কেমন হতে পারে ব্রাজিলের টিটে যুগ?

অনেক ঘটনা দুর্ঘটনার পর কার্লোস দুঙ্গার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে, নতুন কোচ হিসেবে টিটের নাম খুব সম্ভবত আজকেই অফিসিয়ালি ডিক্লেয়ার করবে।নতুন কোচের নাম আসলে তার ব্যাপারে ডিটেইলস জানাবো এর আগে চলুন দুঙ্গার এই স্পেলটাকে একটু ভালোমতো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি,কেনো আগের স্পেলে অসাধারণ সময় পার করা কোচ এই স্পেলে মুখ থুবড়ে পড়লো সেটা জানার জন্য দুঙ্গার আগের স্পেল সম্পর্কেও জানতে হবে।দুঙ্গার ব্যাপারে আমার সাথে অধিকাংশ মানুষের মতবিরোধ হওয়ার কারণ তার দুঙ্গাকে দুই স্পেলেই ব্যর্থ হিসেবে ঘোষণা করতে চায়।কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে এর আগের স্পেলে দুঙ্গা বলতে গেলে পুরোপুরি সফল ছিল।কোয়ার্টারে মেলো আর সিজারের অমন ভাচ্চাসুলভ না করলে হয়তো ব্রাজিল সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েই দেশে ফিরতো।আগের স্পেলে দুঙ্গার ভালো করার মূল কারণ সে মিডিয়ার কথাবার্তা পাত্তা না দিয়ে নিজের বিশ্বাসের উপর কাজ করে গেছে।পুরো চার বছর দলকে খেলিয়েছিলো ৪-২-২-২ ফর্মেশনে।তাছাড়া তখন তার ভরসার পাত্ররাও ছিল ইউরোপ মাতানো প্লেয়াররা।কিন্তু এই স্পেলে দুঙ্গা শুরু থেকেই মিডিয়ার কথায় নাচানাচি শুরু করেছিলো।মিডিয়া যেই প্লেয়ারকে দলে নেওয়ার জন্য একটু চাপাচাপি করবে সেই প্লেয়ারকেই দেখা যাবে তার দলে।কিন্তু একটা জাতীয় দলে হুট করে একটা প্লেয়ারকে ডাকা কখনোই ভালো ডিসিশন হতে পারে না কারণ এমনিতেই এখানে মানিয়ে নেওয়ার সময় কম।মিডিয়ার কথায় নাচানাচি করে প্লেয়ার নেওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এবারের কোপায় গানসোকে কল করা।গানসো ২০১২ তেই বলতে গেলে শেষ হয়ে গেছে,এখনকার গানসোর যা স্পীড তাতে ইন্টারন্যাশনাল এরিনাতে ভালো করা মোটামুটি অসম্ভব সেটা চাটুকার মিডিয়া না বুঝলেও দুঙ্গার অন্তত বুঝা উচিত ছিল -_- আর সবচেয়ে বড় পয়েন্ট দলে সে মাত্র একটা ভালো মানের লিবারো ডেকেছিলো (ক্যাসেমিরো) তাই সে সময়ে দুঙ্গার উচিত ছিল মিডিয়ার কথায় না নেচে নিজের দলের ব্যালান্সের কথা ভেবে একজন ভালো ডিএম ডাকা কিন্তু তা সে করে নি ফলাফল সাসপেনশনের কারণে ক্যাসা পেরুর সাথে ম্যাচ মিস করলো আর লিবারো ছাড়া নেমে পুরো টিম ব্যালান্সেই গন্ডগোল পরিণামে দুঙ্গা আজ সাবেক কোচ হয়ে বসে আছে।আরেকটা বড় ভুল করেছিলো দুঙ্গা টিম ফর্মেশন পাল্টিয়ে.৪-২-২-২ এ দুঙ্গার দল বেশ ভালৈ খেলছিলো কিন্তু ৪-১-৪-১ এ খেলানো শুরু পর থেকেই মূলত তার দল খেই হারানো শুরু করে।৪-১-৪-১ এ ভালো করতে হলে মিনিমাম দুইটা ভালো মিডি দরকার কিন তু সরি টু সে মাদের দলে উইঙ্গারের ছড়াছড়ি থাকলেও ভালো অ্যাটাকিং মিডির যথেষ্ট অভাব আছে,অ্যাটাকিং মিডে আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র অস্কার গত সিজন ইনজুরি আর ফর্মহীনতার জন্য কাটিয়েছে বেঞ্চে বসেই তাই এই জায়গাটা আরো খালি হয়ে গেছে। এই টিম নিয়ে ৪-১-৪-১ এ খেলাতে গেলে যেই প্লেয়িং স্টাইল দরকার সেটা দুঙ্গার পক্ষে আনা সম্ভব ছিল না।আর দুঙ্গার সব ভরসার পাত্ররা একে একে চাইনিজ মাল হলেও সে তার মনোভাব চেঞ্জ করে নি শেষপর্যন্ত দেখা গেলো চাইনিজ মালগুলোই তার চাকরী খাওয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখলো।আর দুঙ্গার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল বর্তমান সময়ের বিশ্বসেরা ডিফেন্ডার টাইগার সিলভার সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তাকে লেইম লজিকে দল থেকে বাদ দেওয়া।পরিণামে দেখা গেলো একটা ম্যাচেও ব্রাজিলের ডিফেন্সে কোনো সলিডিটি নাই প্রতি ম্যাচেই মিরান্ডা গিল জুটির অস্থির পারফর্মেন্স।সিলভাকে বাদ দেওয়াটা তখুনি চোখে লাগতো না যখন তার হাতে সিলভার কাছাকাছি অপশন থাকবে বাট সরি টু সে মিরান্ডার যা অবস্থা তাতে আরেকবার জন্ম নিলেও সে সিলভার কোয়ালিটির হতে পারবে না তাই শেষপর্যন্ত সিলভার অভাবে পুরো ডিফেন্সই ছন্নছাড়া আর যার শেষ পরিণতি আজকের এই দিন।অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে পূর্বের স্পেলের মতন যদি ঠিক প্লেয়ারের উপর দুঙ্গা ভরসা রাখতো আর মিডিয়ার কথায় না নেচে নিজের বিশ্বাসের উপর আস্থা রাখতো তাহলে হয়তো এমন অবস্থা হতো না 🙁
পরিশেষে একটাই অনুরোধ যা হওয়ার হয়ে গেছে,সবার ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে তাই এখন আমাদের উচিত এই দু বছরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কোচকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।দুঙ্গা এখন আর আমাদের কোচ নাই তার এখনকার পরিচয় সে আমাদের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক।দুঙ্গার উপর যতই রাগ থাকুক আপনি যদি এই ছবিটা একবার ভালো করে দেখেন তাহলেই দেখবেন সব রাগ চলে গেছে।মনে রাখবেন যেই পাঁচ তারকার জার্সি নিয়ে আমাদের এত্ত গর্ব তার একটা তারকা কিন্তু এই মানুষটার হাত ধরেই এসেছে ☺ ২৪ বছরের শিরোপা খরা যার হাত ধরে কেটেছিলো তাকে যদি আমরা প্রাপ্য সম্মান নাই দেই তাহলে সেলেসাও ফ্যান হিসেবে আমাদের সার্থকতা কোথায়?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × one =