আমাদের ক্রিকেটের বীরশ্রেষ্ঠর গল্প শোন

ডিসেম্বর মাস, বাংলাদেশের বিজয়ের মাস, লাল সবুজের অভ্যুদয়ের মাস। ১৯৭১ এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসম সাহসিকতার জন্য ৭ জন বঙ্গসন্তান পেয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব। এটা যেহেতু খেলার আসর, তাই তাদের নিয়ে আর বেশি কিছু বলবনা, আমি আজ আমাদের ক্রিকেটের বীরের কথা বলি।

ম্যাশ! এই নামটা শুনেই সবাই বুঝতে পারবে কার কথা বলছি। অপার সম্ভবনা নিয়ে ২০০০-০১ মৌসুমে তার অভিষেক, সে সময় গতির তোড়ে কাঁপিয়ে দিয়েছেন বহু বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে। সে সময়ের বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা মাশরাফি বিন মরতুজার মধ্যে আমরা বিশ্বসেরা এক খুনে ফাস্ট বোলারকেই দেখেছিলাম। কিন্তু হায়! ইনজুরি! খলনায়ক ইনজুরি মনে হয় তখন পর্দার আড়াল থেকে মুচকি মুচকি হেসেছিল। ইনজুরির সাথে তার সখ্য আমাদের কাছে অনেক বড় আক্ষেপ। একই সাথে বার বার ইনজুরিতে পড়ার পরও তিনি যেভাবে ফিরে এসেছেন, তাতেই তাকে বলতে ইচ্ছে হয়, ক্রিকেটের বীরশ্রেষ্ঠ! তার হাঁটুর অপারেশন হয়েছে ৭ বার, তার পরও তিনি খেলছেন, যেখানে এতবার অপারেশন হলে কেউ খেলার কথা চিন্তাই করেনা।

তার সম্পর্কে কিছু লেখার সাধ্য আমার নেই। শুধু নিজের অনুভূতিটা বলছি। একজন ওয়াহ কবে বাংলাদেশের হবে, এই আক্ষেপ ছিল বিশ্বজয়ী অসি সম্রাট Steve Waugh কে দেখে। তার অধিনায়কত্বে কি যেন একটা জাদু ছিল। তরুণ একটা দলকে নিয়ে বিশ্বসেরা হয়ে হাতে ট্রফি নিলেন গত শতাব্দীর শেষ বিশ্বকাপে। ম্যাশ আমাদের সেই ইচ্ছাও পূর্ণ করার পথে আছেন, ২০১৪ সালে ক্রমাগত হারতে হারতে এক থা টাইগার হয়ে যাওয়া মুশির দলকে নেতৃত্ব পেয়েই যেন কোন এক জাদুর ছোঁয়ায় বদলে দিলেন তিনি। কিছুদিন আগেও গা ছেড়ে দেওয়া দলটা ৫-০ তে সিরিজ জিতল জিম্বাবুয়ের সাথে। এরপর বিশ্বকাপে ইংলিশদের অহংকার চূর্ণ করে কোয়ার্টার ফাইনালে, দেশে এসে পাকিস্তানকে বাংলা ধোলাই, ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা আর সেই জিম্বাবুয়ের সাথেই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে টানা ৫ সিরিজ জয়ের বৃত্ত পূর্ণ করেছে বাঘের দল।

সবথেকে বড় কথা, আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে অনেক। মাশরাফি এমনই এক প্রেরণার নাম, যার বলে ইমরুল কায়েস ১ বছর পর ফিরেও টানা ফিফটি করেন, মুস্তাফিজ প্রথম ম্যাচেই ভারতকে ধাক্কা দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন, শর্ট বলে পরাস্ত সাব্বির বলে কয়ে শর্ট বলেই চার মারেন, সর্বশেষ বিপিএলে আবু হায়দার রনি নামের এক অখ্যাত বাঁহাতি পেসার কাঁপিয়ে দেন সবাইকে, যে কুমিল্লাকে কেউ গোনায় ধরেনি তারাই ম্যাচের পর ম্যাচ জিতে এখন শিরোপার দাবিদার। বড় দরকার ছিল এমন একজন প্রেরণা দায়ী অধিনায়ককে। তিনি ব্যাটিং বোলিং কিছু না করে শুধু দাড়িয়ে থেকেই ম্যাচ জিতাতে পারেন, বলতে পারেন, সামনে যেই আসুক, চোখে চোখ রেখে খেলবি! রান না করলে মরে যাবি না!, গিয়ে নিজের মতো খেল!

রাহুল দ্রাবিড় আফসোস করেছিলেন ম্যাশের মতো সব্যসাচী না থাকায়। কুমিল্লার হয়ে যে ব্যাটিং করলেন সেদিন, তাতে আমরা আবার আশায় বুক বাঁধছি, ম্যাশ কে কি আমরা দমাদম মাস্তকালান্দার টাইপের ব্যাটসম্যান হিসাবে ৭ বা ৮ নম্বরে পেতে পারি? একবার অফ স্পিন করে দলকে লীগ জিতিয়েছিলেন, তিনি কিছু না করে দাড়িয়ে থাকলেও দলের শক্তি ১০০ ভাগ বেড়ে যাবে। তার দায়িত্বজ্ঞান এতই বেশি যে ঝুঁকি নিয়েও দলের জন্য খেলেন।

নাহ! আর কি বলতে পারি? তিনি আমাদের ক্রিকেটের বীরশ্রেষ্ঠ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fifteen − eight =