সীমানার ওপার থেকে: গতিতারকাদের কথা ২

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ভ্রমনে এক দিনের বিরতি। ঐ যে, লং ড্রাইভে গেলে যেমন মাঝে মধ্যে ক্যাফেতে থেমে কফির কাপে চুমুক না দিলে গাড়ি চালানো সম্ভব হয়না, সেরকম বিশ্বকাপ নামের লম্বা ভ্রমনে এটা কফি পানের বিরতি মনে করুন। গতকাল বলেছিলাম গারনার, লিলিদের কথা, মানে সাদা পোশাকের যুগের গতিতারকাদের কথা, আজকে দেখুন রঙিন ক্রিকেটেও ঝড় তুলেছিলেন কারা বল হাতে।
ওয়াসিম আকরাম আর ওয়াকার ইউনুস- ক্রিকেটের একটু খোঁজ রাখলেই বুঝবেন ৯০ এর দশকে এদের দাপটের মাত্রাটা। বিশ্বের তাবৎ বাঘা ব্যাটসম্যানও এদের হাতে বল দেখলে প্রমাদ গুনতেন। এই বুঝি শর্ট বলে নাক ফাটিয়ে দিলো! অথবা পা ভাঙলো ইয়রকারে। দুটোর একটাও না হলে সুইঙ্গের জাদুতে উড়ে গেলো স্ট্যাম্প। ৯২ বিশ্বকাপের সেমিতে কিউই অধিনায়কের স্ট্যাম্প আর ফাইনালে ইংলিশ ব্যাটিঙের অন্যতম পুরোধা ল্যাম্বের স্ট্যাম্প ওয়াসিম যেভাবে উড়িয়েছিলেন, সেটা এখনও ক্রিকেট রুপকথার অংশ।

বিরানব্বইয়ের অপ্রতিরোধ্য আকরাম
বিরানব্বইয়ের অপ্রতিরোধ্য আকরাম

3304578477

ওয়াসিমের মূল অস্ত্র ছিল সুইং আর ওয়াকারের সুইঙ্গের সাথে গতিও ছিল। শচীনের নাক ফাটিয়েছিলেন শিয়ালকোট টেস্টে, বেচারার অভিষেক টেস্টে ভাইয়ের সামনে নাক দিয়ে রক্ত বের হল ওয়াকারের বাউন্সারে, পরের বলেই রক্ত মুছে চার মারলেন তিনি।
রংধনুর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা নির্বাসন থেকে ফেরে ৯২ এর বিশ্বকাপে, সেখানকার ১৩ বলে ২২ থেকে ১ বলে ২২ রানের টার্গেট হয়ে যাওয়া আর দুই ব্যাটসম্যানের বিষণ্ণ চাহনির কথা হয়তো মনে আছে সবারই। সাদা বিদ্যুৎ নামে পরে বিশ্ব তাকে চিনেছিল, ৯৯ এর বিশ্বকাপে ব্যাট ফেলে দিয়েছিলেন পাগলা দৌড়, দৌড়ে আসলে নিজের দলকেই আসর থেকে ছিটকে ফেলেছিলেন তিনি। বুঝতে পারছেন কে? ইনি হলেন অ্যালান ডোনাল্ড, সাদা বিদ্যুৎ নামটা কিন্তু তার গতির কারনেই হয়েছিলো।

1999+Cricket+World+Cup+Great+Britain+oI65oOypQzAl
“ শান্ত যখন অশান্ত হয়ে ওঠেন, উইকেট পড়ে ঝরা পাতার মতো। কিন্তু না, আবারো ওয়াইড!” এটা ছিল চৌধুরী জাফরুল্লাহ সারাফাতের একটি অসাধারণ উক্তি। পেসার বলতে কি শুধু গতির ঝড়ে উড়িয়ে দেওয়াকে বোঝায়? লাইন লেংথ ও তো ঠিক রাখতে হবে, নাকি? এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিলেন ম্যাকগ্রা, পোলকরা। গতির বিচারে এরা হয়তো সেরা দশে আসবেন না, কিন্তু বিচারটা যখন আমাকে কত উইকেট এনে দিতে পারলো বোলার? এই প্রশ্নে করবেন, তখন প্রথমে থাকবেন ম্যাকগ্রা। অনেকে তাকে রোবট বলতেন। কেন জানেন? এক জায়গায় বল ফেলা যাবে কতবার? এক, দশ, বিশ? ম্যাকগ্রা একই লাইন লেংথে সারা দিনও বল ফেলতে পারতেন, সাথে ছিল সুইঙ্গের বিষ।

Glenn-McGrath

অনেকটা সাউদির মতো, যিনি এবারের বিশ্বকাপের সেরা বোলিং করেছেন ইংলিশদের বিপক্ষে। তালিকাটা আরেকটু বড় করলে ইংলিশ পেসার গফকেও রাখা যেত। বামহাতি বোলারদের মধ্যে ওয়াসিমের মতোই সুইং দিয়ে ব্যাটসম্যানের মৃত্যুঘণ্টা বাজাতেন ভাস। তার সাথে আমাদের দেশের একটা লজ্জার স্মৃতি আছে। ২০০৩ বিশ্বকাপে প্রথম ওভারে চোখ বন্ধ করে তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে ভাসের হাতে বধ হয়েছিলো চার বাংলাদেশী উইলোবাজ।

65818

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen + 20 =