উইলসন আর কেভিনের উইলোতে আমিরাতের স্বপ্ন ছিনতাই

ইয়াহু

ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়- এই বাক্যকে এক কথায় প্রকাশ করতে দিলে কোন ক্রিকেটপ্রেমী আজকের ম্যাচের কথা লিখে আসতে পারেন। লিলিপুটদের লড়াই, এ আর কি দেখবো, এমন মনে করে যারা মুখ ঘুরিয়েছিলেন, তাদের এখন আফসোসে বুক পুড়তেই পারে! কি দুর্দান্ত একটা লড়াই উপহার দিলো এই দুই দল। শেষ দশ ওভারে তো ম্যাচের ভাগ্য দুলেছে পেন্ডুলামের মতো, একবার এদিকে তো একবার ওদিকে। শেষ পর্যন্ত জয়ী হল ঠাণ্ডা মাথার আইরিশরা, অসাধারণ এক শতক হাঁকিয়েও তাই সাইমান আনোয়ারকে থাকতে হয় পরাজিত দলে, ব্যাট হাতে ঝড় তুলে বোলিং করার সময় হওয়া নাটকের প্রতিশোধ নেন ও ব্রায়েন ভাইদের ছোটজন। এই ম্যাচ আসলে আইসিসির নতুন নীতি, ‘দশ দলের বিশ্বকাপ’কে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলো।

??????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????
প্রথম ৩৫ ওভারে আরব আমিরাতের বহুজাতিক দলটা ধুঁকছিল, গতির স্বর্গ গ্যাবাতে তাদের আটকেছিল ঘূর্ণির মায়া। বেশি ভুগিয়েছেন ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে অভ্যস্ত পল স্টার্লিং, তাঁর দশ ওভারে রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে করতে ২৭ রান তুলে ২ উইকেট দিয়ে এসেছে আমিরাত। এরপর সাইমান আনোয়ারের বীরত্বগাঁথা লিখতে হবে শুধু, জাভেদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বলের আগে চলার শপথ নিলেন যেন, এই দুজনের সেঞ্চুরি জুটিতে শেষ ১৫ ওভারে ১৪৩ রান তুললো আমিরাত। উইকেটের চারদিকেই সমান স্বচ্ছন্দে খেলেছেন আনোয়ার, দাঁতভাঙ্গা জবাব যেমন দিয়েছেন শর্ট বলে পুল, কাট খেলে তেমনি বোলারের মাথার উপর দিয়ে সোজা সীমানা পার করেছেন বলকে অনেকবার। সঙ্গী জাভেদের কথা না বললে অন্যায় হবে, তিনিই প্রথম আক্রমণ শুরু করেছিলেন, পরে সাইমানকে আগ্রাসী হতে দেখে এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন তিনি, খেলেছেন চল্লিশোর্ধ ইনিংস, পরে বল হাতে, উইলসনের ক্যাচ ধরেও পারেননি দলকে জেতাতে। সাইমান আনোয়ারকে শতকের উচ্ছাস প্রকাশ করতে দেখে নিজের একটি আক্ষেপ আরও প্রবল হলো, কবে যে লাল সবুজের দেশের কেউ বিশ্বকাপে শতক হাঁকিয়ে ঐ রকম যুদ্ধজয়ী গ্ল্যাডিয়েটরের মতো করে উদযাপন করবেন!

CRICKET-WC-2015-IRL-UAE
আমিরাতের দেওয়া ২৭৯ রানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে নেমে আইরিশরাও কাবু ঘূর্ণিতে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলেও এক দিকে উইলসন ছিলেন।

Ireland v United Arab Emirates - 2015 ICC Cricket World Cup

যখনি একটা জুটি হল বলে মনে হচ্ছিলো, তখনি ফেরার রাস্তা দেখছিলেন একজন! কিন্তু একজন দেখলেন না, ইংল্যান্ড বধের মহানায়ক, কেভিন ও ব্রায়েন। বল হাতে নিয়ে এক ওভারে ২০ রান দেওয়া আর সাইমানের সাথে লুকোচুরির দামটা মেটালেন ২৫ বলে ৫০ রানের ঝড় তুলে। তিনি হয়তো কিছুই করতে পারতেন না যদি সীমানা থেকে তাঁর ক্যাচ হাতে জমাতে পারতেন আমিরাতের বদলি ফিল্ডারটি, ওখানেই আসলে ম্যাচ ফেলে দিয়েছে আমিরাত। পুরো ম্যাচ জুড়েই তাদের ফিল্ডিং ছিল পাড়ার দলের মতো, শেষ দশ ওভারের বোলিঙটাও নয় কি? লেংথ বল করেই গেলেন একের পর এক, আর দেখলেন নিজের মাথার উপর দিয়ে হাওয়ায় ভেসে বল গ্যালারীতে চলে যাচ্ছে! শেষ ১০ ওভারে লাগতো ৯৫, সেটা শেষ তিন ওভারে হয়ে গেলো রানে বলে সমান। উইলসন আউট হয়ে গেলেন অতি চালাকির ফলে, কিন্তু ডকরেল ঠিকই দলকে জয় পাইয়ে তারপর মাঠ ছাড়লেন?
অনেক নামে ভারি ম্যাচের থেকে আজকের ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে অসাধারণ!! নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ড কিংবা ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মতো মাঝপথেই ‘ধুত্তরি! এ খেলা দেখার থেকে ঘুমানো ভালো’ এমন কথা বলতে হয়নি। তবুও কি আইসিসি তাদের আভিজাত্যের বুলি তুলে ১০ দলের বিশ্বকাপ করবে ২০১৯ এ? এতে আবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটের মৃত্যুঘণ্টা বাজানো হয়ে যাবেনা তো?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × five =