প্রভাবটা সুদূরপ্রসারী

শেষ খেলা চারটে টি টোয়েন্টির কোনটাতেই ২০ এর বেশি রান দেন নি তাসকিন । এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৩ ওভারে ১৪ রান আর পাকিস্তানের সাথেও সমান ১৪ রান । দুটো ম্যাচেই একটি করে উইকেট । সর্বশেষ খেলা নেদারল্যান্ডসের সাথে ম্যাচে খুব দরকারি শেষ ওভারটা রাজার স্টাইলে করে তাসকিন দেখিয়ে দিলেন টিটোয়েন্টির বোলিংটা তিনি আসলেই উপভোগ করছেন। ভারতের সাথেও স্লগে দারুন একটা ওভার করেছিলেন মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ এটাকের মেইনম্যান তাসকিন আহমেদ । ঠিক এমন সময়েই এলো তার একশন নিয়ে ফিল্ড আম্পায়ারদের সন্দেহের কথা । সাথে আছে আরাফাত সানি ।

প্রথমত , মুস্তাফিজ বিশ্বকাপে অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে যাওয়াতে এখনোতক বাংলাদেশের সব প্ল্যান তাসকিনকে ঘিরেই বেড়ে উঠার কথা । সেদিক থেকে দলের মধ্যে এই ঘটনাটা একটা গুমোট ভাব নিয়ে আসতে বাধ্য । সুখী টিম বাংলাদেশ আসলেই কতোটা সুখী হয়ে পরের ম্যাচগুলোতে নামতে পারবে এটা অনেক বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসে যায় । তাল-লয়-রিদম যে শব্দটাই ব্যবহার করুন না কেনো , সেই জিনিসটা বাংলাদেশ দলের পরের ম্যাচগুলোর জন্যে খুঁজে পাওয়াটা ঠিক এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ । নতুন করে প্ল্যান করা , বাকিদেরকে নিজেদের ন্যাচারাল খেলাতে ফোকাসড থাকতে অনুপ্রাণিত করা কিংবা দলকে ম্যাচ বাই ম্যাচ ডেভলপ করতে শেইপে নিয়ে আসা এই মুহূর্তে ম্যানেজমেন্টের জন্যে সবচেয়ে কঠিন হোমওয়ার্ক ।

দলের কথা বলার পরে শুধুমাত্র তাসকিনের কথাটাই আপনি বিবেচনা করুন । ক্যারিয়ারের আপস এন্ড ডাউনস সবাইকেই একটা না একটা সময়েই দেখতে হয় । বেশিরভাগ এথলেটের জন্যে সেই সময়টা আসে বাজে ফর্মের হাত ধরে । যেখান থেকে মাঝে মাঝে কঠোর পরিশ্রম করে ফেরত আসতে হয় , কখনো ভাগ্যের সহায়তাটা লাগে । তবে তাসকিন যে গ্যাঁড়াকলে ফেঁসেছেন , সেখান থেকে ফিরতে চাই অনন্য অসাধারণ লেভেলের দুর্দান্ত মানসিক শক্তি ।

একশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানেই খেলোয়াড়কে মনস্তাত্বিকভাবে দুর্বল করে অস্ফূটে বলে দেওয়াঃ

– তুমি তোমার স্টক ডেলিভারিগুলো থেকে বিরত থাকবে
– তোমার ন্যাচারাল বোলিং থেকে তুমি দূরে থাকবে
– কোন একটা বল একটু গতি বাড়লে বা ভালো হলেই সেটা আমরা আবারও টেনে ম্যাগ্নিফাইং গ্লাসের নিচে রাখবো

ফিরে আসার পরেও বোলারের মাথায় এ জিনিসগুলো ঘুরঘুর করতে বাধ্য । সাঈদ আজমল কিংবা আমাদের নিজেদের আব্দুর রাজ্জাক রাজ একশন শুঁধরে ফেরার পরে কতোটা নির্বিষ হয়ে গেছেন সেটা দেখার বাকি নেই । সাঈদ আজমলের দুসরা বাদ দেই , একশন শুধরে ফিরে নরমাল অফস্পিনিং ডেলিভারিগুলোই আজমলের প্রতি বলে আসে না । আমাদের আব্দুর রাজ্জাক রাজকে পেয়ে বসলো লোপ্পা শটপিচ দেবার রোগে । প্রভাবটা শুধু একশন নিয়ে সন্দেহ করায় আটকে থাকছে না । দলের মূল স্ট্রাইক বোলারের ঘাটতিটা মানসিকভাবে কঠিন সময় দেবে বাংলাদেশ দলকে । বোলার তাসকিনের খেলা থেকে ফোকাস অনেক সরে যেয়ে অন্য কোথাও ঘুরতে থাকবে । বোলিং একশন নিয়ে সন্দেহ আছে কি নেই সেই বিতর্কে যাবো অনেক পরে । তবে যে সময়টায় সন্দেহের পাঞ্চটা এলো , এটা আর দশটা সিরিজের মত না। প্রভাবটা শুধু একজন বা দুইজন বোলারকে হারানোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × two =