মাহেলার ধ্রুপদী শতকে আফগানদের স্বপ্নের সমাধি

ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার জন্য সুখ্যাতি আছে আফগানদের।তারা আজকে বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলো লঙ্কানদের। ২০০৩ সালে কেনিয়ার শিকারে পরিণত হওয়া লঙ্কান দলটির মাত্র দুজন এখনও মাঠের ক্রিকেটে সক্রিয়, তাদের একজন দলকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে নিজে স্কোরারের কষ্ট না বাড়িয়ে সাজঘরে চলে গেছেন। মানে হামিদ হাসানের বলে স্ট্যাম্প উপড়েছে তাঁর, বেচারা বোলার উল্লাস করতে গিয়ে পড়েই গেছেন আনন্দের আতিশয্যে!

আর আরেকজন করেছেন ধ্রুপদী শতক। দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন বীরের মতো লড়ে। জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে না পারলেও জয়ের সুবাস দিয়ে গেছেন বহু দিনের পুরনো যোদ্ধা মাহেলা জয়াবরধনে।

CRICKET-WC-2015-SRI-AFG Sri Lanka v Afghanistan - 2015 ICC Cricket World Cup
২৩৩ রানের জবাব দিতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই খরচের খাতায় দুই ওপেনারের নাম তুলে দেন সাপুর জাদ্রান আর হামিদ হাসান। দুই দিক থেকে দুটি নতুন বলের নিয়মে পেসারদের লাভের মাঝে লাভ হয়েছে এটাই যে প্রথম দশ ওভারে বিশ্বকাপের ২২ গজকে ব্যাটসম্যানদের মৃত্যুকূপ বানিয়ে ফেলছেন গুণী গতিতারকারা। আমাদের মাশরাফি, কিউই পেস শিরোমণি টিম সাউদি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেরম টেলর যেমন পাকিস্তানের ৪ জনকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন মাঠের বাইরে, সেরকম অসাধারণ বোলিং করে লঙ্কানদের রানের চাকা আটকে রেখে ৫১ রানের মধ্যে সাঙ্গাকারা দিলসান থিরিমান্নেদের ফেরত পাঠিয়ে অঘটনের স্বপ্নই হয়তো দেখিয়েছিলেন দুই আফগান পেসার।
‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও,
যাও গো এবার যাবার আগে’
লঙ্কান দলের অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এবং রানাতুঙ্গা- ডি সিল্ভার মতো অন্যতম সেরা জুটি হচ্ছে মাহেলা-সাঙ্গা। ২০ ওভারের মহা উৎসবের শিরোপা লঙ্কানদের ঘরে গিয়েছিলো এই দুজনের জুটিতেই। এবার কিন্তু সাঙ্গা ব্যর্থ, কিন্তু তাতে কি? মাহেলা আছেন না! ৫১ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টেনে সঠিক রাস্তায় এনে দিলো মাহেলা আর সেনাপতি ম্যাথুসের ১২৬ রানের জুটি। তবে শঙ্কার মেঘ তখনও কাটেনি, বরঞ্চ ম্যাথুস আর মাহেলার দ্রুত বিদায়ে আফগানদের আশার পালে নতুন করে হাওয়া লাগে। কিন্তু থিসারা পেরেরা, যিনি ২০১৪ এর প্রারম্ভে বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙেছিলেন, তিনি আজ নিজ দেশের ত্রাণকর্তা হয়ে উঠলেন, তাঁর ঝড়েই শেষ হল আফগানদের সব আশা। ম্যাথুসের কথা না বললে অন্যায় হবে, তিনি এখন সব্যসাচী খেলোয়াড় হিসাবে বাংলার বাঘ সাকিবের প্রতিদ্বন্দ্বী, এক প্রান্ত ধরে তিনি যদি না রাখতেন, তবে মাহেলা মহাকাব্য না হয়ে হতে পারত বিষাদ সিন্ধু।
ভালো শুরু করেও টেনে নিতে না পারা আর অভিজ্ঞতার অভাবেই ম্যাচটা হারলো আফগানিস্তান। তবে হেরে গেলেও উড়ে যায়নি, চোখ রাঙিয়েছে অনেকখানি সময় জুড়ে। একটি বার্তা ছোট দলগুলো এবার বিশ্বকাপে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভালোই,
‘ছোট বলে অবহেলা করবেন না!’

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 − two =