ট্যাকটিক্যাল প্রিভিউ: আর্সেনাল বনাম চেলসি

মূল লেখা – আহসানুল হক

আগামী রবিবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে লিগের ৩৩ তম ম্যাচে মুখোমুখি হবে লন্ডনের দুই দল আর্সেনাল এবং চেলসি। এই লন্ডন ডার্বিকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারেই দেখেন দুই দলের সমর্থকগোষ্ঠি। একটা জরিপ এ আর্সেনাল সমর্থকরা ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড এবং টটেনহ্যাম (নর্থ লন্ডন ডার্বি) ম্যাচ এর পর তৃতীয় গুরুত্বপুর্ন লড়াই হিসেবে আর্সেনাল-চেলসি কে রেখেছে।

Arsenal-Vs-Chelsea
আর্সেনাল লিগে টানা ৮ ম্যাচ জিতেছে। তার পরেও চেলসির সাথে ১০ পয়েন্ট এর ব্যাবধান এ পিছিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ২য় স্থানে আছে আর্সেনাল। তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড এর সাথে মাত্র ১ পয়েন্ট এর ব্যাবধান। কাজেই আর্সেনালের কাছে এই ম্যাচের ফলাফল খুবই গুরুত্বপুর্ন।

আর্সেন ওয়েঙ্গারকে তার প্রথাগত আক্রমনাত্বক দল সাজাবেন ধারনা করা যায়। আর্সেনালে আসার পর থেকেই আর্সেন তার ইতিবাচক ফুটবলিয় দর্শন মাঠে প্রয়োগ করতে চেয়েছেন।

কি হবে কাল ওয়েঙ্গারের ট্যাকটিক্স?
কি হবে কাল ওয়েঙ্গারের ট্যাকটিক্স?


একদম সহজ দর্শন… বল পায়ে রেখে দলবদ্ধভাবে আক্রমনে উঠো.. গোলের সুযোগ পেলে চেষ্টা করো আর না পেলে সুযোগের অপেক্ষা করো।
ক্লাসিক আর্সেনাল বলতে আমরা বুঝি ইপিএলের অন্যান্য দলের প্রথাগত লংবল নির্ভর ফুটবলের বাইরে অন্য কিছু। ফ্রি ফ্লোয়িং ওয়ান টাচ পাসিং ফুটবল যখন আর্সেনাল আর্সেনালের মত খেলে তখন পৃথিবীর সবচাইতে দৃষ্টিসুখকর ফুটবল দল আর্সেনালই।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছর গুলোতে আমরা বার বার বড় দলগুলোর সাথে আর্সেনালকে ধরা খেতে দেখেছি।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তার আত্মজীবনী তে আর্সেনাল এবং আর্সেনে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবেই তার মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন আর্সেনালের বিপক্ষে খেলার সময় তার পরিকল্পনা সাজাতেন আলাদা ভাবে.. তার মতে অফ দ্য বল রানার দেরকে কড়া মার্কিং এ রেখে বল ইন্টারসেপ্ট করা এবং দ্রুত গতিতে কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়াই ছিল শেষ ১৮ বার দেখায় আর্সেনালকে ১০ বার হারানোর চাবিকাঠি। আর অন্যদিকে ২০০৬ সালের পর থেকেই আর্সেনালের স্কোয়াড কখনোই সত্যিকার অর্থে বা কাগজে কলমেও বিশেষ করে ডিফেন্সিভলি কখনোই ভালো ছিল না। যার কারনে ফার্গুসন এর ম্যানইউ বা অন্যান্য বড় দলগুলোর দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকের কাছে হার মেনেছে।

এ মৌসুমের শুরু থেকেও আর্সেনাল ডিফেন্সিভলি খুব ভালো করবে তা মনে হয় নি। কিন্তু মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে এসে ডিফেন্সিভলি আর্সেনালকে আগের চেয়েও অনেক সংঘবদ্ধ মনে হচ্ছে। বেশ কয়েকটা বড় ম্যাচে জয়ের সময়েও স্পষ্টত বোঝা গিয়েছে.. বিশেষ করে ম্যানসিটির সাথে ম্যাচটাকে আলাদা করে বলতে হয় যেখানে আর্সেনাল সহজাতভাবে না খেলে বল পজেশন কম রেখেও জিতেছে। আর্সেনে স্পষ্টত ভাবেই স্ট্র্যাটেজি বদল করেছিলেন যাতে করে বল পজেশনে কম থেকেও খেলা নিয়ন্ত্রনে ছিল গানার রা। আবার এফএ কাপের ম্যাচে ম্যানইউ এবং লিগে লিভারপুলকে হারানোর সময় আর্সেনাল তার সহজাত ফুটবলই খেলেছে এবং বল দখলে রেখে খেলা নিয়ন্ত্রন করেছে। আবার বিপরীত উদাহরন ও দেওয়া যায় যেখানে মোনাকোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে বল পজেশনে অনেক এগিয়ে থেকেও হারতে হয়েছিল যার ফলশ্রুতিতে অ্যাওয়ে গোলের খাঁড়ায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। তাই আর্সেনে এ ম্যাচে কিভাবে দলকে সাজান সেটাই দেখার বিষয়।

আর্সেনালের স্কোয়াডে এ মুহুর্তে মার্টসেকার, অক্সলেড চেম্বারলিন এবং আরটেটা ছাড়া সবাই পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট অবস্থায় আছেন। আর্সেনে তার হাতে থাকা অপশন গুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যাবহার করতে পারেন।

আর্সেনালের ফর্মেশনকে কাগজে কলমে ৪-২-৩-১ বলা যেতে পারে যদিও ৪-১-৪-১ বলাই যুক্তিসঙ্গত।
গোলবারের নিচে ওসপিনাই থাকছেন। লেফটব্যাক এ অপশন অাছেন নাচো মনরেয়াল এবং কাইরান গিবস। মনরেয়াল এর তুলনায় গিবস অনেক বেশি আক্রমনাত্মক এবং গতিসম্পন্ন। প্রচুর ওভারল্যাপ করেন। অন্যদিকে মনরেয়াল দলের পাসিং বিল্ডআপ এ অনেক বেশি অংশগ্রহন করেন এবং লিংকআপ প্লে তেও বেটার।
রাইটব্যাক হিসেবে আছেন হেক্টর বেলেরিন এবং ম্যাথিউ ডেবুছি। দুইজনই আক্রমন এ চমৎকার। তবে দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরি থেকে ফেরা ডেবুছি ডিফেন্সিভলি একটু বেটার এবং অভিজ্ঞতায় অনেক খানি এগিয়ে থাকায় রবিবার ফুলব্যাক জুটিতে মনরেয়ালের সাথে ডেবুছির থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
সেন্টারব্যাক হিসেবে লরেন্ত কসিয়েনলি আর্সেনালের সেরা এবং দলে অপরিহার্য। তার সাথে সচরাচর দীর্ঘকায় জার্মান পার মার্টসেকার কে দেখা গেলেও তিনি খেলার মত ফিট না থাকায় চেলসির সাথে ম্যাচে দেখা যেতে পারে গ্যাব্রিয়েল পাউলিয়েস্তা কে। অপর ডিফেন্সিভ অপশন ক্যালাম চেম্বার্স রাইটব্যাক-সেন্টারব্যাক দুই পজিশনেই স্বচ্ছন্দ্য।

মার্টেস্যাকারের জায়গায় দেখা যেতে পারে গ্যাব্রিয়েল পলিস্তাকে
মার্টেস্যাকারের জায়গায় দেখা যেতে পারে গ্যাব্রিয়েল পলিস্তাকে


ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড এ থাকবেন ফ্রান্সিস কোকুলান। আর্সেনালের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন খেলোয়ারদের একজন। পারফেক্ট ডেস্ট্রায়ার। যুবদলে থাকতেই তাকে নতুন জিলবার্তো সিলভা বলা হত। তবে প্রত্যাশিত পার্ফমেন্স দেখাতে পারছিলেন না। একাধিক দলে ধারে খেলেছেন। সর্বশেষ চার্লটনে ধারে থাকার সময় ইনজুরি জর্জরিত আর্সেনাল থেকে জরুরি তলবে ফেরত আসেন। এর পরই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। একের পর এক দুর্দান্ত পার্ফমেন্স দিয়ে চলেছেন। তিনি দলে আসার পর থেকেই দলের ডিফেন্সকে অনেক মজবুত মনে হচ্ছে। তার আছে গতি এবং গেম রিডিং ক্ষমতা। যদিও পাসিং এর ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ আছে তবুও একজন আদর্শ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এর জন্য আর্সেনালের প্রায় এক দশকের হাহাকার পুরনে তাকেই যোগ্য ভাবা হচ্ছে।

কোকুইলান না মাটিচ - কে হবেন আসল ডেস্ট্রয়ার?
কোকুইলান না মাটিচ – কে হবেন আসল ডেস্ট্রয়ার?


ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ফ্লামিনিও আছেন। দলের প্রতি নিবেদন এবং পরিশ্রমের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ নাই, তবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে কখনো কখনো সময় বেশি নিয়ে ফেলেন যাতে করে ডিফেন্স উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। তাই তাকে প্রথম একদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সেন্ট্রাল মিডফিল্ড এ থাকবেন সান্টি কাজোরলা। চমৎকার ফুটওয়ার্ক, ছোট জায়গা থেকে বল বের করে নেবার সহজাত দক্ষতা আছে। তবে শারীরিক ভাবে শক্তিশালী দের বিপক্ষে ঝামেলায় পড়তে দেখা যায় কখনো কখনো। এ মৌসুমে যথেষ্ট পরিমান গোল+অ্যাসিস্ট ও করেছেন ছোট জাদুকর। তার সঙ্গে থাকবেন মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো ওযিলও।
মেসুত ওযিল শুধু আর্সেনালেরই না, বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেমেকার। তার সাবেক ম্যানেজার জোসে মরিনহো বলেছিলেন, “ওযিল একজনই। ওর কোন সংষ্করন নেই.. এমনকি বাজে সংষ্করন ও না”।

ওজিল কি পারবেন তাঁর সাবেক গুরুর দলকে হারাতে?
ওজিল কি পারবেন তাঁর সাবেক গুরুর দলকে হারাতে?


তার রয়েছে অসাধারন গেম রিডিং ক্ষমতা। দুরহ তম পাস গুলোও নিয়ন্ত্রনে নিতে পারেন সহজে। আরও রয়েছে তার ভিশন(Vision).. সতির্থদের দৌড় গুলোকে রসদ যোগাতে দিতে পারেন নিখুঁত পাস। তার অব দ্য বল মুভমেন্ট ও বিপক্ষের রক্ষনকে এলো মেলো করে দিতে পারে। ওযিল কাজোরলার তুলনায় একটু উপরে থেকে দলের আক্রমনভাগের পাসের যোগান দেন। মোটের ওপর আর্সেনালের মিডফিল্ড এর প্রাণভোমরা বলা যায় এই জার্মানকে। কিছুদিন আগে ওয়েস্টহ্যাম এর বিপক্ষে আর্সেনালের প্রথম গোলটা দেখলেই বোঝা যায় ওযিল কি, গোল অ্যাসিস্ট কোনটা না করেও গোলের জন্য কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন।
অ্যারন রামজে আর্সেনালের গত মৌসুমের সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। এ বছর চোট আঘাতে একটু বর্নহীন থাকলেও সব মিলিয়ে অতটা খারাপ ও কাটান নি। মুলত একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হলেও তাকে গত কয়েকটি ম্যাচ এ রাইট মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো হয়েছে। প্রথাগত উইঙ্গারদের মতন গতিময় ড্রিবলিং করেন না। তাকে মুলত একজন ওয়াইড পাসিং আউটলেট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মুভমেন্ট দিয়ে রাইটব্যাক এর জন্য স্পেস ক্রিয়েট করে দেওয়া আর আক্রমনের সময় বক্সে সময়োচিত অবস্থানও নেন তিনি।

চেলসির মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন র‍্যামসিও
চেলসির মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন র‍্যামসিও


অন্য অপশন হিসেবে আছেন জ্যাক উইলশেয়ার। বড় ম্যাচের খেলোয়ার হলেও দীর্ঘমেয়াদি ইনজুরি থেকে ফেরার কারনে চেলসির সাথে মাঠে নামানোর রিস্ক নাও নিতে পারেন আর্সেনে। চিরতরুন টমাস রসিিক্যও আছেন। বদলি হিসেবেই বেশি সম্ভাবনা তাকে দেখা যাওয়ার। আবু দিয়াবিও আছেন, চিরন্তন আক্ষেপের নাম। ইনজুরির কারনে কখনোই নিজের সেরা ফর্মকে দীর্ঘায়ত করতে পারেন নি। আজকেও ১৮ জনের দলে তাকে না দেখার সম্ভাবনা বেশি।

ইনজুরি-জর্জর উইলশেয়ার কি থাকবেন আজকে?
ইনজুরি-জর্জর উইলশেয়ার কি থাকবেন আজকে?

লেফট উইঙ এ থাকবেন অ্যালেক্সিস সানচেজ। এ মৌসুমের সেরা সাইনিং এবং বর্ষসেরা ফুটবলার দের ছোট্ট তালিকায় ও জায়গা করে নিয়েছেন এই “থ্রিলিং চিলিয়ান”। আর্সেনালের হয়ে প্রথম মৌসুম সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন ২য় স্থানে আছেন সব প্রতিযোগীতা মিলে ২২ গোল এবং ১১ অ্যাসিস্ট করা সানচেজ। শুধু গোল করা এবং করানোই নয়, তার ডিফেন্সিভ ওয়ার্করেটও চোখে পড়ার মত।

আছেন আর্সেনালের মেইন ম্যান, স্যানচেজও!
আছেন আর্সেনালের মেইন ম্যান, স্যানচেজও!


সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে থাকবেন অলিভিয়ের জিরু। সাড়ে তিন মাস ইনজুরিতে থাকার পরেও লিগে ১৪ টা গোল করে যৌথ ভাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনি। শারীরিক শক্তি এবং উচ্চতা ব্যাবহার করে সেন্টারব্যাকদের ব্যাতিব্যাস্ত রাখতে পারেন তিনি। পাশাপাশি বল হোল্ড করে মিডফিল্ডার দের উপরে ওঠার জন্য পকেট স্পেস করে দিতে পারেন তিনি। পাসিং অ্যাবিলিটিও ভালো। গত মৌসুমে আমরা অনেকবারই আর্সেনালকে এভাবে গোল করতে দেখেছি।

মৌসুমের এই পর্যায়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন জিরু
মৌসুমের এই পর্যায়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন জিরু


ফরোয়ার্ড পজিশনে অন্য অপশন হতে পারে ড্যানি ওয়েলব্যাক। অসম্ভব পরিশ্রমী এই তরুন আক্রমনভাগের তিন পজিশনেই খেলার সামর্থ্য রাখেন। তবে টার্গেটম্যান হিসেবে নির্ভরযোগ্য না হওয়ায় তাকে মাঠে দেখা গেলে উইঙ্গার হিসেবেই দেখা যেতে পারে।
থিও ওয়ালকট ও আছেন। দুর্দান্ত গতি সম্পন্ন এই উইঙ্গার চেলসির বিপক্ষে বরাবরই নিজের সেরাটা দেন। বল পায়ে ওয়ালকটের তুলনায় অব দ্য বল রানিং এ থাকা ওয়ালকট বেশি ভয়ঙ্কর। হাই ডিফেন্সিভ লাইন এ থাকা ডিফেন্ডার রা তার সাথে গতিতে কুলিয়ে উঠতে পারেন না।

পারবেন ওয়েলবেক?
পারবেন ওয়েলবেক?

আর্সেনে ওয়েঙ্গার তার হাতে থাকা গোলাবারুদ কিভাবে ব্যাবহার করেন এখন সেটাই দেখার বিষয়। জোসে মরিনহো এবং আর্সেনের দলের মধ্যকার ১২ বারের দেখায় আর্সেনের দল একবারও জিততে পারে নি। ড্র করেছে ৫ বার এবং হেরেছে ৭ বার। ওয়েঙ্গারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “পুর্বে কি হয়েছে তাকে আমি গুরুত্ব কম দেই। আমি বিশ্বাস করি ফুটবলে নির্দিষ্ট দিনে মাঠের পার্ফমেন্সই ফলাফল নির্ধারন করে দিবে।”

আমরা যদি দেখি আর্সেনালের চেলসির সাথে সাম্প্রতিক বাজে ফলাফলের মুল কারন দাড়াবে রক্ষনের ব্যর্থতা। আমরা বার বার দেখেছি ফাঁদে পা দিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ধরাশয়ী হতে। কখনো কখনো দুই ফুলব্যাককে একসাথে আউট অব পজিশনে দেখা গিয়েছে, যাতে করে পাল্টা আক্রমনে গোল খেয়েছে। আর গত চার দেখায় একটাও গোল করতে না পারার কারন ফরোয়ার্ড দের ব্যার্থতা, চেলসির বরাবরের মত সংগঠিত ডিফেন্স এর সামনে আর্সেনালের সৃষ্টিশীলতার অভাব ছিল নিঃসন্দেহে।

চেলসি এ মৌসুমের শুরু থেকে মাত্র কয়েকটি ম্যাচেই হেরেছে। ওই সব কয়টা ম্যাচেই চেলসি শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ছিল। আর্সেনালের থেকে দশ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে চেলসি কি আক্রমনাত্মক নীতি গ্রহন করবে?? খুব সম্ভবত না। তাই নিশ্চিত ভাবেই গানার্সদের মুখোমুখি হতে হতে পাকাপোক্ত রক্ষণ দেয়ালের সামনে। যারা ফার্গুসন এর উদ্ভাবন ব্যাবহার করে আর্সেনালের আক্রমনগুলোকে অর্থবহ হতে দিবে না।
আর্সেনাল যেটা করতে পারে তা হলো অনেক বেশি ডিরেক্ট অ্যাপ্রোচ নেওয়া এবং সেট পিসে একটু সৃষ্টিশীলতার চেষ্টা করা। চেলসিকে তাদের মাঠে ১০ জনের দল নিয়ে ২-২ গোলে রুখে দেওয়া পিএসজি অনেকটাই এই পদ্ধতি অনুসরন করেছে এবং তাদের উভয় গোলই কর্নার কিক থেকে আদায় করেছে। আর্সেনাল এখন পর্যন্ত লিগে ২০ টি গোল করেছে সেট পিসে, যেটা সর্বোচ্চ। তাই সেট পিস নিয়ে একটু যত্নশীল হলেই চেলসির শক্ত ডিফেন্স এর কঠিন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব।

#COYG #AFC_BD

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 + 18 =