গ্রিজম্যান, কোকে, তরেসদের সাথে এবার যোগ দিচ্ছেন ভিতোলো

২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দলবদলের বাজারে নিষিদ্ধ হয়ে বসে আছে স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোন খেলোয়াড়কে তারা নিজেদের ক্লাবের হয়ে রেজিস্টার করতে পারবেনা। কিন্তু তাতেও দমবার পাত্র নন অ্যাটলেটিকোর আর্জেন্টাইন কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। ঠিকই নিজের পছন্দের একটা খেলোয়াড়কে এরই মধ্যে কিনে ফেললেন তিনি। তিনি সেভিয়ার স্প্যানিশ উইঙ্গার ভিতোলো। ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ভিতোলোকে দলে আনল সেভিয়া, দলে বাড়ল আরও একজন উইঙ্গার। কিনেই ভিতোলোকে ছয়মাসের ধারে আরেক স্প্যানিশ ক্লাব লাস পালমাসে পাঠিয়ে দিয়েছে অ্যাটলেটিকো। এই ছয়মাস, যতক্ষণ অ্যাটলেটিকো নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে ভিতোলোর রেজিস্ট্রেশান করতে পারছেনা, ঐ সময়টায় লাস পালমাসের হয়ে ধারে খেলবেন ভিতোলো। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হলে সামনের জানুয়ারিতে অ্যাটলেটিকোর হয়ে মাঠে নামার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন তিনি।

এখানে মজার বিষয় হল, সেভিয়া ভিতোলোর বাইআউট ক্লজ হিসেবে যে ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড দাম হেঁকেছিল, সেই পুরোটা দাম ভিতোলো নিজের পকেট থেকে সেভিয়াকে দিয়ে নিজেকে সেভিয়ার চুক্তি থেকে মুক্ত করেছেন, হয়েছেন ফ্রি এজেন্ট। ফ্রি এজেন্ট হয়েই লাস পালমাসের হয়ে ধার চুক্তি সই করেছেন ছয়মাসের, যে চুক্তি শেষ হয়ে গেলে সামনের জানুয়ারিতে অ্যাটলেটিকোর হয়ে মাঠে নামবেন তিনি। তখনই ভিতোলোকে ঐ ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করবে অ্যাটলেটিকো। অ্যাটলেটিকোর সাথে তাঁর চুক্তি হবে পাঁচ বছরের।

ভিতোলোর খেলার স্টাইল পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় মূলত উইঙ্গার হলেও অনেক পজিশানে খেলতে পারার মত খেলোয়াড় তিনি। মিডফিল্ডের দুই দিকে এমনকি ফুলব্যাক বা উইংব্যাক হিসেবেও খেলার সামর্থ্য আছে তাঁর। সেভিয়ার হয়ে টানা তিন-তিনবার ইউরোপা লিগ জেতা এই উইঙ্গার গত মৌসুমে ছয়টি গোল করার পাশাপাশি ছয়টি অ্যাসিস্টও করেছেন। বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রায়ই ঝলসে ওঠার ক্ষমতা আছে তাঁর, চাপে ভেঙ্গে পড়েন না তিনি। অন্যান্য স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের থেকে তুলনামূলক লম্বা হবার কারণে দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের জন্য তাঁর পারফরম্যান্সে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। বেশ পরিশ্রমী খেলোয়াড়, পুরো নব্বইটা মিনিট একইরকম এনার্জিতে দৌড়ে যাওয়ার সামর্থ্য আছে তাঁর। ফলে অ্যাটলেটিকোর স্টাইলের সাথে বেশ মানিয়ে নিতে পারবেন তিনি। ডান পায়ের এই খেলোয়াড় তাঁর এই সারাক্ষণ দৌড়ানোর অভ্যাসের কারণেই ঝামেলায় ফেলেন প্রতিপক্ষ ফুলব্যাকদের। তাই বল পায়ে অতটা কারিকুরি না দেখাতে পারার দুর্বলতা তিনি তাঁর এনার্জি দিয়েই ঢেকে দেন। খেলার স্টাইলে নেতিবাচক কিছু থেকে থাকলে সেটা হল তাঁর শুটিং এর কম সফলতার হার।

এখন কোকে, তরেস বা গ্রিজম্যানদের সাথে কিভাবে মানিয়ে নিতে পারেন তিনি সেটাই দেখার অপেক্ষা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 − 4 =