টাকার খনি ফিফা!

 

কদিন আগেই ফাঁস হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্তে কথিত মহা আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর। গ্রেপ্তার হয়েছেন ফিফার সাত শীর্ষ কর্মকর্তা। এফবিআইয়ের তদন্ত দেখা গেছে, গত ২৪ বছরে দুর্নীতি হয়েছে এক হাজার একশ কোটি টাকারও বেশি। টাকার অঙ্কটা শুনে যে কেউ চমকে উঠতে পারে। তবে ফিফার মোট আর্থিক লেনদের পরিমাণের কাছে এই অর্থ কিন্তু নস্যি!
টাকা আর টাকা! জুরিখে অবস্থিত বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা যেন টাকার খনি! নানাভাবে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করে থাকে ফিফা। ব্যয়ও আছে ঢের। তবে আয়ই বেশি। স্বাভাবিকভাবেই লাভজনক এ সংস্থার প্রধান পদটি বড় লোভনীয়!
রাজস্ব
প্রতি বছরই ফিফা আদায় করে থাকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। ২০১০ থেকে ২০১৪ অর্থাৎ ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগের চার বছরে ফিফার রাজস্ব আয় ৪৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। বছরে ফিফার রাজস্ব আয় ১১ হাজার কোটি টাকার মতো। এ ছাড়া ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফিফার তহবিলে যোগ করেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ মানেই অর্থের ছড়াছড়ি। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটির সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট নিয়ে কোটি কোটি মানুষের আগ্রহ। গত বিশ্বকাপ সরাসরি, টিভি, ইন্টারনেট নানা মাধ্যমে দেখেছে অন্তত ১০০ কোটি মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই এ টুর্নামেন্ট কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ আয়ের সুযোগ ফিফার। গত ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফিফার মুনাফা ২০ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা!
মিডিয়া স্বত্ব
এখন যেকোনো খেলায় আয়ের বড় উৎস টেলিভিশন স্বত্ব। ফিফার কাছে সেটি আরও বড় সুযোগ। ব্রাজিল বিশ্বকাপে টিভি সত্ত্ব বিক্রি করেই ফিফা আয় করেছে ১৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।
স্পনসর
খেলাধুলায় আয়ের আরেকটি বড় উৎস স্পনসর। চার বছরের চুক্তিতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ফিফার সঙ্গে যুক্ত ছিল বিশ্বের অন্যতম ছয় শীর্ষ কোম্পানি—অ্যাডিডাস, কোকো কোলা, হুন্দাই, এমিরেটস, সনি ও ভিসা। গত বছর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এমিরেটস ও সনি চুক্তি নবায়ন করেনি। বাকি চারটি এখনো রয়েছে। অফিশিয়াল পার্টনার হিসেবে নতুন যোগ হয়েছে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম। ২০১১ থেকে ২০১৪—চার বছরে স্পনসরদের কাছ থেকে ফিফার আয় ১২ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।
বেতন বাবদ ব্যয়
আয়ের কথা হলো। এবার ব্যয়ের হিসাব। গত বছর ফিফার কর্মীদের বেতন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১৩ কর্মকর্তার পেছনে ব্যয় ৩১১ কোটি টাকা ৭১ লাখ কোটি টাকা! তবে ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতনের অঙ্ক অজানাই। ফিফা বরাবরই গোপন রাখে এটি। তবে কথিত আছে ব্ল্যাটারের বার্ষিক বেতন ৪৬ কোটি টাকার মতো।
বিশ্ব ফুটবলে বিনিয়োগ
ফুটবল উন্নয়নে ফিফা বেশ গুরুত্বই দিয়ে থাকে। আয়ের একটা বড় অংশ ব্যয় করে থাকে বিশ্ব ফুটবল উন্নয়নে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্রীড়াবিষয়ক সুযোগসুবিধা, শিক্ষা ও উপকরণের পেছনে ২০১১ থেকে ২০১৪, চার বছরে মোট ব্যয় ৭ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা।

 

(সংগৃহীত)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one + 15 =