চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা পাঁচ ফাইনাল (একটা ফাও)!

১৯৯৩ সালে নাম পরিবর্তন হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস ক্লাব কাপ হয়ে গেলো চ্যাম্পিয়নস লীগ। চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের সেরা পাচ(সাথে একটা ফ্রি) ফাইনাল সম্পর্কে জানাই।
৬) এসি মিলান – মার্শেই। অলিম্পিক স্টেডিয়াম, মিউনিখ। ২৬ মে,১৯৯৩।
‘চ্যাম্পিয়নস লিগ’র প্রথম ফাইনাল। ফ্যাবিও কাপোলোর এসি মিলানের কাছে স্বভাবতই মার্শেই ছিলো আন্ডারডগ। খেলার প্রথম থেকেই একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে এসি মিলান কিন্তু গোল পাচ্ছিলো না উল্টা ৪৩ মিনিটের সময় কর্ণার থেকে ডিফেল্ডার বাসিল বোলির হেডে গোল পেয়ে যায় মার্শেই। সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি ক্যাপোলোর এসি মিলান। প্রথম ফ্রেঞ্জ ক্লাব হিসাবে চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতে মার্শেই।
ফাইনাল স্কোরঃ এসি মিলান ০ – ১ মার্শেই।
৫) ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড – বার্সেলোনা। ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, লন্ডন। ২৮ মে, ২০১১।
সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচ স্যার এ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানইউ’র সাথে সময়ের সেরা কোচ পেপ গার্দিওলার দুই সিজন আগেই ইতিহাসের প্রথম দল হিসাবে হেক্সা জেতা বার্সেলোনার ফাইনাল। প্রথম থেকেই ফার্গির টিম বার্সেলোনাকে তাদের স্বাভাবিক টিকিটাকা খেলতে বাধা দিলেও বার্সেলোনা খুব দ্রুতই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পেদ্রো প্রথম গোল করার কিছুক্ষণ পরেই ওয়েইন রুনি সমতা ফেরান ম্যানইউয়ের হয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিওনেল মেসি ২০ ইয়ার্ড দূর থেকে এক গোল করে এগিয়ে দেন বার্সেলোনাকে। দ্বিতীয়ার্ধের পুরাটা সময়ই মেসি ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিলেন ইউনাইটেড ডিফেন্সকে, তার দেয়া থ্রু পাসেই ডেভিড ভিয়া অসাধারণ এক কার্লি করেন দলের তৃতীয় গোল। ৬ বছরের মধ্যে ৩টা চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতে বার্সেলোনা আর পেপ গার্দিওলা জানান দেন ফুটবল বিশ্বকে যে তারা ইতিহাস নতুন করে লিখতেই এসেছেন।
ফাইনাল স্কোরঃ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১ – ৩ বার্সেলোনা।
৪) বার্সেলোনা – এসি মিলান। অলিম্পিক স্টেডিয়াম, এথেন্স। ১৮ মে, ১৯৯৪।
ইয়োহান ক্রুইফের ‘ড্রিম টিম’, যে দলটা ২ বছর আগেই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, বার্সেলোনার সাথে ফাইনাল ফ্যাবিও ক্যাপোলোর সর্বজয়ী এসি মিলানের। মার্কো ফন বাস্তেন, ফ্রাঙ্কো বারেসি, ব্রায়ান লাউড্রপ না থাকাতে মূলত খর্বশক্তির দল এসি মিলানই ছিলো আন্ডারডগ কিন্তু খেলার ২২ মিনিট আর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মাসেরো একাই দুই গোল করে খেলাটা মূলত একতরফা করে দেন। ৪৭ মিনিটে সাভিকেভিচ এবং ৫৮ মিনিটে দেশাই ব্যবধান বাড়ান। আগের সিজনেই আন্ডারডগ মার্শেইয়ের কাছে ১-০ তে হেরে যাওয়া মিলান এবার নিজেরাই আন্ডারডগ হয়ে কাপ জেতে ৪-০ গোলে।
ফাইনাল স্কোরঃ বার্সেলোনা ০ – ৪ এসি মিলান।
৩) বরুশিয়া ডর্টমুন্ড – জুভেন্টাস। অলিম্পিক স্টেডিয়ম, মিউনিখ। ২৮ মে, ১৯৯৭।
অটমার হিটজফিল্ডের ডর্টমুন্ড ছিলো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক, আর মার্সেলো লিপ্পির জুভেন্টাস ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। কার্ল-হেইন্ড রিডলের জোড়া গোলের পর আলেসান্দ্রো ডেল পিয়েরো ১ গোল করে ২-১ এ আনেন খেলা। হিটজফিল্ডের অসাধারণ ট্যাকটিসে পাওলো সসা এবং পল ল্যাম্বার্ড প্রায় পুরা ম্যাচেই নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিলেন জিনেদিন জিদান আর দিদিয়ের দেশমকে। সাবস্টিটিউট লারস রাইকেন জুভেন্টাসের গোলকিপার এ্যাঙ্গেলো পেরুজ্জির মাথার উপর লব দিয়ে ৩ নাম্বার গোল করে নিশ্চিত করেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের প্রথম ইউসিএল শিরোপা। আরেকবার আন্ডারডগরা জেতে ফাইনালে।
ফাইনাল স্কোরঃ ডর্টমুন্ড ৩ – ১ জুভেন্টাস।
২) ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড – বায়ার্ন মিউনিখ। ক্যাম্প ন্যু, বার্সেলোনা। ২৬ মে, ১৯৯৯।
খেলার ৬ মিনিটের মাথায় মারিও বাসলারের গোলে ১ – ০ তে আগিয়ে যাওয়া বায়ার্ন প্রায় নিশ্চিতই ছিলো যে তারা জিততে যাচ্ছে, ৪৫০০০ ফ্যান উল্লাসও শুরু করে দিছিলো বার্সেলোনায়। কিন্তু সব হিসাব নিকাশ উল্টায়ে যায় ৯০ মিনিটের পরের স্টপেজ টাইমে। স্যার ফার্গির দুই সাবস্টিটিউ টেডি শেরিংহাম আর ওলে গানার শোলসকার স্টপেজ টাইমে ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে দুই গোল করে অভাবনীয় জয় এনে দেয় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের। ১৯৯৯ সালকে ম্যানইউ ফ্যনরা বলে ‘This is a YEAR’, ঐ বছরই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ইংলিশ টিম হিসাবে ট্রেবল জেতে রেড ডেভিলরা।
ফাইনাল স্কোরঃ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২ – ১ বায়ার্ন মিউনিখ।
১) লিভারপুল – এসি মিলান। আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়াম, ইস্তাম্বুল। ২৫ মে, ২০০৫।
‘হেল অফ আ ফাইনাল’ বলে যদি কিছু থাকে তাহলে সেটা হলো ২০০৫ ফাইনাল। ফাইনালের ফেভারিট কার্লো আনচেলত্তির এসি মিলান ১ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় অধিনায়ক পাওলো মালদিনির ইউসিএল ইতিহাসের দ্রুততম গোলে। হার্নান ক্রেসপো ৩৯ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন আন্দ্রে শেভচেঙ্কোর পাস থেকে এবং তার তিন মিনিট পরেই জর্জি দুদেকের চিপ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ক্রেসপো প্রথমার্ধেই ৩-০ তে এগিয়ে নিয়ে যান মিলানকে।
প্রথমার্ধেই মিলান তিন গোলে আগায়ে যাওয়ায় আপাত দৃষ্টিতে অর্থহীন বাকি ম্যাচে প্রচুর লিভারপুল ফ্যান মাঠ থেকে বের হয়ে যায় সেকেন্ড হাফের আগেই। দ্বিতীয়ার্ধে তিনজনকে ডিফেন্সে রেখে পুরাই অল আউট এ্যাটাকে যায় রাফা বেনিতেজের লিভারপুল। স্টিফেন জেরার্ড দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হেড থেকে এক গোল শোধ করেন, ভ্লাদিমির স্মিকার ৪ মিনিট পরেই করেন দ্বিতীয় গোল। দুই গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া মিলান প্রেশারটা নিতে পারে নি, জেনেরো গাত্তুসো পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ফাউল করে বসেন জেরার্ডকে, পেনাল্টি পায় লিভারপুল। এইখানেও নাটক। গোলকিপার দিদা জাবি এ্যালোনসোর শট ঠেকায়ে দিয়েও রিবাউন্ডে ঠিকই গোল করেন এ্যালোনসো, মিলানকে স্তব্ধ করে দিয়ে ৩-০ তে পিছায়ে থাকা লিভারপুল ৩-৩ করে ফেলে স্কোর। এরপরে বেশ কিছু চান্স পেলেও কাজে লাগাতে পারে নি মিলান, খেলা যায় এক্সটা টাইমের পরে পেনাল্টিতে।
সারজিনহো আর পিরলো মিলানের হয়ে প্রথম দুইটা পেনাল্টিই মিস করেন যেখানে এক পা ভাঙ্গা হামান এবং জিব্রিল সিসে গোল করেন লিভারপুলের হয়ে। জন ডাল টম্পসন আর কাকা গোল করে ২-২ সমতা আনলেও স্মিকার তৃতীয় গোল করে এগিয়ে দেন লিভারপুলকে। ৩-২ এ এগিয়ে থাকা লিভারপুলের বিপক্ষে পেনাল্টি নিতে আসেন আন্দ্রে শেভচেঙ্কো এবং মিস করেন। প্রথমার্ধেই হেরে যাওয়া ফাইনাল অসাধারণভাবে জেতে লিভারপুল। এক সিজন পরেই এই দুই দল আবার ফাইনাল খেলে এবং এসি মিলান শোধ নেয় এই হারের কিন্তু ২০০৫’র ফাইনালের ধারে কাছেও আসলে আর কোনো ফাইনাল নেই ইউসিএলে।
তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া, ব্লুমবার্গ, গিভ মি স্পোর্টস এবং নাইন্টি মিনিটস ডট কম।

পোস্টটি লিখেছেন- Rafiul Sabbir

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seventeen − twelve =