ধর্মবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার তামিম ; এবার আমরাও ইংল্যান্ডে যেতে অস্বীকৃতি জানাই?

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্লাস্টে এসেক্স ঈগলসের হয়ে চুক্তিবদ্ধ বাংলাদেশী হার্ডহিটিং ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল গত ১০ জুলাই রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক ধাওয়ার শিকার হন। তামিমের সাথে তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ইকবাল ও পুত্র আরহাম ইকবাল খান ও ছিল। একটা রেস্টুরেন্টে নৈশভোজ করতে গিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে বাসায় যাবার পথে এই ঘটনার শিকার হন তিনি, বলে জানা যাচ্ছে। দুষ্কৃতিকারীদের হাতে অ্যাসিড ছিল এবং তারা তামিমের হিজাব পরিহিতা স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ইকবালকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছুঁড়তে চেয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছে। দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় তাদের কিছু হয়নি। এ ঘটনার পরই তামিম পরিবারসহ দেশে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন, কাল রাতেই লণ্ডন থেকে ধরেছেন বাংলাদেশের ফ্লাইট।

ফলে এসেক্স ঈগলসের হয়ে ৮-৯ ম্যাচের জন্য চুক্তিবদ্ধ তামিম মাত্র এক ম্যাচ খেলেই এসেক্সের সাথে তাঁর চুক্তি বাতিল করেছেন। গতকাল অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে কেন্টের বিপক্ষে একটি ছক্কাসহ সাত রান করেন তিনি, কিউই পেসার অ্যাডাম মিলনের বলে বোল্ড হবার আগে। সাত তারিখে সপরিবারে লণ্ডন যাওয়া তামিমের লণ্ডনে মাসখানেকের জন্য থাকার কথা ছিল। ৮-৯টা ম্যাচ খেললে দেশে ফিরতেন সামনের মাসের শুরুর দিকে সেক্ষেত্রে। কিন্তু এই ঘটনার পর আর নিজের কাউন্টি-অভিজ্ঞতা দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তিনি।

বেশ কিছুদিন ধরেই ইংল্যান্ডের রাস্তাঘাটে ভিন্ন মত ও বর্ণের মানুষের ওপর কে বা কারা অ্যাসিড ছুড়ে মারছে, মূলত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের ওপর। গত ২১ জুন ইস্ট লন্ডনের বেকটনে রেশম খান ও জামিল মুক্তার নামে দুজনের ওপর এরকম আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পথচলতি মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়াসহ অন্যান্য আক্রমণের ঘটনা তো ঘটছেই। ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে এসব নিয়ে তামিম নিজেও চিন্তিত ছিলেন। অবশেষে তাঁর আশঙ্কাই সত্যি হল।

এর আগে কাউন্টি ক্লাব এসেক্স তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্যক্তিগত’ কারণে তামিম ক্লাব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বিবৃতিতে ইংলিশ কাউন্টির ক্লাবটি আরও লিখেছে, ‘আমরা তার মঙ্গল কামনা করছি। এই সময়ে তামিমের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান জানালে আমরা খুশি হব।’
এতদিন আমাদের বাংলাদেশের পরিস্থিতি ‘অস্থিতিশীল’ বলে, বাংলাদেশে ‘জঙ্গীবাদ’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত দল আমাদের দেশে সফর করতে চায়নি, সিরিজ খেলতে চায়নি। আমাদের দেশের পরিস্থিতি অতটাও খারাপ ছিল না যতটা তারা অনুমান করে নিয়ে সিরিজ খেলতে আসতে চায়নি। আজ আমাদের দেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার সেই তথাকথিত ‘শান্তিপ্রিয়’ দেশে আরেকটু হলে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার হত। আজ তামিমের সাথে যে ঘটনা ঘটলো, তারপর তাদের দেশ যে কালিমামুক্ত, সে দাবি তারা করতে পারবে ত? এখন আমরা যদি তাঁদের দেশে সিরিজ না খেলতে যাই এই ঘটনার কারণে, আইসিসি কি ঘটনার গুরুত্ব বুঝবে নাকি যথারীতি তার তিন মোড়ল দেশের পক্ষপাতিত্ব করে তাদেরই সাফাই গাইবে?
ছবি – ক্রিকইনফো

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 12 =