টেস্টের মাথাব্যাথাগুলোঃ সাড়বে কবে ? (১)

একটা টেস্ট । আর তিন ওয়ানডের একটা ছোট ওয়ানডে সিরিজ । ভারত আসছে । ভারত আসছে মানে একদম পুরো ভারতই আসছে । কোহলি-রাহানে-হরভজনদের নিয়ে সম্ভাব্য সেরা ভারত দলটাই আসছে । ভারত পুরো দল পাঠাবে কি পাঠাবে না – সাংবাদিক আর মিডিয়াওয়ালাদের ভালো খোড়াকটাও তাই শেষ হয়ে গেলো ।
পাকিস্তান সিরিজের আগে আমার লেগেছিলো স্মরণে থাকা অতীতে আর কোন দুই দলের সিরিজ নিয়ে আমাদের এখানে এতোটা মাতামাতি হয় নি । আবার , এখন ভারত সিরিজের আগে কেন জানি লাগছে আমাদের এখানে নিকট অতীতে কোন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে এত মাতামাতি হয় নি । ওরা ভালো খেলছে , আমাদের প্রত্যাশা বাড়ছে , সিরিজের পরে সিরিজ তাই হাইপের গ্রাফটা শুধু উপরের দিকেই উঠছে । ভারতকে নিয়ে মাতামাতির একটা বড় অংশ জুড়ে তো আছে প্রতিশোধ নামের একটা চরম রোমাঞ্চকর শব্দও । জ্বালা জুড়ানোর সিরিজ ! প্রমাণের সিরিজ ! ভারত আর বাংলাদেশঃ দুই দেশের সাংবাদিকরাও বোধ করি দুই ক্যাপ্টেনের মুখ থেকে প্রতিশোধ শব্দটা বের করার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাবেন সিরিজ শুরু হবার আগ পর্যন্ত।

তবে গেল পাকিস্তান সিরিজ থেকে আমাদের শিক্ষা নেবারও আছে অনেক কিছু । বিশেষ করে টেস্ট সিরিজ থেকে । সিরিজের ফলাফলই বলে , অবশ্যই আমরা পেশাদারিত্বের হাইয়েস্ট লেভেল রেখে টেস্ট সিরিজটা খেলতে পারি নাই । কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট খেলার একযুগ পেরিয়ে গেলেও কয়েকটা জায়গা আছে যেগুলোর দিকে তাকালে আপনার বুঝতে দেরি লাগবে না আমরা টেস্ট ক্রিকেটে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছি পাঠশালাতেই ।

ইয়াসির শাহকে দেখে পাকিস্তানের সাথে আফসোসই বেড়েছে
ইয়াসির শাহকে দেখে পাকিস্তানের সাথে আফসোসই বেড়েছে

একদম প্রথম গোঁমড়টা ফাঁস করে দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সবচাইতে বড় স্টার সাকিব আল হাসান নিজেই । দিন কয়েক আগে এক সাক্ষাতকারে সাকিব যখন বললেন , আমাদের এখানে স্পিনার হতে হলে বল টার্ন করতে জানতে হয় না । চারদিনের খেলাগুলোয় ২য় দিন থেকেই বাউন্স অসমান হয় । এখানকার স্পিনারেরা উইকেট পেয়ে যায় ওটা কাজে লাগিয়েই । ভেবে দেখলাম , কথা সাকিব খুব একটা মিথ্যে বলে নি । ভালো টার্ন করানো লোকের জন্যে আসলে হাহাকারটা আমাদের তখনই বেড়ে গেলো , যখন দেখলাম , ইয়াসির শাহ ঢাকা টেস্টে আমাদের বিশাল বিশাল টার্ন দিয়ে একাই কুপোকাত করে দিচ্ছে । তাহলে সাকিবের কথাকে একদম বেইজ ধরে আমরা যদি আসলেই সমস্যার গোঁড়ায় ঢুকি তাহলে সাকিব আল হাসানের কথাকে উড়িয়ে দেবার মত শক্তি ও যুক্তি কোনটাই আপনার হাতে থাকবে না ।

আমরা হোমগ্রাউন্ডে সাফল্য যখনই পেয়েছি , তখনই ঘুরে ঘুরে একটা কথাই সামনে এসেছে । বাংলাদেশ স্পিনারপ্রসবা ক্রিকেটভূমি । কিন্তু ঐ যে সাকিবের কথার সূত্রধরেই বলবো , বলের ভালো টার্নার কোথায় ? বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারের লিস্ট দেখলে আপনি দেখবেন যে , বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ পাওয়া শেষ চারজন কমপ্লিট স্পিনার হলেন- জোবায়ের, তাইজুল , গাজী , ইলিয়াস সানি । এদের মধ্যে কেবল জোবায়েরকেই আপনি বলের জেনুইন টার্নার বলতে পারবেন । সেটাও আসে অনেক রান খরচায় । বাকি ৩ জনের মধ্যে গাজীকে বলের সবচাইতে ভালো টার্নার মনে হয়েছে একশনে ত্রুটি ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত । আমাদের এখানে স্পিনারেরা আসে, একটা দুটো ভালো টেস্ট খেলে বেশ কিছু উইকেট পেয়ে তিন চারটে খুব খারাপ টেস্ট খেলে । আর তারপরে কি হয় জানেন ? পাইপলাইন থেকে তারই সমান কোয়ালিটি আর ফিচারের আরেকজন দলে এসে তার জায়গা নিয়ে নেন । আদতে লাভ হয় না ! তাই জোবায়েরকে পেয়ে আমদের উচ্ছ্বাসটা চওড়াই ছিলো । কমসে কম , বাকিদের চেয়ে আলাদা ফিচারের ।

তাইজুল এখনো নিয়মিত উইকেট পাচ্ছেন ... তবে কতোটা প্রভাব ফেলতে পারছেন ম্যাচের রেজাল্টে ?
তাইজুল এখনো নিয়মিত উইকেট পাচ্ছেন … তবে কতোটা প্রভাব ফেলতে পারছেন ম্যাচের রেজাল্টে ?

এর বাইরেও অজন্তা মেন্ডিস বা সুনিল নারিনের মাপের স্পিনার আছেন অন্য ক্রিকেট দলের যারা বলের খুব ভালো টার্নার নন । কিন্তু এদের স্পেশ্যাল ফিচার হলো এরা যেকোন উইকেটে বাউন্সের তারতম্য ঘটাতে পারেন আর পাশাপাশি দারুন ট্রিকি একটা লেংথে বল ফেলতে ফেলতে রান নেওয়ার কাজটাকে ব্যাটারের জন্যে দুরূহ করে দিতে পারেন যে কোন উইকেটেই । তাইজুল-সানিরা এই ফিচারটা তাদের ভান্ডারে এখনো পুরোদমে পায় নি । সাথে সাথে স্পিনার সাকিবের অফফর্ম পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশকে দিয়েছে একদম গোঁদের উপরে বিষফোঁড়া !সব মিলিয়ে পাকিস্তান সিরিজে আমাদের টেস্টের বোলিং হয়েছে স্মরণকালের সবচাইতে জঘন্য ।

সাকিবের ফর্মহীনতা ভুগিয়েছে আমাদের
সাকিবের ফর্মহীনতা ভুগিয়েছে আমাদের

সারমর্ম , এমন কেউ আর না আসুক খালি স্পিনার হিসেবে যে কিনা সোজা এক জায়গায় বল করে যায় … আবার ওভার শেষে উইকেট ফ্ল্যাট হলে প্রতি ওভারে একটা শর্ট বল দিয়ে চার খেয়ে যায় । চেইঞ্জ দরকার ! বেশি বেশি স্পিনার আসা মানেই কিন্তু টেস্টে খুব ভালো বেইজ পেয়ে যাওয়া নয় । একই ফিচারের , একই কোয়ালিটির স্পিনার বারবার আসছে । ভ্যারিয়েশন নেই আমাদের স্পিন আক্রমণে । হারভজন-অশ্বিনের ভারতের সাথে সিরিজ খেলার আগে তাই এক নাম্বার মাথাব্যাথা এটাই ! সেরা দিনের হরভজন অজিদের ভারতে এনে নাকানি চুবানি খাওয়াতো … ওকে টেক্কা দেওয়ার লোক চাই আমাদের ! আশা , সাকিব তার সেরা ফর্মে ফিরবে টেস্টে খুবই দ্রুত !

(চলবে )

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 − one =