সীমানার ওপার থেকে: গতিতারকাদের কথা ১

ব্রিসবেনের গ্যাবা। গতির স্বর্গ হিসাবে খ্যাত এই মাঠের ২২ গজি পিচ। এই মাঠের পাশের সরকারী হাসপাতালে লিলি থমসন বেড নামে দুটি শয্যা আছে। গোঁফেস্বর গতিতারকা লিলির হাতে বল দেখলেই সেই সময়ের অনেক ব্যাটসম্যানের হাঁটু কাঁপত। লিলি থমসনের তাণ্ডবে আহত ব্যাটসম্যান বেচারাদের সেবা করার জন্য বিসেশভাবে ঐ দুটি শয্যা সব সময় প্রস্তুত রাখা হতো।

লিলি ছিলো এক আতঙ্কের নাম
লিলি ছিলো এক আতঙ্কের নাম

চলুন কল্পনার টাইম মেশিনে চড়ে ফিরে যাই সেই ত্রিশের দশকে। অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের ক্রিকেট শত্রুতার কথা তো সবারই কম্বেশি জানা। অসিদের কাছে হারলেই মিডিয়া ইংলিশদের করে তুলাধুনা। সেই সময় আবার অস্ট্রেলিয়ার স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ছিলেন ফর্মের সিখরে।ইংলিশ সেনাপতি ডগলাস জার্ডিন বেছে নিলেন ভদ্রলোকের খেলাকে কলুষিত করার এক ঘৃণ্য পন্থা, সেই সময়ের ইংলিশ বোলারদের মধ্যে গতির ঝড় তুলতে পারঙ্গম হ্যারল্ড লারউডকে বললেন একের পর এক বাউন্সার করতে, অসি উইলোবাজদের মাথা লক্ষ্য করে, রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে আর লেগ সাইডে দাঁড় করালেন ছাতার মতো ফিল্ডার। অসিরা সেই সিরিজ হেরেছিল বটে, কিন্তু জার্ডিন আর লারউডকে মানুষ এখনও মনে রেখেছে ঘৃণার সাথে।
জোয়েল গারনার- তার ইয়রকারে পায়ের আঙ্গুল ভাঙ্গেনি এমন ব্যাটসম্যান সেই সময় খুব কমই ছিল। ১৯৭৫ আর ১৯৭৯ এর বিশ্বকাপজয়ী ক্যারিবিয় দলের মূল শক্তি বলা হতো সে সময় বিশ্বের যে কোন ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেবার ক্ষমতা সম্পন্ন পেস ব্যাটারিকে, যাতে ছিলেন ম্যালকম মার্শাল, জোয়েল গারনার, অ্যান্ডি রবার্টস আর ছিল স্যার ভিভের বিখ্যাত মিডিয়াম পেস। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে হারের পর ভারতে এসে ভারতকে এমন নাকানি চুবানি খাইয়েছিলেন এরা, ভারতের অবস্থা, ‘ট্রফি চাইনা গতি সামলাও’

ক্যারিবীয়দের সোনালি সময়ের সারথি জোয়েল গার্নার
ক্যারিবীয়দের সোনালি সময়ের সারথি জোয়েল গার্নার

এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিখ্যাত চরিত্র ও ঘটনা জানতে সীমানার ওপার থেকে সিরিজের সঙ্গে থাকুন। পরের পর্বে থাকবে ৯০ দশকের গতিতারকাদের কথা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × three =