান্সফার ফি দেওয়ার জন্য আগ্রহীই ছিল। এমনকি ভ্যান ডাইকের সাথে সাপ্তাহিক বেতনের বিষয়টাও পাকাপাকি করা হয়ে গিয়েছিল লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসির। সাপ্তাহিক দুই লাখ পাউন্ড বেতনে খেলবেন ভ্যান ডাইক, সেটা উনি যে ক্লাবেই যান না কেন।

বাকী ছিল শুধু ভ্যান ডাইকের পছন্দের বিষয়টা। যেহেতু তিন ক্লাবই সাউদাম্পটন ও ভ্যান ডাইকের সকল দাবি-দাওয়া মেনে নিতে আগ্রহী, তাই এখন ভ্যান ডাইকের উপরে ছিল সবার নজর, কোথায় তিনি খেলতে চান সেটা জানার জন্য। সেই সমস্যাটার সমাধানও হয়ে গেছিলো, লিভারপুলে খেলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ভার্জিল ভ্যান ডাইক।

কিন্তু এখানেই নাটকের শেষ হয়নি। সাউদাম্পটন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুদিন আগে অভিযোগ করে বসলো যে তাদেরকে না জানিয়েই ভ্যান ডাইকের সাথে যোগাযোগ করে দলবদলের ব্যাপারে সবকিছু পাকাপাকি করে ফেলেছে লিভারপুল!

অভিযোগটা অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতই এসেছিল, কেননা আজকালকার সময়ে দলবদলের ক্ষেত্রে প্রায় সব ক্লাবই আগে খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করে দেখে খেলোয়াড় ক্লাব বদল করতে ও উক্ত নতুন ক্লাবে যেতে আগ্রহী কি না, কিংবা আগ্রহী না করলেও আগ্রহী করানোর জন্য নতুন ক্লাবের কি কি করা লাগবে, যেটা অস্বাভাবিক কিছুই না। এবং এহেন কাণ্ডের জন্য কেউ অভিযোগও করে না। কারণ জিনিসটা করা অবৈধ হলেও যেহেতু কাজটা সবাই-ই করে, নতুন করে অভিযোগ করার কোন দরকার নেই। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করলে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ চাইলে অভিযুক্ত ক্লাবকে শাস্তি দিতে পারে – সেটা হতে পারে এক-দুই মৌসুমের জন্য ট্রান্সফার ব্যান, কিংবা বিশাল কোন অর্থদণ্ড। পুরো নাটকে আরেকটু মশলা মেশাতেই যেন গতকালকে নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে সাউদাম্পটন কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে একরকম ঘোষণা দিয়ে ভার্জিল ভ্যান ডাইকের ওপর থেকে সকল আগ্রহ “প্রত্যাহার” করে নিল। অর্থাৎ ভার্জিল ভ্যান ডাইককে আর কিনতে চায় না লিভারপুল, তাদের বিরুদ্ধে সাউদাম্পটনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে।

কিন্তু এমন কি হল এই এক দিনের মধ্যে যাতে লিভারপুলকে একেবারে রাতারাতিভাবে অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে খেলোয়াড়ের ওপর থেকে সকল আগ্রহ ‘প্রত্যাহার’ করতে হল? সবাই চোখ বন্ধ করে হা-হুতাশ করছেন, বিশেষত বিশ্বব্যাপী লিভারপুলের সমর্থকেরা, দোষ দিচ্ছেন লিভারপুলের মালিকপক্ষ এফএসজি (ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ) কে। তাদের অবহেলার কারণেই ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম ন্যাক্কারজনক ঘটনাটা ঘটলো বলে তাদের বিশ্বাস।

তবে সমস্ত বিষয়টাকে একটু অন্যভাবে দেখা যাক। গত কয়েক মৌসুমে সাউদাম্পটন থেকে ন্যাথানিয়েল ক্লাইন, অ্যাডাম লালানা, সাদিও মানে, দেয়ান লভরেন, রিকি ল্যাম্বার্টের মত খেলোয়াড়েরা ক্লাব বদল করে লিভারপুলে এসেছেন। এই গত কয়েক মৌসুমে সাউদাম্পটন থেকে লিভারপুলে খেলোয়াড় আসার হার এতটাই বেশী ছিল যে অনেকেই সাউদাম্পটনকে লিভারপুলের ‘বি’ দল কিংবা ‘অ্যাকাডেমি’ দল কিংবা ‘ফিডার’ ক্লাব বলে ডাকা শুরু করেছিলেন। সে হিসাবে দলবদলের বাজারে দুই দলের সুসম্পর্ক থাকার কথা। কিন্তু এমন কি হল যার কারণে সাউদাম্পটন এরকম ব্যবহার করলো ভার্জিল ভ্যান ডাইকের বেলায়?

একটু গভীরে যাওয়া যাক। সাউদাম্পটনের বর্তমান মালিক ক্যাথারিনা লিবহার। যিনি জার্মান বংশদ্ভুত সুইস ব্যবসায়ী মার্কাস লিবহারের কন্যা। ২০১০ সালে মৃত্যুর সময় কন্যাকে উইল করে সাউদাম্পটন ক্লাবসহ বেশকিছু সম্পত্তি দিয়ে গিয়েছিলেন, তাই উত্তরাধিকার সূত্রেই মালিক হয়েছেন ক্যাথারিনা। এখন জার্মান ট্যাক্স অথরিটি খোঁজ নিয়ে বের করেছে ক্যাথারিনার বাবা মার্কাস নিজেকে সুইজারল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে দেখালেও আসলে তিনি জার্মানিতেও অনেক বছর থেকেছেন, আর জার্মানিতেও তাঁর অনেক সহায়সম্পত্তি আছে, যার জন্য কোন ট্যাক্স তিনি জার্মান কর্তৃপক্ষকে দেন নি। ফলে এই দায় এসে পড়েছে ক্যাথারিনার উপর। আর বর্তমানে ৩০০ মিলিয়নের সম্পত্তির মালিক ক্যাথারিনার ক্লাব সাউদাম্পটনের দামই ২০০ মিলিয়ন, ফলে ট্যাক্সের বেড়াজালে ক্যাথারিনা আটকালে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রভাবটা সাউদাম্পটনের উপরেও পড়বে। ফলে হয় ট্যাক্স দেওয়ার জন্য তাঁর যথেষ্ঠ টাকা লাগবে, নাহয় সাউদাম্পটনকে বিক্রি করতে হবে। বহুদিন ধরেই সাউদাম্পটনকে বিক্রি করার জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজছেন ক্যাথারিনা, চাইনিজ কোম্পানি ল্যান্ডার স্পোর্টস ডেভেলপমেন্টের সাথে ১৯০ মিলিয়ন দিয়ে সাউদাম্পটনকে বিক্রি করে দেওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তাও চলছে তাঁর, কিন্তু এখানে সমস্যা হল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ল্যান্ডার স্পোর্টস ডেভেলপমেন্টের মালিক গাও জিনশেং এর দুর্নীতি সম্বন্ধে অবগত, ফলে চাইলেও বিক্রি করতে নাও পারেন ক্যাথারিনা।

ক্যাথারিনা লিবহফ

বলে রাখা ভালো, জার্মান কর কর্তৃপক্ষ প্রায়ই এভাবে বড় বড় রাঘব-বোয়ালদেরকে পাকড়াও করে থাকে ট্যাক্স আদায় করার জন্য। যাতে একটা উদাহরণ কায়েম করা যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে, তাদেরকে ট্যাক্স প্রদান করতে উৎসাহিত করার জন্য। ২০১৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখের বর্তমান চেয়ারম্যান উলি হোয়েনেসকে এভাবে ট্যাক্স জালিয়াতির অভিযোগে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল তারা, যে ঘটনার জের ধরে আরও প্রায় ছাব্বিশ হাজার জার্মান নাগরিক ট্যাক্স প্রদানে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। ক্যাথারিনা-মার্কাসের ঘটনাটাও অনেকটা সেটাই।

সেক্ষেত্রে ক্যাথারিনার সামনে উপায় থাকে একটা, সেটা হল ট্যাক্সের বেড়াজালে আবদ্ধ হলে সেই ট্যাক্স সুন্দরমত দিয়ে দেওয়া। এবং সেই কারণেই সাউদাম্পটন থেকে এবার যত খেলোয়াড় বিক্রি হবে, সবার জন্যই আকাশচুম্বী দাম চাইবে তারা। তারা ভেবেছিল, ভ্যান ডাইকের দাম ৫০ মিলিয়ন বললে ওদিকে তিন ক্লাব লিভারপুল, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি ভ্যান ডাইককে নিয়ে একটা কাড়াকাড়ি লাগিয়ে দেবে, ফলে ৫০ মিলিয়ন থেকেও ভ্যান ডাইকের দাম বেড়ে যাবে আরও বহু-বহুগুণ!

কিন্তু ঝামেলা বাঁধল ভার্জিল ভ্যান ডাইক নিজেই লিভারপুলে যেতে চাওয়াতে। ভ্যান ডাইকের আগ্রহটা এভাবে প্রকাশিত হবার ফলে চেলসি বা সিটি কেউই আর লিভারপুলের সাথে ট্রান্সফার ফি নিয়ে নিলাম করতে চাইলোনা, ভ্যান ডাইকের দামও আর বাড়লো না – ক্ষুব্ধ হল ক্যাথারিনা গং। ফলে তাদের হাতের শেষ তুরুপের তাসটা তারা চাললো লিভারপুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনে। যাতে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লিভারপুলের কাছ থেকে আরও বেশী টাকা আদায় করা যায়। ওদিকে এভাবে অভিযোগ করলে সবার কাছে এটাও অভিযোগ হবে যে আসলে ভ্যান ডাইকই ক্লাব ছাড়তে চাইছে, সাউদাম্পটন ছাড়তে চাচ্ছে না। ফলে ভ্যান ডাইকের কাছ থেকে একটা ট্রান্সফার রিকোয়েস্টও আদায় করা যাবে (খেলোয়াড় যে জিনিসটা ক্লাবকে দিলে ক্লাব খেলোয়াড়কে ছাড়তে বাধ্য থাকে, এবং খেলোয়াড়ের ক্লাবের প্রতি আনুগত্য বাবদ অতিরিক্ত “লয়্যালটি বোনাস”ও দেওয়া লাগেনা ক্লাবকে)। লয়ালটি বোনাস খেলোয়াড়কে না দেওয়া মানে আরও কিছু মিলিয়ন পাউন্ড সাউদাম্পটনের বেঁচে যাবে, আরও কিছু লাভ হবে।

এ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল। কিন্তু নাটকের সর্বশেষ মোড় আসলো কাল রাতে, নিজেদের ওয়েবসাইটে সাউদাম্পটন মালিকপক্ষ ও সমর্থকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে ভ্যান ডাইকের ওপর থেকে সকল আগ্রহ প্রত্যাহার করে নিল লিভারপুল, জানিয়ে দিল ভ্যান ডাইককে কেনার ব্যাপারে আগ্রহী নয় তারা আর। এর ফলে দুটো লাভ হল –

  • লিভারপুলের ক্ষমা চাওয়া মানে তারা সাউদাম্পটনের অভিযোগ ‘স্বীকার’ করেছে। অস্বীকার যদি করত, আর প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ যদি সাউদাম্পটনের অভিযোগের সত্যতা পেত (যা কিনা সত্যি) তাহলে দলবদলের বাজারে নিষেধাজ্ঞার খড়্গ পড়ত লিভারপুলের ঘাড়ে, নতুন কোন খেলোয়াড় কিনতে পারত না তারা। কিন্তু অভিযোগ স্বীকার করার ফলে জানা গেছে লিভারপুলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেবেনা প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ।
  • ভ্যান ডাইকের জন্য অতিরিক্ত ট্রান্সফার ফি-ও দেওয়া লাগল না
ভ্যান ডাইকের টুইটার বায়ো, যেখান থেকে কিছুক্ষণের জন্য সাউদাম্পটনের নাম-নিশানা মুছে দিয়েছিলেন তিনি

এখন ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকে ঘটনাটা লিভারপুলের জন্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে মনে হলেও অভিযোগ স্বীকার করে লিভারপুল নিজেদের উপর থেকে দলবদলের নিষেধাজ্ঞার ভয়টা তাড়িয়েছে। একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে হয়তোবা আখেরে লাভটা লিভারপুলেরই হবে! কি লাভ হতে পারে সেটা?

কালকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনার বিষয়টা আসার পর থেকেই ভার্জিল ভ্যান ডাইক নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে “plays at Southampton FC” অংশটুকু মুছে দেন। যদিও কিছুক্ষণ পর আবারও অংশটুকু লেখেন, তবুও, তাঁর এই কাণ্ডের মাধ্যমে একটা জিনিসই বোঝা গেল, রাগে ফুঁসছেন ভ্যান ডাইক। প্রিয় ক্লাবে না যেতে পারার যন্ত্রণা তাঁকে পোড়াচ্ছে। এখন দলবদলের জন্য যদি তিনি কার্লোস তেভেজ বা ডুইট ইয়র্কের মত ট্রেনিং বন্ধ করে দেন, খেলতে না চান – সেক্ষেত্রে নূন্যতম ৫০ মিলিয়ন দামের অসুখী এক খেলোয়াড়কে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে পালার ক্ষমতা কি আদৌ আছে সাউদাম্পটনের মত ক্লাবের যেখানে তাদের মালিকই ট্যাক্সের দায়ে জর্জরিত? তারা ত আর রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাব না যারা চাইলেই ৮০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কেনা হামেস রড্রিগেজকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখে, খেলায় না। অর্থাৎ ভার্জিল ভ্যান ডাইককে তাদের বিক্রি করাই লাগবে – সেটা চেলসি হোক বা ম্যানচেস্টার সিটি বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হোক বা আর্সেনাল হোক। এখন কথা হল, যে খেলোয়াড় নিজেই লিভারপুলে খেলার জন্য প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এবং যার দলবদল নিয়েই লিভারপুলের সাথে এত কাহিনী হয়েছে, তাঁকে পাবার জন্য চেলসি বা সিটি আর আগের মত ৫০-৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দিতে চাইবে কি? অবশ্যই না! আর যত কম দেবে, সাউদাম্পটনের তত বেশী লোকসান হবে! তিন বছর আগে দলবদলের বাজারে সুয়ারেজের কামড়-কান্ডের জন্য যেভাবে প্রায় ৩০-৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসান করে তাঁকে বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করেছিল লিভারপুল, ঘটনাটা অনেকটা সেরকমই হচ্ছে। সেবার চাইলেও দলে সুয়ারেজকে দলে রাখতে পারেনি লিভারপুল, আর এবার পারবেনা সাউদাম্পটন। তাহলে লিভারপুলের সুনাম এভাবে ক্ষুণ্ণ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে কি লাভটা হল সাউদাম্পটনের যদি অতিরিক্ত মালপানিই না পায় তারা?

তবে এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলোয়াড়ের উপর থেকে সকল আগ্রহ প্রত্যাহার করে পরে আবার সেই খেলোয়াড়কে দলে টানার নজিরও যে নেই তা কিন্তু না। ২০১২ সালে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভার প্রতি সকল আগ্রহ প্রত্যাহার করে নেওয়ার মাত্র ১২ দিন পরেই সিলভাকে দলে নিয়ে আসে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই, এসি মিলান থেকে।

পিএসজির সেই অফিসিয়াল টুইট

কালকের ঘটনার মত একই ঘটনা ২০১২ সালে ঘটেছিল, তখন অনৈতিকভাবে ক্লাবকে না জানিয়ে খেলোয়াড়ের সাথে যোগাযোগ করার অভিযোগ তুলেছিল ফুলহ্যাম, লিভারপুলের বিরুদ্ধে, তখন মূল চরিত্র ছিলেন ফুলহ্যামের মিডফিল্ডার ক্লিন্ট ডেম্পসি। তখনও এভাবে ক্ষমা চেয়েছিল লিভারপুল, ফলে দলবদলের নিষেধাজ্ঞার খড়্গটা পড়েনি তাদের উপর। কিন্তু শেষমুহুর্ত পর্যন্ত ডেম্পসিকে চেয়েছিল সেবার লিভারপুল, মাত্র কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড না থাকার কারণে শেষমুহুর্তে টটেনহ্যামে নাম লেখান এই আমেরিকান মিডফিল্ডার। অর্থাৎ ডেম্পসি যে তখন লিভারপুলে আসেননি, সেটা কিন্তু ফুলহ্যাম অভিযোগ করেছিল কিংবা লিভারপুল আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল তাঁর জন্য নয়, ডেম্পসি আসেননি কারণ দলবদলের শেষ দিনে ডেম্পসিকে নেওয়ার মত টাকা তাদের ছিল না, শেষদিন বিধায় টাকা যোগাড় করার সময়টাও ছিল না, ফলে ঝোঁপ বুঝে কোপ মারে টটেনহ্যাম। কিন্তু এবার ভ্যান ডাইকের ক্ষেত্রে লিভারপুলের সময়, টাকা সবকিছুই আছে।

এদিকে সাউদাম্পটন কর্তৃপক্ষের সাথে কালকের ঘটনার পর দেখা করতে যাচ্ছেন লিভারপুলের প্রধান নির্বাহী পিটার মুর। অর্থাৎ এখনও লিভারপুলের ভ্যান ডাইককে পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। আর যদি শেষ হয়েও যায়, সেক্ষেত্রে বাজারে আরও অনেক ডিফেন্ডার আছে – নাপোলির কালিদু কোলিবালি, লাজিও স্টেফান ডে ভ্রাই, বার্নলির মাইকেল কিন, রোমার কস্টাস মানোলাস, আয়াক্সের ডেভিনসন স্যানচেজ যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ভ্যান ডাইকের অনেক কম দামে লিভারপুল চাইলেই এদেরকে কিনতে পারে।

পুরো ব্যাপারটাতে লিভারপুলকে আপাতত বুদ্ধিহীন বলে মনে হলেও একটু ভিন্নভাবে দেখলেই বোঝা যায় ব্যাপারটায় লিভারপুল চাইলেই অসাধারণ একটা পাবলিসিটি স্টান্ট করে নিজেদের লাভ করতে পারে সাউদাম্পটনকে ঘোল খাইয়ে। এবং সেটাই যদি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে লিভারপুলের ক্ষতি হচ্ছেনা, হচ্ছে সাউদাম্পটনেরই। কত টাকা দিয়ে অসুখী একটা খেলোয়াড়কে কত লাভ করে বিক্রি করতে পারে তারা, এখন সেটাই দেখার বিষয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × 5 =