ইউনাইটেডে আসছেন পারফেক্ট মরিনহো স্ট্রাইকার – রোমেলু লুকাকু

কিংবদন্তী স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি এই মৌসুমেই ক্লাব ছাড়ছেন যে সেটাই আগে থেকেই জানা গিয়েছিল। ক্লাব ছেড়েছেন সুইডিশ সুপারস্টার জলাতান ইব্রাহিমোভিচও। এই দুই মহীরুহের অভাব পূরণে বেশীদিন আর অপেক্ষা করতে রাজী নয় ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সে লক্ষ্যেই আরেক ইংলিশ ক্লাব এভারটন থেকে মোটামুটি ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল অর্থের বিনিময়ে সুপারস্টার বেলজিয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে দলে নিয়ে আসছে তারা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ফরাসী সুপারস্টার আতোয়াঁ গ্রিজম্যান, আর রিয়াল মাদ্রিদ থেকে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতাকে না আনতে পেরেই মূলত রোমেলু লুকাকুর দিকে ইউনাইটেডের হাত বাড়ানো। মোরাতার জন্য রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত অফার করেও পায়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, তাই সেই দামেই ইংলিশ লিগের সুপারস্টার রোমেলু লুকাকুকেই দলে ভেড়ানোটাকে যুক্তিযুক্ত মনে করেছে তারা। এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে নিজের সাবেক ক্লাব এভারটনেই ফিরে যাচ্ছেন কিংবদন্তী ইউনাইটেড স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি।

গত মৌসুমে এভারটনের হয়ে লিগে ৩৭ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন রোমেলু লুকাকু। এ কথায় কারোর দ্বিমত হবার কথা নয় যে যতই লুকাকুর আগে ইউনাইটেড গ্রিজম্যান বা মোরাতাকে চাক না কেন, পারফেক্ট মরিনহো স্ট্রাইকার বলতে যা বোঝায়, লুকাকু ঠিক সেটাই। ক্যারিয়ারের শুরুতে আক্রমণভাগে নিজের শারীরিক শক্তি ও গোল করার ক্ষমতার জন্য “বেবি দ্রগবা” নামে পরিচিতি পাওয়া লুকাকুর খেলার স্টাইলের সাথে মরিনহোর সাবেক শিষ্য কিংবদন্তী চেলসি স্ট্রাইকার দিদিয়ের দ্রগবার খেলার স্টাইলে অনেক মিল রয়েছে। দুইজনই প্রতিপক্ষ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্নের অপর নাম। শক্তিশালী ও দীর্ঘদেহী সেন্টার ফরোয়ার্ড হলে যা হয়, বাতাসে ভেসে আসা বলগুলো আয়ত্বে আনার ব্যাপার ব্যাপারে লুকাকুর ক্ষমতা প্রশংসনীয়। মূলত বাম পায়ের খেলোয়াড় হলেও তিনি যে গোল করার জন্য শুধুমাত্র বাম পায়ের উপরেই নির্ভর করে থাকেন তা কিন্তু মোটেও নয়। প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে লুকাকুর করা ২৫ গোলের মধ্যে ১২টা এসেছে তাঁর প্রিয় বাম পা থেকে, ডান পা দিয়ে করেছেন সাতটি গোল, আর হেড করে গোল করেছেন বাকী হাফ ডজন। বাম পায়ের খেলোয়াড় হলেও অনেক ডান পায়ের খেলোয়াড়দের চেয়ে তাঁর ডান পায়ের গোলসংখ্যা বেশী, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সতীর্থ বেলজিয়ান স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান বেনটেকে, লিভারপুলের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রবার্তো ফার্মিনিও ও সোয়ানসি সিটির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলফি সিগুর্ডসন।

এভারটনের থেকে অবশ্যই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অনেক শক্তিশালী দল, যাদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ প্রতিপক্ষেরই মূল লক্ষ্য থাকে চুপচাপ ডিফেন্ড করে গোল না খাওয়া। ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ারও সুযোগ বেশী থাকে সেসব ম্যাচে, বলের দখল বেশী থাকে, আর এই কাউন্টার অ্যাটাকিং সিস্টেমে লুকাকুর মত একটা গোলশিকারী স্ট্রাইকারই প্রয়োজন ইউনাইটেডের। দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার হিসেবে যে তিনি শুধুমাত্র চুপচাপ ডি-বক্সে বসে থাকেও তাও কিন্তু না। ডিবক্সে তাঁর চতুর মুভমেন্ট অ্যান্থনি মার্সিয়াল, হুয়ান মাতা, হেনরিখ মিখিতারিয়ানদের জন্য অনেক গোলের সুযোগও সৃষ্টি করবে। লুকাকুর ইউনাইটেডে আসার ফলে আরেকজন যার সবচেয়ে বড় উপকারটা হবে তিনি হলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় পল পগবা। গত মৌসুমে অনেক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলেও স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতার কারণে সেই সুযোগগুলোকে অ্যাসিস্টে রূপান্তরিত করতে পারেননি তিনি, এবার লুকাকুর মত একটা স্ট্রাইকার সামনে আসলে সেসব আর হবেনা। আপাতদৃষ্টিতে বলেই দেওয়া যায়। জুভেন্টাসের হয়ে তাঁর শেষ মৌসুমে সামনে পাওলো ডাইবালাকে রেখে ১২টা অ্যাসিস্ট করেছিলেন লিগে পল পগবা, গতবার মাত্র ৪টি অ্যাসিস্ট করতে পারা পগবা এবার লুকাকুকে সামনে পেয়ে আরও বেশী অ্যাসিস্ট করতে পারবেন, সে সুযোগ কিন্তু সামনে।

ফুটবল যতই পুরনো খেলা হোক না কেন, প্রতিদিন যতই ফুটবল খেলার নতুন নতুন যত ফর্মেশান বা স্টাইল আবিষ্কার হোক না কেন, সেই প্রাচীনকাল থেকেই প্রথাগত ”নাম্বার নাইন” স্ট্রাইকারদের কদর অন্যরকম। যারা ডিবক্সে থেকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের শক্তিতে হারিয়ে গোল করার জায়গা সৃষ্টি করে গোল করার কাজটা সুচারুরূপে সম্পন্ন করবে। সেই ডিক্সি ডিন থেকে জার্ড মুলার, দিদিয়ের দ্রগবা থেকে দিমিতার বারবাতভ, কিংবা হালের অ্যান্ডি ক্যারল – সবাই এই শ্রেণীরই স্ট্রাইকার। যেই শ্রেণীর এখন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন এই রোমেলু লুকাকু।

এক দ্রগবার সাহায্যে চেলসির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ম্যানেজার হয়েছিলেন হোসে মরিনহো, এখন “বেবি দ্রগবা” দিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে সেই সাফল্যের পুনর্মঞ্চায়ণ করতে পারবেন ত হোসে মরিনহো?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eight − six =