উদ্ধত, বিধ্বংসী সুন্দর তামিম

আমি বেদুইন আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্নিশ।
২০০৭ বিশ্বকাপে ক্যারিবিয়ান সাগরপাড়ে তারুণ্যের ঝড় তুলে ভারতকে পাত্তাই না দিয়ে তার আবির্ভাব। তখনকার ভারতীয় সেরা বোলার জহির খানকে নাচতে নাচতে এসে ছক্কা হাঁকিয়ে বলকে তো পাঠিয়েছেনই, ভারতীয় দলকেও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সীমানার বাইরে। লর্ডসে ফিফটি করে অনার্স বোর্ডে নাম লেখাতে চেয়েছিলেন, সহকারীর বিদ্রুপের জবাব দিয়েছেন টানা দুটি সেঞ্চুরি করে, তাও আবার ইংলিশদের মাটিতে! অন্য দলের ওপেনারকে বিপক্ষ বোলিংকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে দেখা আর আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, এই আক্ষেপের জবাব হয়ে এসেছেন চট্টগ্রামের ছেলে তামিম। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিশতক হাঁকিয়েছেন টেস্টে, ইমরুলের সাথে তার বিশ্বরেকর্ড গড়া জুটির উপর ভর করে অবিশ্বাস্যভাবে খুলনা টেস্ট ড্র করেছে টাইগার বাহিনী।
১৭ বছরের ছেলেটাকে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে সুযোগ দেওয়া নিয়ে নির্বাচকদের সমালোচনা হয়েছে অনেক, কিন্তু নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তামিম সেসব ধূলায় লুটিয়েছেন। বিশ্বসেরা গতিতারকাদের চোখে চোখ রেখে ছক্কা মারতে পারা আমাদের প্রথম ওপেনার তিনি। ২০১০ সালটা ছিল তার ক্যারিয়ারের স্বর্ণ সময়, পরপর দুটি টেস্ট সেঞ্চুরি করা ইংল্যান্ডের মাটিতে, তাও আবার লর্ডস আর হেডিংলিতে, কম কথা নয়! চট্টগ্রামেও করেছিলেন শতক, তখন কেভিন পিটারসেন তাকে বিদ্রুপ করেছিলেন, “ পারলে এমন ইংল্যান্ডে করে দেখাও না!” বাঘের বাচ্চা তামিম ঠিকই করেছিলেন, ঐসব নিন্দুকের মুখে চুনকালি ছিটিয়ে।
২০১২ এশিয়া কাপের আগে তাকে বাদ দেওয়া নিয়ে কত গুঞ্জন! নীরবে একবার কেঁদেছিলেনও, কিন্তু ব্যাট হাতে সেই কান্নার শোধ তুলেছেন ভারত পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর, পরপর চারটি অর্ধ শতক হাঁকিয়ে চার আঙ্গুল তুলে একজনকে দেখানো তার সেই উদযাপন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অমর ছবিগুলোর একটি।
‘ মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি,
আর হাতে রণ তুর্য’
এখনকার তামিমের ব্যাটিং দেখলে এটাই মনে হয়। আগের মতো বলে বলে ছক্কা মারার ইচ্ছা নেই, বরং খারাপ বল পেলে সেটাকে সীমানার বাইরে পাঠানো আর ভালো বলকেও- একই ঔষধ দেওয়া! কিভাবে? শিল্পিত সব ফ্লিক, কভার ড্রাইভ আর লেট কাট খেলে! এসব কুমার সাঙ্গাকারাকে মনে করিয়ে দেয়।
পাকিস্তান সিরিজে তিনি সমালোচনার জবাব দিয়েছেন, বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২২ রান করে বাংলাদেশ জিতল, তার ভিত্তি ছিল তামিমের ৯৫, অথচ, তাকে বাদ দেওয়ার জন্য ফেসবুক বিশারদ দের সেই কি আকুতি! মনেহয় তামিম বাদ গেলেই সব শুদ্ধ হয়ে যাবে। তামিম উদ্ধত, তামিম বিধ্বংসী, তামিম ভয়ংকর সুন্দর। তামিম হচ্ছেন সেই জাতের ওপেনার, যাকে দেখে বাঘা বাঘা বোলারেরও হৃদকম্প শুরু হয়। পাকিস্তান সিরিজে টানা দুটি সেঞ্চুরি করে গুড়িয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানি বোলিং।
“ আমাদের দেশে হবে সেই ওপেনার কবে,
চার ছক্কা যে বলে কয়ে মারবে”
তামিম আমাদের সেই ওপেনার, এগিয়ে যান তামিম!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + 18 =