ইউনাইটেড মিডফিল্ডে নতুন ইঞ্জিন : নেমানিয়া ম্যাটিচ

গত মৌসুমে এনগোলো কান্তে ত এসেছিলেনই চেলসিতে, সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে সেস ফ্যাব্রিগাস ও নেমানিয়া ম্যাটিচ থাকার পরেও। তারপরেও চলতি মৌসুমে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে চেলসি ফরাসী ক্লাব মোনাকো থেকে দলে নিয়ে এসেছে ফরাসী মিডফিল্ডার তিমুইয়ে বাকায়োকোকে। ফলে দলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩ জনে – কান্তে, ম্যাটিচ আর বাকায়োকো। এই পরিস্থিতিতে এনগোলো কান্তের সাথে কোচ আন্তোনিও কন্তের মূল পছন্দের মিডফিল্ডার যে নতুন আসা তিমুইয়ে বাকায়োকোই হবেন, এটা মোটামুটি সবারই বোঝা হয়ে গিয়েছিল। ফলে দলে সার্বিয়ান সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার নেমানিয়া ম্যাটিচের জায়গাটা ক্রমেই হারাচ্ছিল। আর এই সুযোগটাই নিল চেলসির লিগ-শত্রু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, নিলেন হোসে মরিনহো। চেলসি থেকে সাবেক শিষ্য নেমানিয়া ম্যাটিচকে মোটামুটি ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিয়ে আসছেন তিনি।

চেলসিতে সর্বশেষ যে লিগ টাইটেলটা জিতেছিলেন মরিনহো, সেটা অর্জন করার পেছনে এই নেমানিয়া ম্যাটিচের অবদান প্রণিধানযোগ্য ছিল। সেবারই বেনফিকা থেকে ২১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যাটিচকে চেলসিতে এনেছিলেন হোসে মরিনহো। সেবার প্রতি নব্বই মিনিটে চার-চারটি করে সফল ট্যাকল, দুটোর বেশী ইন্টারসেপশান আর আটটা করে ডুয়েল জিতেছিলেন তিনি। সে মৌসুমে বিশ্বের একরকম শ্রেষ্ঠ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারই হয়ে গিয়েছিলেন ম্যাটিচ। পাশে ম্যাটিচ এসব বল কেড়ে নেওয়ার কাজগুলো ঠিকঠাক করতেন দেখেই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সেস ফ্যাব্রিগাস সেবার সুন্দরভাবে খেলাটা গড়ে দিতে পেরেছিলেন চেলসির হয়ে। যদিও গত দুই মৌসুমে সেভাবে নিজের সেরাটা বের করতে পারেননি ম্যাটিচ, ফলে স্বাভাবিকভাবেই কান্তে ও বাকায়োকোর কাছে জায়গা হারাতে হচ্ছে তাঁকে। আর প্রিয় শিষ্যকেও এই বাহানাতেই নিজের কাছে আরেকবার টেনে আনছেন হোসে মরিনহো।

গতবার ফরাসী মিডফিল্ডার পল পগবাকে বেশ নিচে খেলিয়েছিলেন মরিনহো, যদিও তাঁর মত আক্রমণে উৎসাহী খেলোয়াড়ের প্রতিভাকে এভাবে নিচে খেলানোর মাধ্যমে নষ্ট করার মানে নেই, সেটা বুঝেই মরিনহো এবার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নেমানিয়া ম্যাটিচকে নিয়ে আসছেন যার ফলে পগবা এখন রক্ষণের চিন্তা বাদ দিয়েই আক্রমণে উঠে যেতে পারবেন। ম্যাটিচের জন্য আগ্রহী ছিল ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসও, কিন্তু তারা ম্যাটিচের জন্য ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চেয়ে বেশী দিতে রাজী হয়নি, ওদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রস্তাবটা ছিল ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের।

২০১৪ সাল থেকে প্রিমিয়ার লিগে যে চারজন মিডফিল্ডার সবচাইতে বেশী সফল ট্যাকল করেছেন তাঁদের মধ্যে ম্যাটিচ একজন – বাকীরা হলেন সদ্য সাবেক হওয়া সতীর্থ এনগোলো কান্তে, এভারটনের ঘানাইয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গানা গেয়ে আর টটেনহ্যামের কেনিয়ান মিডফিল্ডার ভিক্টর ওয়ানাইয়ামা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদের মধ্যে একমাত্র বেলজিয়ান মিডফিল্ডার মারুয়ান ফালাইনি ছাড়া সেরকম কেউই জাত-রক্ষণাত্মক বা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নন। পল পগবার প্রতিভাটা আক্রমণেই বেশী, অ্যান্ডার হেরেরা মূলত বক্স-টু-বক্স ভূমিকা পালন করেন, আর অধিনায়ক মাইকেল ক্যারিকের বয়সও বেশী, আর তাঁর ভূমিকাটা ডিফেন্সের সামনে থেকে খেলা গড়ে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত। মারুয়ান ফালাইনি’র বল পায়ে দক্ষতা দিন দিন জঘন্য হচ্ছে, ৪-২-৩-১ ফর্মেশানের দুইজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে পগবার সাথে ফালাইনিকে খেলতে হলে দেখা যায় ফালাইনির বল পায়ে পাস দিতে যে দূর্বলতা, সেটাও পগবাকেই কাটাতে হয়, ফলে আক্রমণভাগের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিচরণ করার পগবার যে স্বভাবগত অভ্যাস – সেটা রহিত হচ্ছিল। চেলসির শিরোপাজয়ী মৌসুমে ম্যাটিচ ফ্যাব্রিগাসকে যেরকম সাহায্য করেছিলেন, ভাবা হচ্ছে ইউনাইটেডেও ম্যাটিচের ভূমিকাটা অনেকটা সেটাই হবে, শুধু ফ্যাব্রিগাসের জায়গায় এবার পগবা। যদিও এই ভূমিকাতে ফালাইনির থেকে অ্যান্ডার হেরেরা অনেক বেশী কার্যকর, তাও লিগ-চ্যাম্পিয়নস লিগ-এফএ কাপ-লিগ কাপ সবকয়টা প্রতিযোগিতায় পারফর্ম করার জন্য স্কোয়াডে গভীরতা থাকা লাগে, আর তাঁর জন্যই আসছেন ম্যাটিচ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 − 3 =