ফুটবল জগৎ স্টেডিয়াম পরিচিতি : পর্ব ১ – সান সিরো

::::: সৌরভ জিতু :::::

ফুটবল – যা দ্য বিউটিফুল গেম নামে এই বিশ্বে পরিচিত! কারো কাছে ফুটবল জীবন! কেও কেও ফুটবল ছাড়া লাইফ কল্পনা করতে পারে না! ফুটবলকে আরো সুন্দরময় করে গড়ে তুলেছে সুন্দর সুন্দর স্টেডিয়াম! অনেকে স্টেডিয়াম দেখেই বলে দেয় হ্যাঁ এইটা অমুক শহর! স্টেডিয়াম পরিচিতি পর্বে আজ থাকছে ইতালির সান সিরো…

নাম- সান সিরো, যা জিসেপ্পি মিয়াজা নামেও পরিচিত।

সান সিরো ইতালির অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম, প্রথমেই জেনে নিবো সান সিরোর ইতিহাস!

– সান সিরো তৈরীর প্রজেক্ট ছিলো এসি মিলানের বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট পিয়েরো পিরেল্লির। এসি মিলান এই সময় বিভিন্ন স্টেডিয়াম এ খেলতে থাকে। ১৯২০ সালে তারা খেলে ভিয়ালে লম্বারদিয়ায়। যদিও এটা একটা ভালোমানের মাঠ, কিন্তু খুব দ্রুতই এটা ছোট গ্রাউন্ডে পরিণত হয়ে যাচ্ছিলো ক্লাবের দর্শক বেড়ে যেতে থাকার কারণে। আর সে জন্যই আর্কিটেক্ট স্টাচ্চিনি’কে (যিনি মিলানের সেন্ট্রাল স্টেশনেরও আর্কিটেক্ট ছিলেন) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো একটা নতুন স্টেডিয়াম ডিজাইন করার জন্য।
১৯২৫ সালে শুরু হয় এই স্টেডিয়ামের কাজ। ওপেনিং হয় ১৯২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। প্রথম ম্যাচ টা ছিলো দুই মিলানের ডার্বি। সেদিন দর্শকও ছিলো রেকর্ড ৩৫,০০০ হাজার। প্রথম দিকে এর মালিকানা ছিলো এসি মিলানের। এর পর ১৯৪৭ সালে যোগ হয় নগরের আরেক বিখ্যাত ক্লাব ইন্টার মিলান। যারা আগে খেলতো অ্যারেনা সিভিকায়। এবং এর পর থেকেই দুই ক্লাবের এক হোম গ্রাউন্ডে পরিণত হয় সান সিরো!

এর মাঝে ১৯৩৯ সালে এসি মিলান স্টেডিয়াম টি আরো বড় করে তাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য। স্টেডিয়ামের নতুন নামকরণ করা হয় ১৯৮০ সালের ২ রা মার্চ। নাম রাখা হয় ইতালির হয়ে দুই বারের বিশ্বকাপ জয়ী (১৯৩৪,১৯৩৮) কিংবদন্তী স্ট্রাইকার জিসেপ্পি মিয়াজার নামে।

নাম : সান সিরো
মালিক: মিউনিসিপালিটি অব মিলান
নির্মাণকাল : ১৯২৫
প্রথম ম্যাচ: ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৬
ধারণক্ষমতা: ৮০,০১৮
আর্কিটেক্ট : আলবের্তো চুগিনি স্টাচ্চিনি

সান সিরোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হয়েছে। ইউরোপিয়ান ফাইনাল হয়েছে দুইবার –
১) বেনফিকা – ইন্টারমিলান ১৯৬৫
২) ফেয়েনর্ড – সেল্টিক ১৯৭০

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল
১) ভ্যালেন্সিয়া – বার্য়ান মিউনিখ ২০০১
২) রিয়াল মাদ্রিদ – অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ২০১৬

স্টেডিয়ামটি ১৯৬৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এর জন্য রিজেক্ট হয় কিন্তু ইউরো ১৯৮০’র জন্য আবার সিলেক্ট হয়। ১৯৯০ সালে ইতালি বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেলে স্টেডিয়ামটিকে সংস্কার করা হয়। যেখানে অনেকগুলা ম্যাচ আয়োজন হয়। এবং এই মাঠেই আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পরাজিত হয় ক্যামেরুন এর কাছে।

স্টেডিয়াম এর অন্যান্য কিছু কথা

স্টেডিয়ামটি ১১টি কনক্রিটের টাওয়ারের ওপর নির্মিত। নতুন ছাদকে যুক্ত করার জন্য কনক্রিট এর চারটি টাওয়ার রয়েছে যেটি লাল বর্ণের। ১৯৯৬ সালে স্টেডিয়ামটিতে একটি মিউজিয়াম খোলা হয়। যেখানে দুই ক্লাবের প্লেয়ারদের শর্টস, জার্সি, ছবি সহ নানা ঐতিহাসিক জিনিস সংগ্রহ করা আছে।

স্টেডিয়াম টি শুধু ফুটবল খেলা হয় নি, অন্যান্য খেলাও হয়েছে।

→ ১৯৬০ সালে একবার বক্সিং হয়েছিলো
→ ২০০৯ সালে ইতালি- নিউজিলান্ড মধ্যকার একটা রাগবি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো

এছাড়া এই স্টেডিয়ামে অনেক কনসার্ট হয়েছে। প্রথম কনসার্ট করেন বব মার্লে ২৭ জুন ১৯৮০ সালে। এর পর কনসার্ট করেন বব ডিলান, মাইকেল জ্যাকসনের মত তারকারা। সর্বশেষ কনসার্ট করেন বেয়োন্সি নোলস, ২০১৫ সালে।

ফুটবলের জন্য অত্যন্ত ভালো পরিবেশসম্পন্ন স্টেডিয়াম এই সান সিরো। স্টেডিয়াম এর আশেপাশে অনেক রেস্তোরা, থাকার জায়গা রয়েছে। অতএব আপনি নিশ্চিন্তে ভ্রমন করতে করতে পারবেন।

তবে কালোবাজারে টিকিট পাবেন না!!
😜

ফুটবল জগৎ স্টেডিয়াম পরিচিতির ২য় পর্বে থাকবে কার্ডিফ স্টেডিয়াম…
(চলবে)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen − 6 =