এবার একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা

ব্রাজিলের পাঁড় ভক্ত আর ফলোয়ার হিসেবে এ সময়টা এক্সাইটিং এর চেয়ে বেশি কিছু। গত দুই বছরের বেশিরভাগ সময় একটা চক্রের মধ্য দিয়ে গেছি। দল ঘোষণা, বিরক্তি প্রকাশ, যুক্তি দেখানো, ম্যাচের পরে ম্যাচ নিয়ে কথা বলার মুডে না থাকা আর শেষমেশ ঘুরেফিরে আবার পরের দল ঘোষণার জন্যে অপেক্ষা করা। তিতের নিয়োগের পরে এই চক্র থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। বাস্তববাদীরাও উত্তেজিত ছিলেন, তবে প্রথম স্কোয়াডটা দেখে আশাবাদী ছিলেন না। ” দেখি, কি হয়” টাইপের একটু দীর্ঘনিশ্বাস দিয়ে ম্যাচের জন্যে অপেক্ষা করা। ম্যাচের পরে আবার সেই আগের সার্কেলের জন্যে অপেক্ষা করা। সেই সার্কেল ” দল ঘোষণা – এনালাইসিস – ম্যাচে হারা/ ড্র করা-পরের দল ঘোষণার জন্যে অপেক্ষা করা”….
তবে অনেক প্রত্যাশার তিতে ডাগ আউটে বসলেন আর মাঠে গড়ালো ম্যাচ। আর ৯০ মিনিটের ম্যাচের পরেই যেন বদলে গেলো সব। একদম সব!
আগ্রহের জায়গা থেকে শুরু করে এনালাইসিসের জায়গা – একদম সব কিছু! যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরি। সময়টা এক্সাইটিং! কেন এক্সাইটিং?

মিডফিল্ডে দেখুন। ক্যাসেমিরোর সামনের দুইজন শুধুমাত্র জোনাল মার্কিংটুকু ঠিকমতো করলো। এরপরেও প্রথম ম্যাচে অগাস্টোকে বেশ ভঙ্গুর আর গড়পড়তা লেগেছে মার্কার হিসাবেও। পাউলিনহো দুই ম্যাচেই স্পেস আটকে রেখে ইকুয়েডর আর কলম্বিয়ার মিডফিল্ডকে ভালোভাবে ব্লক করেছেন। তবে এখানে ব্যাপার হচ্ছে আরো ভালো বক্স টু বক্স ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার থাকলে ম্যান মার্কিং আর এর সাথে আরো কিছু দিতে পারলে এই দলটা আসলে ঠিক কতোটুকু ভালো হতে পারে সেটা নিয়ে আগ্রহের কমতি থাকে না। পাউলিনহো/রেনাটোর জায়গায় অস্কার/এলান ধরনের কাউকে কল্পনা করুন। ম্যান মার্কিং এর সাথে আরো ভালো এন্ড প্রোডাক্ট দিবে এই দল। সে হিসেব করলে এই দলটার পরের স্কোয়াড ডাকার সময় আসলে কোন রিপ্লেসমেন্ট কোচ ডাকেন কিনা সে আগ্রহ থেকেই যায়। জেনিতের গুইলিয়ানো কয়েকটা প্লেয়িং মিনিট পেয়েই ফার্স্ট টীমে খেলার মত ভার্সাটাইলিটি দেখালেন।

এমন আরো অনেক জায়গা আছে। ড্যানিয়েল আলভেজ দুটো ম্যাচেই গড়পড়তার চেয়েও নিচে দিয়ে খেললেন। আলভেজের চেয়ে ভালো অপশন ফ্যাবিনহো / তিতের সাথে অনেকদিন কাজ করা ফ্যাগনারই বা কীভাবে খেলে সেটা নিয়ে আগ্রহ থাকে অনেক বড় অংশে। এই দলটায় সবগুলো সারপ্রাইজ কলই এসেছে ঐ খেলোয়াড়ের তিতের সাথে আগে অনেকদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে আর তাদের ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবল নিয়ে ভালো ধারণা থাকার কারণে। অপেক্ষাতে থাকবো মিডফিল্ডে আরো ক্রিয়েটিভিটি দেখার জন্যে, অপেক্ষায় থাকবো উড়তে শুরু করা জেসুসের সেরাটা দেখার জন্যে, অপেক্ষায় থাকবো পরের রাউন্ডে দল ঘোষণায় চমক দেখার জন্যে।

এই অপেক্ষা বেশ উত্তেজনার। দুঙ্গার সময়টার মত ভয় নেই। কারণ এই দলটার খেলোয়াড়েরা নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাসী। এই দলটার কোচ ম্যাচের আগে নেতিবাচক মন্তব্য করে ব্রাজিলের পুরো জেনারেশনকে ধুয়ে দেন না।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × one =