টেস্ট শতকের আগে

আগামীকাল কলম্বোর পি সারা ওভালে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা জয় বাংলা কাপের দ্বিতীয় টেস্ট হবে আমাদের টেস্ট খেলার সেঞ্চুরি এর উপলক্ষ। ২০০০ সালের জুনে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তি, তারপর নভেম্বরের ১০ তারিখে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ইতিহাসের নতুন পাতায় প্রবেশ, দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১৭ টি বছর। বাংলাদেশের ক্রিকেট পেরিয়ে এসেছে ২-৩ টি প্রজন্ম, লড়েছে অনেক ষড়যন্ত্রের সাথে। আগামীকাল আমরা স্পর্শ করতে যাচ্ছি একটি মাইলফলক।

১৭ বছর লাগলো ১০০ টেস্ট খেলতে, বছরে গড়ে ৬ টি টেস্ট। না খেললে শিখবো কিভাবে? আমরা টেস্ট খেলি অনেক কম। এদিকে বিসিবির নজর আছে কিনা জানিনা।

ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির মিল খুবই কম। এখনও আমাদের নির্বাচকেরা ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরমার দের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নামাতে চান না। অথচ যদি ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক না হয়, তাহলে টেস্টে উন্নতির আশা দুরাশা। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ডের টেস্ট সাফল্যের কারণ তাদের শেফিল্ড শিল্ড, কাউন্তি ক্রিকেট এবং রঞ্জির উচ্চমান।

আমরা এখনও বড্ড বেশি ঢাকা কেন্দ্রিক। ক্রিকেট কে ভিত্তি করে পর্যটনের বিকাশের চিন্তা আমাদের নেই। তাই যদি থাকতো, তাহলে সিলেটের এত সুন্দর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এখনও কেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ হল না? কেন হল না কক্স বাজারে একটি টুর্নামেন্ট?

মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ কে নিয়ে যে কাণ্ডটা কাল হল, এটা প্রমাণ করে আমাদের ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা। খবর কিভাবে ফাঁস হয়? আর একটা মানুষ টেস্টে খারাপ করেছে দেখে তাকে সব সংস্করণ থেকে বাদ দিতে হবে? এরকম কত প্রতিভা যে আমরা পরিচর্যা করতে পারিনি সে সংখ্যা দিয়ে হিসাব করা যাবেনা। আর এই খালেদ মাহমুদ যদি কোন দিন বাংলাদেশ দলের কোচ হয় তবে গোল্লায় যাবে দলটা। গাড়িতে করে না, রকেটে করে!

কাল যেখানে আমরা খেলতে নামবো, সেখানে এর আগেও বাংলাদেশ খেলেছে। ভাস মুরালিকে পাড়ার বোলারের পর্যায়ে নামিয়ে এনে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছিলেন আশরাফুল, সেটা এই পি সারা ওভালেই। এখানে খেলেছেন স্যার ডন, যিনি ক্রিকেটের ডন বা ক্রিকেটের দেবতা বলেই বেশি পরিচিত।

এই ১৭ বছরে আমাদের খেলার উন্নতি? হ্যা হয়েছে। ইংল্যান্ডকে তিন দিনে হারিয়েছি, অসিদের চেপে ধরেও হারাতে পারিনি ২০০৫ এ আর কিউইদের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ২০০৭-০৮ এ। আমরা চাপ দিতে পারি, ধরে রাখতে পারিনা। টেস্ট পাঁচদিনের খেলা, এখানে সেশন বাই সেশন খেলতে হয়। পাঁচ দিনই ভালো না খেললে জয়ের আশা করাটা অস্বাভাবিক।

                        “আগে হারতাম তিন দিনে এখন হারি পাঁচ দিনে”

হ্যাঁ, আপনি যদি এটাকে উন্নতি ভাবেন তাহলে এটা উন্নতি। একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু এসব পাঁচ দিনে হারা টেস্ট ড্র করা যায়। দিন দিন শিশুসুলভ শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসা আর ফাঁদে পা দেওয়ার ঘটনা কমবে কি না, উলটো বাড়ছে। মাটি কামড়ে পড়ে থাকার চেষ্টা নেই। বোলিং যখন করবো, একটা রান ও সহজে দেব না, একটা ক্যাচ ও ফেলবো না- এমন প্রতিজ্ঞা কোথায়? উত্তর হল নেই!

এই যুগে আমাদের সাথে অন্যদের পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে পেশাদারিত্ব, এটা আমাদের নেই, অন্য সব দলের আছে! এই অবস্থার উন্নতি না হলে ২০০ তম টেস্টের সময় ও লিখতে হবে,
“ টেস্ট শেখবার কত দেরি, পাঞ্জেরি?
আর কত দিন উইকেট বিলিয়ে দেবে?
আর কত দিন ফেলবে সহজ ক্যাচ?
আর কত দিন, আশা জাগিয়েও হারবে সহজ ম্যাচ?

চাপ দিয়েও কেন রাখতে পারো না ধরে,
প্রতিটি রানকে করতে পারো না কঠিন?
শততম টেস্ট দুয়ারে দাড়িয়ে,
তাও করবে পাড়ার দলের মতো ফিল্ডিং??
তুমি কি দেখেছ, এবি সাহেবের ২২০ বলে ৩৩?
এই এবি কিন্তু সেঞ্চুরি করে, বল খেলে একত্রিশ!
বুঝেছ পাঞ্জেরি, টেস্ট হল ধৈর্যের খেলা,
এখানে প্রতি পদে, প্রতিপক্ষের ফাঁদ পাতা থাকে মেলা!
তুমি কি শুধু ফাঁদে পড়তেই থাকবে?
পাততে পারো না তার থেকে ভালো ফাঁদ?
আরও আক্রমণাত্মক নেতা হও,
শুনিয়ে দাও, বাঘের বজ্র নিনাদ!

ওহে পাঞ্জেরি, দায়িত্ব নিতে শেখ,
অকারণে উইকেট দিয়ে এসে, “ আমি তো এমনই”- একথা আর বল না কো!

কাল বাংলাদেশের শততম টেস্ট,
শতভাগ উজাড় করে দাও, বলে গেলাম অল দ্য বেস্ট!!”

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 3 =